অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম ,নদী ভাংগনে ছোট হয়ে আসছে বাউফলের মানচিত্র

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবিত হচ্ছে পটুয়াখালীর গোটা উপকূলীয় এলাকার জনপদ। দুই দিনের অস্বাভাবিক জোয়ারে অন্তত ২০টি গ্রাম এখন ভাসছে। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত এলাকার মানুষ প্রতিদিন অস্বাভাবিক জোয়ারের দুই দফা প্লাবনের শিকার হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে যাচ্ছে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । এছাড়াও বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত: পাঁচ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এদিকে তেতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে কালাইয়া ও নাজিরপুর ইউনিয়নের আংশিক এবং বগা ইউনিয়নের বামনীকাঠী গ্রাম।
জেলার কলাপাড়া উপজেলার লালুয়ার ভেঙ্গে যাওয়া বেরিবাঁধ দিয়ে দু’দফা পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে চারিপাড়া, পশুরবুনিয়া, নাওয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, মুন্সিপাড়া, বড় পাঁচ নং, ছোট পাঁচ নং, বানাতিপাড়া, ব্যুরোজালিয়া, নয়াকাটা গ্রাম। এসব এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, পুকুর পানিতে ডুবে যায়। বন্ধ রয়েছে মানুষের রান্না। অনেক এলাকার মানুষ জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি। একই দৃশ্য বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা জনপদ মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুরসহ পাঁচটি গ্রামের। সেখানকার স্কুল, মসজিদ, জনপদ, বাড়িঘর সব পানিতে ভাসছে। শিশু শিক্ষার্থীদের বুক সমান পানিতে ভিজে চলাচল করতে হচ্ছে। চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে এসব এলাকার মানুষেরও। নতুন করে চর ধুলাসার এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। লালুয়ার বাসিন্দা মজিবর প্যাদা জানান, জোয়ারের এমন চাপ তারা আগে কখনও দেখেননি।
এদিকে বিগত ৪০ বছর ধরে বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ১০ গ্রামের ১২শ বাড়িসহ এবং সাড়ে সাত হাজার একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ফলে আড়াই হাজার পরিবার হয়ে পড়েছে ভূমিহীন । ওই সব ভ’মিহীন পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছে চর কাশেম, ডিয়ারা, চরব্যারেট, চরশৌলা ও চর আমরখালী চরমিয়াজান। হানিফ শিকদার জানান, সাধারনত বৈশাখ মাস থেকে ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাদ্র -আশ্বিন মাসে নদীর ভাঙ্গন বেশি দেখা দেয়। কিন্তু এবছর বৈশাখ মাস আসার পূর্বেই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
ধান্দী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষকক এম এ বাশার জানান, তেতুলিয়া নদীর ভাঙ্গনে তাদের পরিবারের ৫০/৬০একর জমি বিলিন হয়ে গেছে। নাজিরপুর গ্রামের রহিম হাওলাদার জানান প্রতি বছরই নাজিরপুর ধান্দী গ্রামের তেতুলিয়া নদীর বেড়িবাধ রাস্তা ভেঙ্গে যায়। নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হলে ওই এলাকার ৭ গ্রামে পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাশ বন্ধ করে ছুটি দিতে বাধ্য হয়। সেলিম মোল্লা জানান, চর আমরখালী পূর্ব পাশে প্রায় ২ কিলোমিটার ভেঙ্গে গেছে। ২০ টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বামনিকাঠী লঞ্চঘাট থেকে ঠাকুর বাড়ি পর্যন্ত, আমরখালী সেলিম মোল্লা বাড়ি থেকে পাকডাল লঞ্চঘাট, চরওয়াডে দক্ষিণ মাথার ব্রীজ-ডিয়ারা, নিমদী থেকে ভরিপাশা পর্যন্ত নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এসব ভাঙ্গন এলাকায় ৪শ বাড়ি, নিমদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরওয়াডেল সরকারি বিদ্যালয়, বগা লঞ্চঘাট বগা মুন্সী ব্রিকস দক্ষিণ পূর্ব পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ৭ হাজার কৃষি জমি হুমকির মুখে। কালাইয়া বাজার থেকে ল্ঞ্চঘাট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা নদীর মধ্যে ভেঙ্গে গেছে। এখানে বসত-বাড়িসহ প্রায় ৫০টি দোকান ও মসজিদ হুমকীর মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবী, তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোন সরকারই উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। রাজনৈতিক সরকারগুলো ভাঙ্গন প্রতিরোধে ওয়াদা করলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিযুস চন্দ্র দে জানান, প্রকৃতি নিয়মে নদী ভাংছে। আবার পয়েস্তি জমি জেগে ওঠেছে। সরকার ৮ নং ভলিয়ামের ১ নং খতিয়ান ভুক্ত খাসজমি ভ’মিহীনদের বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে। ভ’মিহীন অগ্রাধিকার তালিকায় ২ নম্বরে নদী ভাঙ্গান পরিবারকে রাখা হয়েছে। ২০১১-১২ সালে উপজেলায় ৮’শ পরিবারকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তার বেশির ভাগ পরিবার হচ্ছে নদী ভাঙ্গা পরিবার। তা ছাড়া তেতুলিয়া নদীর পাশ বড় ডালিমা এবং চরওয়াডেল ডিয়ারা ও মিয়াজান এলাকায় বেড়িবাধে আওতায় আনা হয়েছে।
কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভীর রহমান জানান, লালুয়া ও নিজামপুরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, রাবনাবাদ পারের লালুয়ার এবং আন্ধারমানিক নদীপাড়ের নিজামপুর গ্রামের মানুষের দুরবস্থার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ৩রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …