আনোয়ারায় চেয়ারম্যানের অডিও ফাঁস

আনোয়ার প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে মারামারিতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে ৫নং বরুমচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন চৌধুরী ও মো. শওকত আলী প্রকাশ বালু শওকত এর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কে বা কারা এ অডিও রেকর্ড করেছেন বা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তথ্য সূত্র জানা যায়নি। এধরণের অডিওর ক্ষেত্রে তা সাধারণত জানা যায়ও না। কিন্তু থেমে নেই আনোয়ারায় আলোচনা-সমালোচনা। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত সময়ে চেয়ারম্যান ও বালু শওকতকে গ্রেপ্তারপুর্বক কথোপকথনে বলা অবৈধ অস্ত্র দুটি উদ্ধার করার। এ নিয়ে বরুমচড়াবাসী খুব আতঙ্কে রয়েছেন। যেকোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

ভাইরাল হওয়া অডিওর কথোপকথন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় হয়েছে। তারপরেও দুজনের প্রকাশরীতি অক্ষুন্ন রেখে নিচে দেয়া হলো:
“প্রথম ব্যক্তি: হ্যালো? অপরপ্রান্তে দ্বিতীয় ব্যক্তি: সালামু আলাইকুম, জী।
১ম ব্যক্তি: কি সমস্যা-সমস্যা অইয়ি নে?
দ্বিতীয় ব্যক্তি: অয়..জী এডে আরা আস্সি, অহ..আস্সিলাম ৫০/৬০ জন। বুইজ্জেন নে। তই এডে আরা কিছু ন আনি। কিছু ন আনি বলতে এডে একজনে হইয়ে দে কিছু ন নিছ। এনে আগে বই কথা হ। এফাজ-জে-য়েরি। এফাজ জে ও আরও কয়েকজন আছিল এডে। ইতারা আরে হদ্দে আগে এনে যা। কিছু ন গরিছ মারপিট ন গরিছ। এহন ইতারা আইয়েরে আরারে  মারি তারি গেইয়ে গই।
১ম ব্যক্তি: পঁচাইলিনি ইজ্জত শরম, দিই ফেলাইলিনি, খাইলিনি নি।
দ্বিতীয় ব্যক্তি: এহন আই ইতের কথা ধরি। আরা তো নইলে রাতিয়ে গিয়ালত ঠিক গরিলাম। দুয়া অস্ত্র লত ঠিক গরিলাম।
১ম ব্যক্তি: এগিন ন হইছ। ঠিক আছে। কেন গরিবি গরগই।
দ্বিতীয় ব্যক্তি: আচ্ছা।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ভরাচরে বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে রবিবার সকাল ১১টায় এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া-সহ মারামারির ঘটনা ঘটে। অবৈধ বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে বরুমচড়ার চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরী মরিয়া হয়ে উঠে। এমনকি তার অনুসারি হিসেবে পরিচিত কিছু চিহ্নিত ডাকাত ও কথিত যুবলীগ নামধারী মো. শওকত আলীর নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি গুন্ডাবাহিনী পাঠায় ভরাচর এলাকায়। পরে শত শত নারী পুরুষ ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা পালিয়ে যায়।

চেয়ারম্যান ও শওকতের এই ফাঁস হওয়া মোবাইল কথোপকথনের অডিওটি যদি সত্য হয়, দ্রুত সময়ে তাদের গ্রেপ্তার পুর্বক মারামারিতে ব্যবহার করার জন্য মজুদ রাখা দুটি অবৈধ অস্ত্র দ্রুত সময়ে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী। এনিয়ে বেশ আতঙ্কে রয়েছে বরুমচড়াবাসী।

অডিও রের্কড এর বর্ণনা বিষয়ে জানতে চাইলে ৫নং বরুমচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি এতদিন চেয়ার‌ম্যান নির্বাচন করেছি কোন দিন অস্ত্র চোখে দেখিনি। ও আমাকে মোবাইলে এসব কথা বলার সাথে সাথেই আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে ফোন কেটে দিছি। এটা কি বলছে, না বলছে ওর বিষয় আমার না। শওকতের সাথে যাদের মারামারি হলো তাদের সাথে ওর প্রেম পিরিতি কিছুদিন আগেও বেশি ছিলো। মোবাইলে বিচার দিলে সে আমি এসব বিচার পরিষদে করতে পারব না।

এ বিষয়ে জানতে আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদকে ফোন করলে ওসি তদন্ত মো. দিদার আলম ফোন রিসিভ করে জানান, ওসি ছুটিতে রয়েছে। অডিও রের্কড এর বর্ণনা বিষয়ে অবগত করলে তিনি জানান, এ ধরনের কোন অডিও রের্কড আমাদের হাতে আসেনি। পেলে তদন্ত পুর্বক আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Check Also

পদ্মা সেতু উদ্বোধন ২৫ জুন

জার্নাল ডেস্ক : পদ্মা নদীর ওপর উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুর নাম নদীর নামেই থাকছে। আগামী …

হজ ফ্লাইট শুরুর নতুন তারিখ ৫ জুন

জার্নাল ডেস্ক : সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে হজের ফ্লাইট ৩১মে থেকে পিছিয়ে ৫জুন থেকে …