ছবি - ভিডিজার্নাল৩৬৫প্রতিবেদক

আহতদের এম্বুলেন্স সহযোগীতা করেনি ইনকন্ট্রেড ডিপো

নাজমুল রাতুল

ইনকন্ট্রেড কনটেইনার ডিপোতে গাড়ির তেলের ট্যাংক ওয়েল্ডিং করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে চার শ্রমিকের মৃত্যু ঘটনায় এবার অভিযোগ উঠেছে দুর্ঘটনার পর মালিক পক্ষের অসযোগীতা ও ডিপোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ।

জানাযায় বিস্ফোরণের পর ইনকন্ট্রেড কনটেইনার ডিপোর পক্ষ থেকে কোন ধরণের এম্বুলেন্স সহযোগীতা না করে বরং টমটম দিয়ে ঘটনার দিন আহত দের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিপো শ্রমিকদের অভিযোগ,বিষ্ফোরণে আগুন নেভানোর কাজে ডিপোর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো ঠিক মতো কাজ করেনি। দ্রুতগতির এই আগুন নেভাতে মজুদ থাকা অগ্নিনির্বাপক ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তার বেশিরভাগই ছিল অকেজো। তাৎক্ষণিক কাজ করেনি ঘটনাস্থলেই থাকা অগ্নিনির্বাপক পানির কলটি। তাছাড়া একে একে ১১টির বেশি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও সেগুলো ছিল মূলত খালি। ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়ে ৩ জনের বীভৎস মৃত্যুর পর অগ্নিদগ্ধ বাকি ৩ জনকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন সহকর্মীরা। ডিপো থেকে একটি গাড়ি (কার/মাইক্রো) চাইলেও তাদের দেয়া হয়েছিল ৩ চাকার একটি টমটম।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, চোখের সামনে মুহূর্তেই পুড়ে অঙ্গার হয় মুক্তার, আরমান ও নেওয়াজ। পাশাপাশি আগুনে পোড়া যন্ত্রণা নিয়ে ছটফট করছিলেন-রবিউল, আমির ও আরও একজন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে একটি গাড়ি চাইলে তাও দেয়া হয়নি। অন্যদিকে ডিপোতে নেই একটিও অ্যাম্বুলেন্স।আগুন নেভাতে পানি আনা হয়েছিল মেইন গেটের ওদিক থেকে। যা ছিল ঘটনাস্থল থেকে বেশ দূরে। অথচ কাজ করেনি ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা অগ্নিনির্বাপক কলটি। এতে করে আগুন নেভানোর পানি টানতেই লেগে যায় ১৫/২০ মিনিট। অথচ তাৎক্ষণিক পানি কিংবা অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার পেলে বাঁচানো যেত অন্তত আরও তাজা ১টি প্রাণ। তাছাড়া ডিপোটির ভেতরে থাকা সব মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপোতে কর্মরত একজন বলেন, এত বড় ডিপোতে সব পানির কল নষ্ট। ১৪টি অগ্নিনির্বাপন সিলিন্ডার আনা হলেও কাজ করেছে মাত্র দু’টি। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িও দেওয়া হয়নি।মালিক পক্ষ ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তাবায়নের কোণ সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি সূত্র বলছে, ওই ডিজেলে ট্যাংকটির মুখ বন্ধ রেখেই ঝালাই কাজ করা হচ্ছিল। ফলে ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। পুলিশের বক্তব্যও একই। তবে ফায়ার সার্ভিসের ওই সূত্রটি বলছে, শুধুমাত্র ট্যাংকের গ্যাসে এতো ভয়াবহ বিস্ফোরণের সম্ভবনা কম। পাশাপাশি দুর্ঘটনার স্থানেই নিচে পড়ন্ত তেল, ডিজেল, আবদ্ধ ডিজেল ট্যাংক এবং ওয়েল্ডিংয়ের আগুনে শিখা একযোগে এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।সংস্থাটির প্রাথমিক বিবরণীতে বলা হয়েছে- বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বুধবার সাড়ে ১১টায়। তারা এই খবর পায় ১১টা ৩৫ মিনিটে। ঠিক ১৩ মিনিট পর অর্থাৎ ১১টা ৪৮ মিনিটে পৌঁছায় সংস্থাটির ১টি অ্যাম্বুলেন্সসহ দুইটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি। এদিকে ডিপোটির এতো সব স্পর্শকাতর অভিযোগের পরেও নিহত হওয়া শ্রমিকদের উপরই সব দায় ঠেলে দেয় কর্তৃপক্ষ।

ডিপোর অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা অগ্নিনির্বাপক গুলো অকেজো থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে ইনকন্ট্রেড কনটেইনার ডিপোর ব্যবস্থাপক (ওয়ার্কশপ) মো. ইয়াসিন বলেন, আমাদের ১১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মধ্যে ৩টা ছাড়া সব গুলো সচল ছিল। ওইখানে (দুর্ঘটনাস্থানেই) যে ফায়ার সেইফটি কলটা ছিল ওইটা স্টার্ট (চালু) হয়তে একটু সময় লাগছে। অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের গাড়ি (কার/মাইক্রো) না দিয়ে তিন চাকার টমটম দেয়ার ব্যাপারটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়ি ম তাৎক্ষণিক যেটা ছিল ওইটা দিয়েছি আরকি। ওই টমটমটিও আমাদের নিজস্ব গাড়ি।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ৩ শ্রমিকের দাফন-কাফনসহ আনুষাঙ্গিক দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে অফিসিয়ালভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …