ইউরোপে লকডাউন শিথিল, স্বাভাবিক হচ্ছে জীবনযাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। করোনা তালিকায় ওপরের দিকে অবস্থান করছে ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়া। এসব দেশে করোনায় বহু লোকের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত কিছুদিন ধরে ইউরোপের করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসছে। ফলে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আরোপিত কঠোর লকডাউন শিথিল করতে শুরু করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঘোষণা দিয়েছেন, সে দেশে ছোট ছোট পরিসরে খুলে দেয়া হবে সবকিছু। সবাইকে যত ইচ্ছা পার্কে এক্সারসাইজ, পায়েচারি, রোদ পোহাতে দেয়া হবে বুধবার থেকে। দুটি আলাদা বাড়ির লোক দুই মিটার দূরত্বে থেকে দেখা করতে পারবেন। যারা বাড়িতে কাজ করতে পারছেন না, তারা কোনো গণপরিবহন ব্যবহার না করে বাড়ি ও অফিসে যাতায়াত করবেন। তবে সে দেশের জনগণকে যতটা সম্ভব বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো গণপরিবহন এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

এছাড়া যুক্তরাজ্য শর্তসাপেক্ষে অন্য দেশের নাগরিকদের ঢুকতে দিবে বলে ঘোষনা দিয়েছে। শর্তটি হচ্ছে- বিদেশিদের সে দেশে প্রবেমের পর ১৪দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তবে এই নিয়ম সব দেশের জন্য নয়। আয়ারল্যান্ড ও ফ্রান্সের নাগরিকদের এই ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে। আর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিশ্চিতভাবে বলেননি ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে এটা।

ফ্রান্সেও লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। দেশের লোকজনকে এখন বাইরে যেতে ভ্রমণের অনুমতিপত্র লাগবে না। তারা বাড়ি থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। সোমবার থেকে খুলছে প্রাথমিক ও নার্সারি স্কুল। বার ও রেস্তোরাঁ ছাড়া সব দোকানপাট-ও খোলা যাবে। জামাকাপড়, বইয়ের দোকান, সেলুনও খুলছে। তবে রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল ও বার বন্ধ।

জার্মানিতে লকডাউন তুলে নেওয়ার নিয়ন্ত্রণ এখন থাকবে ১৬টি ফেডারেল রাজ্যের। তবে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, নতুন সংক্রমণ দেখা দেওয়া মাত্র জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জার্মানিতে সব দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে, তাদের জন্য স্কুল আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। ক্লোজড ডোরে আগামী ১৬ মে অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপীয় লিগের বড় আসর বুন্দেসলিগা ফুটবল ম্যাচ। তবে আগস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকছে বড় ধরনের উৎসব, সমাবেশ।

আয়ারল্যান্ডের কঠোরভাবে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। সেখানকার লোকজন এখন বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারবে। তবে ১৮ মে থেকে সব কিছু খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ ধাপের রোডম্যাপ নেওয়া হয়েছে। প্রতি তিন সপ্তাহে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।

বেলজিয়ামে ৪ মে থেকে কাপড়ের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। গণপরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে ১২ বছর বা এর বেশি বয়সী মানুষকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সোমবার থেকে অন্যান্য দোকানপাটও খুলে দেওয়া হচেছ। স্কুল খুলছে ১৮ মে থেকে। তবে একেকটি ক্লাসে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বসতে পারবে না। ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ খুলে দেওয়া হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে।স্পেনে একসাথে ১০জনের বেশি জমায়েতের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।

নেদারল্যান্ডসে লকডাউন শুরু থেকেই ঢিলাঢালা। সোমবার থেকে দেশটিতে লকডাউন শিথিলের পাঁচ ধাপের পরিকল্পনা কার্যকর হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসে প্রাইমারি স্কুল খুলছে সোমবার থেকে। তাছাড়া পাঠাগার, ড্রাইভিং স্কুল এবং চুল কাটার দোকানও খুলছে। বার ও রেস্তোরাঁগুলো ১ জুন থেকে তাদের খোলা জায়গায় ক্রেতাদের বসতে দিতে পারবে।

অস্ট্রিয়ায় এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে ছোট ছোট দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। দোকান খুলে দেওয়ার পর সংক্রমণের হার সেভাবে বাড়েনি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

লকডাউন কার্যকর করা ইউরোপের প্রথম দেশ হচ্ছে ডেনমার্ক। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশটিতে লকডাউন শিথিল করা শুরু হয় এবং দেশটি লকডাউন রোডম্যাপের দ্বিতীয় ধাপের দিকে যায়। ১৪ এপ্রিল থেকে দিবাযত্নকেন্দ্র ও প্রাথমিক স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী পরীক্ষার্থীরা ১৮ মে থেকে স্কুলে যেতে পারবে। নির্দেশনা মেনে শপিং সেন্টার, ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট খুলছে সোমবার থেকে।

পোল্যান্ডে হোটেল খুলে দেয়া হচ্ছে, যদিও বিদেশ থেকে কেউ এলে ২ সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

লকডাউন শিথিলের জন্য স্পেন চার ধাপের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে গত ৪ মে। ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ছয় সপ্তাহের জন্য বাড়িতেই থাকতে হবে।দুই সপ্তাহ পর বিধিনিষেধ শিথিল হবে ১০ জুন পর্যন্ত। ২৬ মে থেকে স্কুলগুলো আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। ১০ জুন পর্যন্ত রেস্তোরাঁ ও বার পুরোপুরি খুলবে না। ২৬ মে থেকে সিনেমা, থিয়েটার, প্রদর্শনী খুলে দেওয়া্ হবে। তবে তারা ধারণক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ পরিচালনা করার সুযোগ পাবে।

ইতালিতে কঠোর ও দীর্ঘ লকডাউন চলেছে। তবে এখন সৎকারের জন্য সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সবোর্চ্চ ১৫ জন অংশ নিতে পারবেন। বাড়ি থেকে ২০০ মাইলের মধ্যে লোকজনের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মে মাসের শুরুতে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। লোকজন এখন কিছুটা দূরে যেতে পারছে এবং অল্প সংখ্যক স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারছে। তবে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ভ্রমণের ওপর এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ১ জুন থেকে রেস্টুরেন্ট ও বার খুলে দেওয়া হচ্ছে। ১৮ মে থেকে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সুইজারল্যান্ডে প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুল খুলছে। তবে ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, বইয়ের দোকান ও জাদুঘরে প্রবেশ সংরক্ষিত করা হয়েছে।

Check Also

বাতিল হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা

জার্নাল ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা চলতি বছর …

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৩, শনাক্ত ২৯৯৬

জার্নাল ডেস্ক : করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে …