ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা মানছে না ফরিদপুরের জেলেরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনে ও রাতের আঁধারে ফরিদপুরে ইলিশ ধরছে জেলেরা। তাদের প্রতিরোধ করতে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অভিযান চালালেও থেমে নেই মাছ ধরা। এক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকে ফরিদপুর জেলায় ৪৮ জেলেকে কারাদণ্ড, ১ লাখ ৫১ হাজার মিটার জাল ও ২৩৮ কেজি কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা, মাদরাসা, সেফ হোম, শান্তি নিবাস, পুনর্বাসন কেন্দ্র, সরকারি শিশু পরিবারের মধ্যে বিতরণ এবং আটক করা জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০১৮’ চলাকালিন সময়ে ৭ দিনে এখন পর্যন্ত মোট ১২৭টি অভিযান থেকে ২৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদী, সদরপুর, চরভদ্রাসনে আড়িয়াল খা ও পদ্মা নদী এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের পদ্মা নদী এলাকায় ইলিশ ধরতে একাধিক জাল ফেলে রেখেছেন জেলেরা। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে নৌকা, জাল ও মাছ রেখে পালিয়ে যান তারা।

মৎস্যজীবী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু জেলে প্রতিবছরই এভাবে প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরে থাকেন।

স্থাসীয় বাসিন্দা রাজু ব্যাপারী, হাফিজ শেখ, করিম মাতুব্বর, সেলিম মুন্সিসহ একাধিক জেলে বলেন, সরকারের ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা মেনে আমরা মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও কিছু জেলে প্রতিবছরই প্রজনন মৌসুমে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ শিকার করে থাকে। তাই তাদের প্রতিরোধ করতে মৎস্য বিভাগসহ প্রশাসনের আরও নজরদারি বাঁড়ানো প্রয়োজন।

তবে তারা বলেন, সরকার এ সময়ে জেলেদের সরকারি সহায়তা করলে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের সংখ্যা কমে যাবে। কারণ যারা এই সময়ও মাছ ধরতে যাচ্ছে তারা কিন্তু পেটের তাগিদে যাচ্ছে। তারা জানেন যে, ধরা পড়লে জেল হবে; তারপর পরিবার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন জেলেরা।

ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে মৎস্য বিভাগ প্রতিনিয়িত অভিযান চালাচ্ছে। তারপরও কিছু অসাধু জেলে রাতের আঁধারে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, এ সময় ফরিদপুর অঞ্চলের নদীতে ইলিশ পাওয়া যায় ভাল, আর অন্য সময় পাওয়া যায় না। এই কারণে নদীপাড়ের মানুষের কাছে এই সময়টা একটা উৎসবের মতো। যে কারণে আমাদের সর্তকতার পরেও ইলিশ ধরতে নদীতে নামছে তারা।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, সরকারি নিদের্শ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগ যৌথ ভাবে প্রতিদিন জেলার সর্বত্র অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা চলছে এই অল্প সময়টায় জেলেরা যাতে নদীতে জাল না ফেলে।

তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলায় ২২৩৭ জন তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। তাদের নিষেধাজ্ঞাল সময়ে সরকারি সহায়তার বরাদ্দ আমরা পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের মাঝে সেটি দেয়া হবে।

সরকারি এই কর্মকর্তার আশাবাদ, জেলেদের প্রনোদনা দিতে পারলে হয়তো তারা নদীতে এই সময়ে নামবে না।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …