এই ঈদে তরুণদের পোশাক (ছবিসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রমজান আসছে। তরুনদের মাঝে ঈদের হাওয়াও লেগেছে। চলছে নানা পরিকল্পনা। ঈদের পোশাক যেন মানানসই ও সবার চেয়ে আলাদা হয় এ জন্য তরুণরা ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশনে ব্যাপক সচেতন। ফ্যাশন সব সময়ই ঋতু-দেশ-কাল ভেদে পরিবর্তিত হয়। এই মেঘ, এই রোদ, বৃষ্টি ছায়ায় পোশাকও হওয়া চাই ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে। তাই তো এবারের ঈদ ফ্যাশনে থাকছে বর্ষার পরশ।


ঈদ নিয়ে তরুণ-তরুণীদের মনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তারা এখন নগরের ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে পছন্দসই পোশাক কেনার জন্য। এসব জানা গেল নগরের ফ্যাশন হাউস ও ফ্যাশনসচেতন তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলে। তরুণীদের এবারের ঈদে পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং কামিজ। জর্জেট কিংবা চিকেনের ওপর বাহারি নকশা। কিংবা কামিজের নিচের দিকটায় বাড়তি নকশাদার লেস। সঙ্গে থাকতে পারে অ্যামব্রয়ডারির কাজ। শর্ট কিংবা লং কামিজ দুটোরই চাহিদা রয়েছে এবারের ঈদে। সঙ্গে বাহারি কারুকাজ। সেই কাজটা হতে পারে পুঁতি-চুমকি কিংবা লেসেরও। থাকবে অ্যামব্রয়ডারির, বস্নক-বাটিকের নকশাও।


এ তো গেল তরুণীদের সাজসজ্জার কথা। এবার শহুরে তরুণদের কথা বলা যাক। সময়টা বর্ষাকাল হওয়ায় তরুণদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শর্ট পাঞ্জাবি, ফতুয়া, হাফ হাতা শার্ট কিংবা টি-শার্ট। সঙ্গে জিন্স-গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট। পায়ে চটি জুতা। ব্যস, মানিয়ে গেল।
এবারের ঈদে ছেলেদের চাপা প্যান্টের রেওয়াজ তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে আছে বাহারি নামখচিত টি-শার্ট। থাকছে ক্যাজুয়াল শার্টে চেকের ব্যবহার।


তরুণদের কেনাকাটায় থাকে অনেক বেশি সচেতনতা। তারা উৎসব আর ঋতুর সমন্বয়ে বেছে নেন পছন্দের পোশাকটি। গুমোট এ আবহাওয়ায় কখনো তীব্র গরম আবার কখনো বৃষ্টির অনাকাঙ্ক্ষিত ?ছুঁয়ে যাওয়া। তাই সব কিছু মাথায় রেখে ঋতু উপযোগী পোশাক নির্মাণে ফ্যাশন হাউসগুলো ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বরাবরের মতো এবারো ফ্যাশন হাউসগুলো তারুণ্যের জয়যাত্রাকে এগিয়ে নিতে তারুণ্যের জয়গান গেয়েছে। কারণ ফ্যাশন হাউসগুলো জানে তাদের ক্রেতার তালিকার বৃহত্তম অংশই তরুণ। এই তরুণদের রাঙাতে ফ্যাশন হাউসগুলো এখন পুরোদস্তুর ব্যস্ত। ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে দেখা গেল, ঈদ উপলক্ষে কিশোর-কিশোরীদের জন্য রয়েছে আলাদা আয়োজন। বড়দের পোশাকে ততটা ভিন্নতা চোখে না পড়লেও বৈচিত্র্যময় নকশা আর কাটছাঁটের ভিন্নতা দেখা গেল তাদের পোশাকে। কথা হলো লা রিভের হেড অব ডিজাইন মন্নুজান নার্গিসের সঙ্গে। তিনি জানান, এই বয়সীদের (১২ থেকে ১৯) পোশাক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগটাও থাকে বেশি।


এবারের ঈদে লা রিভে টিনএজদের পোশাকে থাকছে প্রাচীন ভারতীয় ও মরোক্কান ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ব্রাশ পেইন্টের মাধ্যমে করা হয়েছে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার। কিশোরীদের পছন্দের পোশাক হিসেবে ‘তাগা’ বরাবরই জনপ্রিয়_ বললেন আড়ংয়ের মগবাজার বিক্রয় কেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম। এখানে দেখা গেল, সুতি, মসলিন, জয়শ্রী সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্কের কাপড়ে তৈরি পোশাকে থাকছে নকশিকাঁথা, লোকজ মোটিফে বস্নকপ্রিন্টের কাজ। দুই পাশে পকেটসহ শার্ট নকশার কিছু পোশাকের আয়োজনও থাকছে। কিশোরীদের জন্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অন্যান্য অনুষঙ্গ যেমন ব্যাগ, জুতা তো আছেই।


বাজার ঘুরে দেখা গেল, এবার শুধু নকশাই নয়, পোশাকের কাটছাঁটেও থাকছে ভিন্নতা। প্রজাপতি নকশার প্যাটার্নে তৈরি হয়েছে টিউনিক। কামিজের ঘেরেও থাকছে বৈচিত্র্য। বেশি ঘের দেয়া কামিজ তো আছেই। পাশাপাশি চলছে লম্বা টপ বা কামিজে অসমান দৈর্ঘ্য অর্থাৎ সামনে বেশি ঘের, পেছনে কম, আবার পেছনে বেশি, সামনে কম ঘেরের নকশার পোশাক। ফতুয়া বা কুর্তায় থাকছে জ্যামিতিক কাট। কিশোর-কিশোরীদের ঈদ ফ্যাশনে আরো থাকছে আনারকলি ঘরানার এক ধরনের লম্বা পোশাকের আয়োজন। এখন সস্নিভলেস পোশাক বেশ চলছে, তাই কিছু পোশাকের হাতায় নতুনত্ব আনতে করা হয়েছে পাইপিংয়ের ব্যবহার। কামিজ আর টপের লম্বা হাতায় থাকছে লেস।


জিন্স সব সময়ই পছন্দের পোশাক, নানা রকম ছাপা নকশার প্যান্টও এখন বেশ চলছে। এ ছাড়া পালাজ্জো তো আছেই। শাড়ির ধরন
শাড়ির ক্ষেত্রে সুতির পাশাপাশি সিল্কের চাহিদাও অনেক বেশি চোখে পড়ছে। সেই সঙ্গে কাতানের চল তো রয়েছেই। দিনের বেলা অনেকেই সুতির শাড়িকে বেছে নেয়। উৎসবের সঙ্গে স্বস্তির কথাও মনে রাখতে হবে। বাজার ঘুরে দেখা গেল একই সুতির শাড়ির কয়েকটি রূপ। এর মধ্যে তাঁতের শাড়ি ও কোটা শাড়ি বেছে নিচ্ছে সবাই। যার ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। কোনোটাতে স্ক্রিন প্রিন্ট করা, কোনোটায় বস্নকের কাজ, আবার কোনোটায় নকশিকাঁথার কাজও দেখা গেছে।


সিল্কের শাড়ির চাহিদা বরাবরই থাকে। কারণ এ ধরনের শাড়ি সব বয়সী নারীদেরই ভালো মানায়। সিল্কের মধ্যেও রয়েছে বাহারি ধরন। টাঙ্গাইল সিল্ক, হাফ সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক, জয়পুরি সিল্ক, মসলিন সিল্ক, কাতান সিল্ক ও অ্যান্ডি সিল্ক। হাতের কাজের পাশাপাশি এতে স্ক্রিন প্রিন্ট ও অ্যামব্রয়ডারি করা হয়ে থাকে। কোনোটায় আবার বাহারি লেস বসানোও থাকে।
মায়াসির ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার এবং প্রধান ডিজাইনার মাহিন খান জানালেন, তাদের প্রত্যেকটি শাড়িতে হাতের কাজ করা হয়েছে। কোনোটায় নকশিকাঁথার কাজ, কোনোটায় স্টোনের কাজ, কোনোটা আবার কারচুপির কাজ। আর ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের সিল্ক কাপড়কেই তারা শাড়ির ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েছেন।


রাতে একটু জমকালো ভাব আনতে কাতান শাড়িই বেছে নেন সবাই। আর কাতানেরও রয়েছে নানা পদ। জুট কাতান, কানচিবরণ কাতান, চেন্নাই কাতান, মসলিন কাতান, মিলেনিয়াম কাতান, কোটা কাতানসহ বাহারি সব কাতান। এসব কাতানে জরি সুতা দিয়ে কারচুপির কাজ করা হয়েছে।
এবার নেটের শাড়িতেও ঈদবাজার ভরে গেছে। কিনছেও সবাই পছন্দমতো। বিভিন্ন রঙের নেটের শাড়িতে বেলবেটের রিবন অথবা ভারী লেস লাগিয়ে নিজেরাই ডিজাইন করে নিচ্ছে। আবার এগুলো ডিজাইনভেদে কিনতেও পাওয়া যাচ্ছে।
আর জামদানি বরাবরই তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। রং আর ডিজাইনে নতুনত্ব তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে কাজেও রয়েছে ভিন্নতা। গদবাধা কাজের বাইরে খুঁজে পাবেন নিত্যনতুন কাজের ছড়াছড়ি।


গরম হলেও শার্টিন এবং বেলবেটের চাহিদাও এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। পুরো শাড়িতে কাজ করিয়েও নিচ্ছে অনেকে। তবে একটু হালকা বেলবেটকেই বেছে নিচ্ছে সবাই। আর ভারী কাজগুলো শাড়িকে আরো বেশি উৎসবমুখর করে ।
রঙের ক্ষেত্রে ধরাবাধা নিয়ম অনেকেই মানছে না। যে রঙে নিজেকে ভালো মানাবে সেই রংকেই বেছে নিতে ব্যস্ত সবাই। মেরুন, লাল, কমলা, সবুজ, আকাশি, ফিরোজা, নীল, গোল্ডেন, সিলভার, কালো, সাদা, নেভি বস্নু সব রঙের চাহিদা কমবেশি চোখে পড়েছে। তবে গরমের কারণে এসব রঙের হালকা শেডকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ দুই তিন রঙের শেডের শাড়ি কিনছেন। যা দেখতেও লাগে বেশ।
ঈদের জন্য বিভিন্ন দোকানিরা শাড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মিরপুর বেনারসি পল্লী, মায়াসির, আড়ং, নিপুন, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, অঞ্জনস, বাংলার মেলা, কে-ক্রাফটে নিজের মনমতো ডিজাইনের শাড়ি কিনতে পারবেন। এছাড়া একটু ভিন্ন ধাঁচের শাড়ি কিনতে বিভিন্ন শপিং মলে যেতে পারেন। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা ডিজাইনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। আর নিউমার্কেট, গাউসিয়া তো রয়েছেই। একটু বাজার ঘুরে সাধ আর সাধ্য অনুযায়ী খুঁজে নিন নিজের পছন্দের শাড়িটি।


সুতির শাড়ি আপনি ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে কিনতে পারেন। সিল্ক শাড়ি ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে পাবেন। এছাড়া নেটের শাড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকার পর্যন্ত দাম হবে। আর কাতান শাড়ি ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন। এবং জামদানি শাড়ি ৫ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন। আর মসলিন শাড়ি কিনতে পারবেন ৪ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।
শাড়ি যেমনই হোক না কেন বস্নাউজটা হওয়া চাই গর্জিয়াস। আর কাটিংয়ে ভিন্নতা তো থাকতেই হবে। এখন পিঠের দিকটা একটু খোলা রেখে বড় গলার চল চলছে। রংচঙা ফিতার জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ছে। অনেকে ভিন্ন ভিন্ন লেসের ব্যবহারের বস্নাউজটিকে করে তুলছে আরো জমকালো। কাতান আর বেলবেটের বস্নাউজের চল একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে নেটের বস্নাউজও বানাতে দেখা যাচ্ছে। হাতার ক্ষেত্রে সিস্নভলেসেই পছন্দের জায়গা ধরে রেখেছে। আবার থ্রি-কোয়ার্টারও তার চাহিদা বহাল রেখেছে। তাই যেই ডিজাইনটি আপনার জন্য মানানসই সেটি বেছে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


শাড়িটা বেশ গর্জিয়াস। আর ব্যাগটা সাদামাটা হলে চলে! ব্যাগেও চাই উৎসবের চমক। এখন পার্টি ক্লচ ব্যাগগুলোর চল দেখা যাচ্ছে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে অথবা কন্ট্রাস্ট করে ব্যাগটি বেছে নিতে পারেন। স্টোন বসানো অথবা বাহারি লেসের কারুকাজ এসব পার্টি ব্যাগে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আর এ ধরনের স্টাইলিশ একটি ব্যাগ আপনার ঈদকে আরো বেশি রঙিন করে তুলবে। তবে এর সঙ্গে গয়নাটাও হওয়া চাই একেবারে নতুন। মেটালের গয়নার চলটাই বেশি। সেই সঙ্গে এর ওপর পাথরের ভারী কাজ না হলেই না। বিভিন্ন রঙের মিশ্রণে অথবা একরঙা পাথরের গয়নাও পরতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে মানাবে বেশ।

সাব্বির// এসএমএইচ//৪ঠা জুন, ২০১৮ ইং ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …