ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলো টাইগাররা। ২০১২ সালের পর প্রথমবার বিদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করলো তারা। এ নিয়ে বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

ফ্লোরিডার লডারহিলে বাংলাদেশের দেয়া ১৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নির্ধারিত ১৭.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বৃষ্টি শুরু হয়। পরে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ১৯ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

ম্যাচ জিতলেই ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের। এই সমীকরণ মাথায় রেখে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলে বাংলাদেশি বোলাররা। যদিও রভম্যান পাওয়েল ও দিনেশ রামদিনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও আন্দ্রে রাসেল একপাশে ঝড় তুলে দলকে পথে রেখেছিলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮৫ রানের টার্গেট দিয়ে ২৬ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। নিজের প্রথম ওভারে আন্দ্রে ফ্লেচারকে ৬ রানে নাজমুল ইসলামের ক্যাচ বানান এই বাঁহাতি পেসার। তারপর নাজমুলের ইনজুরিতে পঞ্চম ওভারের মাঝে বল হাতে নেওয়া সৌম্য সরকার ১৯ রানে ফেরান চ্যাডউইক ওয়ালটনকে। তার ক্যাচ ধরেন বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমান। পরের ওভারে বল হাতে নেন সাকিব আল হাসান। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে মারলন স্যামুয়েলসকে মাত্র ২ রানে বোল্ড করেন বাংলাদেশি অধিনায়ক। ৩২ রানে ক্যারিবিয়ানরা হারায় তৃতীয় উইকেট।

রামদিন ও পাওয়েল প্রায় পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পথে ফেরাচ্ছিলেন। তাদের জুটিটা ৪৫ রানের বেশি হতে দেননি রুবেল। নিজের তৃতীয় ওভারে রামদিনকে ২১ রানে বোল্ড করেন তিনি। এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের বিদায়ের ঠিক ৬ বল পর আবু হায়দারের হাতে ক্যাচ দিয়ে মোস্তাফিজের শিকার হন পাওয়েল। ২০ বলে ২৩ রান করেন তিনি।

এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হলেও কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে নিয়ে ঝড় তোলেন আন্দ্রে রাসেল। ২০ বলে ৩২ রানের জুটি গড়েন তারা। ব্র্যাথওয়েটকে মাত্র ৫ রানে লং অনে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে স্বস্তি ফেরান আবু হায়দার। পরের ওভারে বাংলাদেশ তাদের বড় বাধা দূর করেন। মোস্তাফিজ তার শেষ ওভারের প্রথম বলে রাসেলকে আউট করেন। ২১ বলে ৬টি ছয় ও একটি চারে সাজানো তার ৪৭ রানের ইনিংস থামে আরিফুলকে ক্যাচ দিয়ে।

তার আগে সিরিজ নির্ধারণী ও শেষ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন দুই ওপেনার তামিম ও লিটন। ৪ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৫৬ রান সংগ্রহ করে। ১৩ বলে ২১ রান তুলে কার্লোস ব্রাফেটের বলে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। আজও ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য সরকার। ৪ বলে ৫ রান করে কেমো পলের স্লোয়ার ডেলিভারিতে লং অনে ক্যাচ দেন সৌম্য।

কার্লোস ব্রাফেটের সিমআপ ডেলিভারিতে উইকেট থেকে সরে খেলতে গিয়ে রামদিনের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিম। ১৪ বলে ১২ রান করেন মুশফিক। কেসরিক উইলিয়ামসের স্লোয়ার ডেলিভারি ঠিকমতো পিক করতে পারেননি লিটন। হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া লিটন দাস  মিড অফে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ৩২ বলে ৬১ রান করেন লিটন।

লিটন কুমার দাস আউটের পর মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব। দুজনের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। ১৬তম ওভারে এ জুটি ভাঙেন কেমো পল। ডানহাতি এ পেসারের স্লোয়ার ডেলিভারিতে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন সাকিব। ২২ বলে ২৪ রান করেন সাকিব। ২০ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। তাকে সঙ্গে দেন আরিফুল। আরিফুল ১৬ বলে করেন ১৮ রান।

সাব্বির// এসএমএইচ//৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …