কপাল খুলছে এসিটি শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেতন-ভাতা বঞ্চিত মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়োগ দেয়া অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকদের (এসিটি) কপাল খুলতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেকায়েপ (সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট) মাধ্যমে এসিটি শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি শেষ হয়ে যাওয়ায় এসিটিদের মাঝে হতাশা ভর করেছে। চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েন পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষক।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে চাকরি নিয়মিত করতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। তবে এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের চাকরি নিয়মিত করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মহিউদ্দিন খান শনিবার বিকালে বলেন, ‘এসিটিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হয়ে গেলে তাদের চাকরিও শেষ। তবে সবাই বলেছেন- এসিটিরা মেধাবী শিক্ষক। তারা মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে আমরা তাদের রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে অনেক কিছু সময় লাগে। এসিটিদের হতাশ না হয়ে অপেক্ষা করতে হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার এসিটিদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করেন অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দিন খান। সভায় অংশ নেয়া সবাই এসিটিদের চাকরি নিয়মিত করার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টভুক্ত (এসইডিপি) করার পরামর্শ দেন। কেউ আবার এমপিওভুক্তির মতামত দেন। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও সবাই এসিটিদের চাকরিতে রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় ও সেকায়েপ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, দেশের দুর্গম এলাকায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নেই। শিক্ষক থাকলেও তাদের যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারে না। মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নত করতে সরকার চালু করে সেকায়েপ প্রকল্পটি। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটি চালু করা হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ৪৮০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম ৬৪টি উপজেলার দুই হাজার ১১টি স্কুলে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভীতি দূর করতে ছয় হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ পাঁচ হাজার ১৮৭ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষকরা স্কুলে পাঠদান শুরু করেন। যাদের স্নাতকে ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর ছিল তাদেরই আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়। যাচাই-বাছাই করে সর্বোচ্চ যোগ্যদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কাঙক্ষিত ফলও এসেছে। কিন্তু প্রকল্পটি গত ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ায় ছয় মাস ধরে এসিটিরা বেতন-ভাতা বঞ্চিত। বেতন না পেয়ে অনেক মেধাবী শিক্ষক হতাশ হয়ে স্কুলে যাচ্ছেন না। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীর ঝরেপড়া রোধ করতে এসে এক ঝাঁক তরুণ মেধাবীর ঝরে যাওয়ার আশঙ্কায় আছি। প্রকল্প প্রধান ও মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ক্লাস চালিয়ে যান, ভালো খবর আসবে। কিন্তু সাত মাসেও ভালো খবর আসেনি। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের ম্যানুয়াল বইয়ে উল্লেখ আছে- সব এসিটিকে প্রকল্প শেষে পরবর্তী প্রকল্পে অথবা এমপিওভুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীকরণ করা হবে। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও এ কথা উল্লেখ ছিল। যার প্রতিফলন সেকায়েপ এসিটিদের ক্ষেত্রে এখনো ঘটেনি।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৫ই জুলাই, ২০১৮ ইং ৩১শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …