করোনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অনিশ্চিয়তা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মার্চে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দেশে সাধারণ ছুটির মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। তবে এইচএসসির পরীক্ষা কখন অনুষ্ঠিত হবে তা অনিশ্চিত।

প্রতিবছর জুন মাস নাগাদ সকল শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধের জন্য যেখানে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা সেখানে এইচএসসি পরীক্ষা কখন অনুষ্ঠিত হবে, এই নিয়েই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। একটি বিষয় তারা নিশ্চিত যে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পূর্বে তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া কোনোভাবে সম্ভব নয়। সঠিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কবে শুরু করতে পারবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন বড় সংকট কখনো সৃষ্টি হয়নি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম টানা এতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনাকালে যেখানে মানুষের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সে সময় আসলে বাকি সকল অধিকারগুলো কমই চোখে পড়ে। তবে অবশ্যই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনযোগ দেওয়া খুব জরুরি।

এ বিষয়ে কথা হয় কিছু এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে। তারা সকলেই একটি কথা জানিয়েছে, পুরো বিশ্বে যেখানে জীবন-মৃত্যু নিয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতে সেখানে অবশ্যই এমনটা হবে। তাই আমাদের মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

বাকলিয়া সরকারি কলেজের শাহাদাত হোসেন বাধন বলেন, মানসিকতার অবস্থা অবশ্যই স্বাভাবিক না। কারণ দেশের এই পরিস্থিতির পাশাপাশি আমাদের পরীক্ষা নিয়ে সংকট। অবশ্যই মানসিক ভাবে স্বাভাবিক থাকার মতনও না। এছাড়াও নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখতে পরিচিত মানুষের সাথে অনলাইনে ভার্চুয়াল আড্ডা দিচ্ছি। পাশাপাশি পড়াশোনা আগের মত না হলেও চেষ্টা করছি সময়ে সময়ে নিজেকে অন্তত পড়ার সাথে রাখার।

চট্টগ্রাম হাজেরাতুজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইরফান বলেন, মানসিক অবস্থা বলতে গতি হারা হয়ে গেছি। পুরো দেশের সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নগুলো থমকে গেছে। এই সময় বেশি বেশি আত্ম উন্নয়ন মূলক বই পড়ছি। রুটিন করে পড়াশোনা করার নিশ্চিয়তা পাচ্ছি না।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, এমন পরিস্থিতির উপর আমাদের হাত নেই, এখন বেঁচে থাকাটা সবার আগে জরুরি। এখন স্বাস্থ্য বিধি মেনেও যদি পরীক্ষার কথা ভাবা হয় তবুও সম্ভব নয় কারণ আমাদের এত গুলো কেন্দ্র নেই৷ স্বাস্থ্য বিধি মেনে যদি পরীক্ষা নিতে হয় তবে দ্বিগুণ কেন্দ্র দরকার। এটি শুধু মাত্র চট্টগ্রাম বোর্ড নয়, কোনো বোর্ডের পক্ষেই সম্ভব নয়। এছাড়া রুটিন দেওয়ার কমপক্ষে ১৫-৩০ দিন সময় দিয়ে পরীক্ষা আরম্ভ হবে।

তিনি আরো বলেন, এই সময় পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে এবং পড়াশোনায় রিভিশনের মধ্যে থাকা লাগবে। এ নিয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী সকলেই উদ্বিগ্ন।তবে পরীক্ষার্থীদের সকল বিষয় মাথায় রেখে পরীক্ষা নেওয়া হবে যখন পরিস্থিতি পরীক্ষা নেওয়ার মত স্বাভাবিক হবে।

পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার ব্যাপারে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুর আহমেদ বলেন, বর্তমানে এই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এইচএসসি পিছিয়ে যাওয়া দিনগুলো ভবিষ্যতের জন্য কিভাবে কাজে আসতে পারে তা নিয়ে যদি জাগ্রত করা হয় তবে তারা এই সময়টা কাজে লাগাতে পারবে। পরীক্ষার সময়েও অনেক পরীক্ষার্থী প্রস্তুতিতে অনেক পিছিয়ে থাকে। এই সময়গুলো কিন্তু তাদের জন্য একটা সুযোগ, প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়া অংশগুলো ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে আমরা শিক্ষকরা যতটুকু করতে পারছি তা করছি। কিন্তু তার চেয়ে বেশি করতে পারবেন অভিভাবকরা। তাদের প্রতি আমার অনুরোধ হলো এই সময় আপনার সন্তানের পাশে থাকবেন, মনোবল বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবেন এবং ভবিষ্যতে এই সময়টা কতটুকু কাজে লাগতে পারে তা নিয়ে বুঝাবেন।

‘এমন অবস্থায় পরীক্ষার্থীদের উচিত নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এবং অবশ্যই পড়াশোনা থেকে যেন পুরোপুরি সম্পর্ক না হারায় সেদিকে খেয়াল রাখা। কারণ তারা সকলে কিন্তু সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছিল যখন করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তাই বর্তমান এই পরিস্থিতিতে যেখানে এইচএসসি পরীক্ষার পাশাপাশি সকল ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাদের উচিত হবে নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যকে শক্ত করে রাখা। এই করোনাকালে সকলের শুধু একতাবদ্ধ হয়ে দূরে থেকে কাছে থাকার মতন আচরণ করাটা প্রয়োজন।’

Share.

About Author

Comments are closed.