করোনা প্রতিরোধে ব‌্যবস্থা জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

0

জার্নাল ডেস্ক :

ভয়াবহ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কী ব‌্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে কী ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আগামী সোমবারের মধ্যে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদী না থাকলে দ্রুত আমদানীর নির্দেশনাও দিয়েছে হাইকোর্ট।

এছাড়া করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্তিকর কোন তথ্য এবং কোন গুজব যেন না ছড়ায়, সেদিকে সতর্ক থাকার আদেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে, এ মর্মে প্রকাশিত সংবাদ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী আদালতের নজরে আনলে উচ্চআদালত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে ৩ টি মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

১. স্থলবন্দর, নৌবন্দর, বিমানবন্দর, বিশেষ করে বিমানবন্দরে যখন বিদেশিরা বাংলাদেশে আগমন করছেন, তখন অভ্যন্তরে প্রবেশের আগে তাদের কী ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে, যারা পরীক্ষা করছেন তারা প্রশিক্ষিত কি না এবং যে যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেগুলোর সক্ষমতা রয়েছে কি না তা জানাতে বলেছেন।

২. সারা বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় এখন পর্যন্ত প্রাকপ্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সব বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও করোনাভাইরাসের জন্য প্রাকপ্রস্তুতিমূলক সব ধরনের ব্যবস্থা (পৃথক কেবিনসহ চিকিৎসকের সরঞ্জাম) গ্রহণ করতে হবে।

৩. প্রত্যেকটি হাসপাতালে বা বন্দরে যেখানে শনাক্তের জন্য করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজন হবে সেখানে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে কি না, যদি না থাকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করার জন্য সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে জানাতে হবে।

এদিকে ভয়াবহ এই ভাইরাসে বুধবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩২৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৮০টি দেশের ৯৫৪৮১ জন এতে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩৬৮৮ জন।

শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্তের সংখ্যা ৮০৪৩০ এবং মারা গেছে ৩০১২ জন। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে এখন পর্যন্ত ৫৭৬৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩৫ জন।

অপরদিকে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইতালিতে। সেখানে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ ০৮৯ এবং মারা গেছে ১০৭ জন।

অপরদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানেও এই ভাইরাসের প্রকোপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ২৯২২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া দেশটিতে এই ভাইরাসে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জাপানে নোঙ্গর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৭০৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৬ জন। অপরদিকে, জাপানের বিভিন্ন স্থানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩১ এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।

ফ্রান্সে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৫ এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ২৬২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। স্পেনে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২২৮ এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ১৫৯ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১১ জন, সিঙ্গাপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ১১২, হংকংয়ে ১০৩ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ২ জন, সুইজারল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩ , যুক্তরাজ্যে ৮৭, নরওয়েতে ৫৯, কুয়েতে ৫৬, বাহরাইনে ৫২, সুইডেনে ৫২, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫০, মৃত্যু ২, মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত ৫০, থাইল্যান্ডে ৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ জন মারা গেছে।

অপরদিকে, তাইওয়ানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ এবং মৃত্য ১, নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৩৮, ইরাকে আক্রান্ত ৩৫ এবং মৃত্যু ২, কানাডায় আক্রান্ত ৩৪, অস্ট্রিয়ায় ২৯, ভারতে ২৯, আরব আমিরাতে ২৮, আইসল্যান্ডে ২৬, বেলজিয়ামে ২৩, আলজেরিয়ায় ১৭, সান মেরিনোতে আক্রান্ত ১৬ এবং মৃত্যু ১, ভিয়েতনামে আক্রান্ত ১৬, ডেনমার্কে ১৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

অপরদিকে, ইসরায়েলে আক্রান্ত ১৫, লেবাননে ১৫, ওমানে ১৫, ম্যাকাউতে ১০, ক্রোয়েশিয়ায় ১০, ইকুয়েডরে ১০, গ্রিসে ৯, কাতারে ৮, ফিনল্যান্ডে ৭, বেলারুসে ৬, আয়ারল্যান্ডে ৬, মেক্সিকোতে ৬, পর্তুগালে ৬, রোমানিয়ায় ৬, পাকিস্তানে ৫, সেনেগালে ৪, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ৩ এবং মৃত্যু ১, আজারবাইজানে আক্রান্ত ৩, ব্রাজিলে ৩, জর্জিয়ায় ৩, নিউজিল্যান্ডে ৩, রাশিয়ায় ৩ এবং চিলিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩।

এছাড়া মিসর, এস্তোনিয়ায়, ইন্দোনেশিয়ায়, সৌদি আরব ও হাঙ্গেরিতে দুইজন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর একজন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ পাওয়া গেছে আফগানিস্তান, আন্দোর, আর্মেনিয়া, কম্বোডিয়া, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে, জর্ডান, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মোনাকোত, মরক্কো, নেপাল, নাইজেরিয়ায়, উত্তর মেসিডোনিয়া, সান মেরিনো, শ্রীলঙ্কা, তিউনিসিয়া এবং ইউক্রেনে।

অর্থাৎ অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের সবক’টি মহাদেশেই আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এই কভোড-১৯’র কোনও ওষুধ ও প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় বিশ্ব জুড়ে এটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

Share.

About Author

Comments are closed.