কার্যকরে এতো সময় সাক্ষেপ কেন?

নাহিদ সেকান্দার

করোনা মহামারির মধ্যে সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে অনেক পূর্বে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছিলো সরকার। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখার কারণ দেখিয়ে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিলো গণপরিবহন গুলোতে। যা নিয়ে সরকার গত ৩১ মে এই বর্ধিত ভাড়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু এরই মধ্যে এই ভাড়া নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও গণপরিবহনের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করে অাসছিল। বাড়তি ভাড়াকে পুজি করে চলে অাসছিল ভাড়ার নৈরাজ্য। তবে শেষ মেষ অাগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে অাগের সে পুরানোর ভাড়ায়।

তবে বিষয় এটা, ১লা সেপ্টেম্বর কেন?

চাইলে তো আজ বা কাল থেকেই কার্যকর করা যেতে পারতো। নাকি ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত গণপরিবহন শ্রমিকদের অারেকটু বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্যর জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন যাবৎ তো সাধারণ যাত্রীরা এ বাড়ি ভাড়ার দিয়ে অাসছিল, তবে তাদের কথা বিবেচনা করে কি আজ বা কাল কার্যকর হতে পারতো না বিআরটিএ।

নাকি এখানেও কোনো সূএ লুকিয়ে আছে।বিআরটিএ চাইলে তো পুরানো ভাড়ার কার্যকর শীঘ্রই করতে পারতো। হয়তো সাধারণ মানুষকে আর কিছুদিন বাড়তি ভাড়ার কবলে পড়তো না।

তাছাড়া গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিআরটিএর এক বৈঠকে সেসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে আগের নিয়মিত ভাড়ায় গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানানো হয়। তবে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানা যায়। যেখানে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে বৈঠকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি, ডিএমপি, হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে বিআরটিএ এ সিদ্ধান্ত হয় যে,তারা নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত ভাড়া চালু থাকবে এবং পাশাপাশি দুই সিটের একটি খালি রেখেই বাস চলবে। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের এক তারিখ থেকে করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগে যেমন ভাড়া ছিল সেই ভাড়া কার্যকর হবে এবং পাশাপাশি সিটে বসলেও যাত্রীদের অবশ্যই মাস্ক পারতে হবে এমনি তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে বিআরটিএর এমন তথ্য জন সাধারণের কাছে পৌঁছালে কারো ভালো লাগলেও অনেকে তা তীব্র সমালোচনা করেন।

তাই নগরীর চকবাজারে সরজমিনে গিলে এমনি এক ক্ষিপ্ত যাত্রীর দেখা মিলে। নাম তার বেলাল মিয়া পেশায় দিনমজুর,তিনি বলেন “করোনার পর থেকে কাজের দেখা মিলে না, মিললেও আগের তুলনায় কম। তবে অল্প কাজে যা আয় হয় তার অর্ধেকি চলে যায় গাড়ির ভাড়া দিতেদিতে। এমন অবস্থায় কখন আগের ভাড়ায় আসবে তারই চিন্তায় আছি।”

অন্যদিকে সাবরিনা নামে বাসে যাতায়াতকারী এক কর্মজীবী নারী মন্তব্য করেন, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলাকালে দেশের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার অজুহাতে ঠিকমতো বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি, ঈদে বোনাস দেয়নি। এ অবস্থায় পকেট খালি হওয়া সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে কাজের জন্য ঘর থেকে বের হতে গিয়ে কী করে অতিরিক্ত বাস ভাড়া দেবেন সেটা মোটেও ভাবা হয়নি।

তিনি আরো বলেন,”প্রধানমন্ত্রী যেখানে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে একের পর এক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেই যাচ্ছেন, সেখানে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম না কমিয়ে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি গণমানুষের সঙ্গে সরকারের প্রতারণারই শামিল। সরকারের অন্য কর্মসূচিগুলোরও পুরো বিপরীত। এখানে গণমানুষের স্বার্থ মোটেও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “গণপরিবহনের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে যে টাকা আদায় হয় তা বন্ধ করলেই মালিক ও যাত্রীদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমবে। তাছাড়া এখন আগের মতো যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে বসে থাকতে হচ্ছে না। তাই অতিরিক্ত জ্বালানিও ব্যয় হবে না। আর কোথাও কোথাও করোনার আগে সরকার নির্ধারিত যে ভাড়া ছিল সেই ভাড়ার চেয়েও পরিবহনগুলো অনেক বেশি ভাড়া আদায় করতো। এর ফলে নতুন করে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তা আরও অনেক বেড়েছে।”

তাছাড়াও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনে দৈনিক যে হারে চাঁদা আদায় হচ্ছে সেটা বন্ধ করা গেলেই পরিবহন মালিকদের ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও যাত্রীদের ওপর চাপ করতো। এটি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। এরইমধ্যে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোও চাঁদা আদায় না করার কথা জানিয়েছে। তাছাড়া আগে যে সময়ে একটি বাস যানজটের কারণে দৈনিক তিনটি ট্রিপ দিতে পারতো সেখানে এখন এগুলো দ্বিগুণেরও বেশি ট্রিপ দিতে পারবে। এতে পরিবহনের পরিচালনা বা জ্বালানি ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে।অপরদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সরকার চাইলে দেশে জ্বালানি তেলে দাম কমিয়েও পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। প্রয়োজনে কিছুটা ভর্তুকিও ঘোষণা করা যেতো।”

তাই প্রসঙ্গত গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়াকে কেন্দ্র করে গত ১২ আগস্ট অ্যাডভোকেট মো. আতিকুর রহমানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হাসিম উদ্দিন গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিআরটিএ চেয়ারম্যানের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

বিডিজা৩৬৫ /এনএস/ এনআর

Check Also

পদ্মা সেতু উদ্বোধন ২৫ জুন

জার্নাল ডেস্ক : পদ্মা নদীর ওপর উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুর নাম নদীর নামেই থাকছে। আগামী …

হজ ফ্লাইট শুরুর নতুন তারিখ ৫ জুন

জার্নাল ডেস্ক : সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে হজের ফ্লাইট ৩১মে থেকে পিছিয়ে ৫জুন থেকে …