কালুরঘাট সেতু নির্মাণে পরিকল্পনা মন্ত্রীকে নাছিরের চিঠি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

দীর্ঘ ৮০ বছর আগে বৃটিশ আমলে নির্মিত কালুরঘাট রেল কাম সেতু। বর্তমানে বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনকারী সেতুটি জরাজীর্ণ হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ কমাতে কালুরঘাট রেল কাম সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি জরাজীর্ণ হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেল যোগাযোগও বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (০২ আগস্ট) চট্টগ্রাম তথা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু প্রকল্প’ বাস্তবায়নের লক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা।

চিঠিতে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বৃটিশ আমলে নির্মিত কালুরঘাট রেল কাম সেতুটি জরাজীর্ণ হওয়ায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে লাখ লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বর্তমান উন্নয়ন বান্ধব সরকারের স্বচ্ছিতায় প্রস্তাবিত চীন, মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে রেল নেটওয়ার্ক স্থাপনে ও কর্ণফুলী নদীর ওপর পুরানো কালুরঘাট রেল সেতু ভেঙে নতুন করে রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ সেতুটি সরকারের মেগা প্রকল্প দোহাজারী-ঘুমধুম রেল লাইনের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কালুরঘাট কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল কাম সড়ক সেতু নামে একটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তৈরি করে ঢাকাস্থ রেলভবন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে সেটি যাচাই-বাছাই শেষে কয়েক দফা পুনর্গঠন করে ২৭ মার্চ সংশোধিত ডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়।’

প্রকল্প অনুসারে ২০২০ সালের শুরুতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। যার মধ্যে ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ)। বাকি টাকার যোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রেল কর্মকর্তাদের মতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের যে প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে, তার সুফলও নির্ভর করছে কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের ওপর। এসব বিষয় বিবেচনা করে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে এবং চট্টগ্রাম তথা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুতততর সময়ের মধ্যে ‘কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু প্রকল্প’ বাস্তবায়নের লক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন প্রদান জরুরি হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু প্রকল্পটি আগামী একনেক সভায় অনুমোদনের বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতাও কামনা করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সাব্বির// এসএমএইচ//৩রা আগস্ট, ২০১৮ ইং ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …