মুক্তিযোদ্ধা কিসলুর বাগানের একাংশ

কিসলুর বাগান

জার্নাল ডেস্ক ::

মুক্তিযোদ্ধা মুছা কলিমুল্লাহ কিসলু। বয়স আনুমানিক ৬৭। আপাতত ঠিকানা গেড়েছেন বান্দরবানের থানচির পথে লামা আলি কদমের কুমারি বাজার এ্রলাকার একটি চমৎকার বাগানে। বাগানটির পরিধি ৩০০ একর প্রায়। এখানে একটি বাংলোও রয়েছে।  আধুনিক সব সুবিধা এখানে বিদ্যমান।

ওয়াইফাই থাকায় ইন্টারনেট কানেকশনের সমস্যা নেই বলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকেও বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রয়েছে কিসলুর। এক সময় আমেরিকা প্রবাসী ছিলেন। বিদেশে মন টেকেনি। দেশে ফিরে এসেছেন।এসে পাহাড়ে বসতি গড়ে তুলেছেন। তিনটি পাহাড় নিয়ে তার বাগান।

প্রাকৃতিক ফলের বাগান গড়ার শখ থেকেই কিসলুর পাহাড়ের প্রতি এতো মোহ। গত দেড় বছরে তিনশ প্রজাতির গাছের চারা লাগিয়েছেন তিনি। এখানে রয়েছে কৃত্রিম লেক। নানা প্রজাতির মাছের চাষ করা হচ্ছে এখানে।

দুপুরের লাঞ্চটিও সেরেছি তারই প্রজেক্টের মাছ বন মোরগ ও ফল ফলাদি দিয়ে। এখানে সবই অর্গানিক। তার সাথে রয়েছে একটি জার্মান কুকুর। তাকে বন্ধু ‍বললেও বেশি বলা হবে না।

কিসলু হতে পারেন মুক্তিযোদ্ধাদের আলোর দিশারী । বান্দরবানের থানচির পথে লামা আলি কদম ঢুকলে দেখা যাবে সারি সারি বিভিন্ন ফলের বাগান যা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না ।

এক সময় ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো তামাক চাষে উৎসাহিত করত বাংলাদেশীদের, যা স্বাস্থ্যের  জন্য হানিকর,পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর । কিসলুর বাগান দেখে মনে হলো এটি আরেকটি যুদ্ধের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

৭১ সালে সামরিক ট্রেনিং এ স্টুড ফার্স্ট ছিল চৌকষ এই কিশোর , রকেট লাঞ্চার , মেশিন গান ,‌ টু ইঞ্চেস মোটর সেলিং এ দক্ষতা দেখিয়ে বাহবা পেয়েছিল উপস্থিত ভারতীয় জেনারেল মানিক শ’ এর কাছ থেকে ।

আমার স্কোর মেশিন গানে ( শুটিং রেঞ্জে) রেটিং এ হায়েস্ট ছিলাম ওয়াশ আউট কম হতো, টার্গেট ফেলিউর কম ছিল । আমরা তিন বন্ধু আমি মনজুর আলম, রফিক,কিসলু উম্পির নগর সামরিক ট্রেনিং সেন্টারে আলফা কোম্পানিতে ছিলাম ।

ব্যক্তিগত জীবনে এখন কিসলু একজন আধুনিক খামারিরূপে  আবির্ভূত হয়েছে । সখ থেকে উন্নয়নের পেশায় যুক্ত হয়েছে । এ যেন আরেক বিপ্লব। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক সার মুক্ত অরগানিক ফল ফলানোর চেষ্টা করছে ।

এখন ফলের গাছগুলো  ফল দিতে শুরু করেছে, পোনাও বিক্রি করেছেন এবার । ২৫ কিলো মিটারের মধ্যে প্রায় ২০ টি বাগান নজরে পড়েছে।  এই বাগান গুলোকে উৎপাদনশীল ও সংরক্ষণ এবংপরিচর্যা করা গেলে বৎসরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো।  আমদানি থেকে দেশ রক্ষা পেতো । ইম্পোর্ট কান্ট্রি থেকে এক্সপোর্ট কান্ট্রিতে রূপান্তরিত করা যাবে যদি কিসলুদের মত দেশের মেধাবি সম্ভাবনাময় সন্তানরা এই কাজে এগিয়ে আসেন ।

ভ্রমণ  বিরতিতে লামায় তার ৫০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ে কিছুক্ষণের জন্য আমি এবং আমার কলিগ সানাউল্লাহ অবস্থান করি।  বাগান ঘুরে দেখার পর লাঞ্চ্ করি তার প্রজেক্টের তাজা মাছ ,মুরগী ও ফল দিয়ে । তাছাড়া তার পোষা জার্মানি কুকুর অতিথিদের ওয়েলকাম করা এবং গুড বাই দেওয়া আমার বেশি ভালো লেগেছে । আমি চাই কিসলু আরও বেশি উন্নতি করুক এবং দেশের উন্নয়নে তার বাকি জীবনটা উৎসর্গ করবে যেমনটি স্বাধীনতার জন্য প্রাণ  দিতে লড়াই করেছিলেন।

বিডিজা৩৬৫/আহা

Check Also

শ্রী শ্রী মঙ্গলময়ী কালীবাড়ির মন্ডপ ঘিরে মহাঅষ্টমীর উৎসব

জার্নাল প্রতিবেদক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ সোমবার মহাঅষ্টমী উপলক্ষে মণ্ডপে …

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন সাভান্তে পাবো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সুইডেনের সাভান্তে পাবো। আজ সোমবার (৩ …