ক্যাডার, নন–ক্যাডার দ্বন্দ্বে আটকে গেছে জাতীয়করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয়করণ হওয়া কলেজশিক্ষকেরা বিসিএস ক্যাডারভুক্ত হবেন, নাকি নন-ক্যাডার হবেন—এই দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়ায় ২৮৩টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি করার কাজ আটকে গেছে। প্রায় দুই বছর আগে ঘোষণা দিয়ে এসব কলেজকে জাতীয়করণ করার জন্য তালিকাভুক্ত করে সরকার। কিন্তু এখনো সরকারীকরণের আদেশ জারি করা হয়নি। এই অবস্থায় জাতীয়করণের তালিকায় থাকা কলেজগুলোর শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজের শিক্ষকদের বিষয়ে সরকার কী অবস্থান নেয়, সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারাও। যদি ওই শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত করা হয়, তাহলে তাঁরা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে কলেজকে জাতীয়করণ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল বর্তমান সরকারের। তারই আলোকে ২০১৬ সাল থেকে কলেজ তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে মোট ২৮৩টি কলেজ জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। জাতীয়করণের অংশ হিসেবে ওই সব কলেজের সব সম্পত্তি ইতিমধ্যে সরকারের নামে দানও (ডিড অব গিফট) করা হয়েছে। জাতীয়করণের তালিকায় থাকা কলেজগুলোতে ৮ থেকে ১০ হাজার শিক্ষক আছেন।

কিন্তু এসব শিক্ষকের অবস্থান, মর্যাদা, বদলি ও পদোন্নতি কীভাবে হবে, তা দুই বছরেও ঠিক করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মূলত এ কারণেই সরকারি করার আদেশ জারি হচ্ছে না। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলেছেন, যদি জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজশিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত করা হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাবেন। পাশাপাশি এ নিয়ে মামলাও চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচনের বছরে দুই পক্ষের বিষয়টি মাথায় নিয়েই সরকার কাজ করছে। জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজশিক্ষকদের জন্য আত্তীকৃত বিধিমালার খসড়া তৈরি করে মতামতের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হয়েছে। সাধারণত নন-ক্যাডার হলেও এসব কলেজের প্রভাষকদের মধ্যে যাঁদের বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার মতো যোগ্যতা আছে, তাঁদের পিএসসির অধীনে আলাদা পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারভুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে ওই খসড়ায়। আর অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপকদের বিষয়ে পিএসসির মতামত চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, খসড়া বিধির বিষয়ে কিছু প্রশ্ন জানতে চেয়েছিল পিএসসি। সেগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, পিএসসি থেকে অনুমোদন হয়ে এলে বিধিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে এটি চূড়ান্ত হয়ে এলে জাতীয়করণের আদেশ জারি করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতীয়করণ হওয়া কলেজশিক্ষকেরা এর আগেও ক্যাডারভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতেন। যেহেতু নজির আছে, তাই সেই সুযোগ একেবারে বন্ধ করা যায় না। করলে জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা বাড়বে। আবার সামনে জাতীয় নির্বাচন, জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজগুলো অধিকাংশই উপজেলা সদরে অবস্থিত। এসব কলেজের শিক্ষকদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে পরিচিত, যাঁদের কেউ কেউ আবার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব বিষয় চিন্তা করে যোগ্যতা থাকা শিক্ষকদের পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডারে আসার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজশিক্ষকদের অন্যতম নেতা প্রদীপ কুমার হালদার বলেন, আগে যেভাবে কলেজশিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত করেছে সরকার, এবারও সেভাবেই হতে হবে। দ্রুত সরকারীকরণের আদেশ জারি করারও দাবি জানান তিনি।

প্রথমে বিধিমালা, তারপর জাতীয়করণের আদেশ জারি করার দাবি তুলেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, বিধিমালায় অবশ্যই জাতীয়করণ হওয়া কলেজশিক্ষকদের ক্যাডারের বাইরে রাখতে হবে। যদি জাতীয়করণ হওয়া কলেজশিক্ষকদের পরীক্ষার মাধ্যমেও ক্যাডারভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়, তাহলে আন্দোলনে যাবেন তাঁরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিদ্যমান নিয়মে জাতীয়করণ হওয়া কলেজশিক্ষকেরা ক্যাডারভুক্ত হলেও তাঁদের অবস্থানটি হবে সর্বশেষ বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের নিচে। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতা ও চাকরিকাল গণনায় পৃথক কিছু শর্ত রয়েছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//৭ই জুন, ২০১৮ ইং ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …