খোকন হত্যার আসামিরা প্রকাশ্যে, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে খোকন সরকার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেনসহ ৪ আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। এদিকে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে নিহতের স্বজনদের মাঝে। মামলাটি তুলে নিতে আসামিরা বাদীপক্ষকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।সরেজমিনে কাজিপুর উপজেলার বেলতৈল গ্রামে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য, গ্রামবাসী ও নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বললে তারা এমন অভিযোগ করেন। এদিকে নিহত খোকন সরকারের স্ত্রী নাবালক তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।মামলার বাদী মনোয়ারা বেগম জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পরও মামলার তিন নম্বর আসামি শওকত হোসেনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশের সামনে তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও গ্রেফতার না করায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য তারা নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।নিহত খোকন সরকারের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, স্বামী নিহত হওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সন্তানদের ভরণপোষণ আর লেখাপড়া করাতে পারছি না। ১৭ বছর বয়সী এক সন্তানকে কাঠমিস্ত্রির কাজে দিতে হয়েছে। ১২ বছর বয়সী মেঝ ছেলেকেও লেখাপড়া বন্ধ করে ওয়ার্কশপে কাজে দিয়েছি।তিনি বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে ও আমার নাবালক সন্তানদের হুমকি দিচ্ছেন। তাদের ভয়ে আমার ছেলেরা বাইরে বের হতেও পারছে না।নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম সরকার ও প্রতিবেশী লিটন সরকারসহ অনেকেই জানান, শওকত হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় তিনি খুবই প্রভাবশালী। এছাড়াও তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ কারণেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছেন না।হত্যা মামলার আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শওকত হোসেন ফোনে বলেন, ঘটনার দিন আমি উপজেলা পরিষদে একটি মিটিংয়ে ছিলাম। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে আমার জড়িত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারপরও আমাকে আসামি করা হয়েছে।কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম লুৎফর রহমান জানান, এ হত্যা মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৯ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলহাজতে রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বাদীপক্ষকে হুমকির বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ করা হয় তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।প্রসঙ্গত. বেলতৈল ই আর উচ্চ বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করায়  ভাড়া করা গাড়িতে করে ছাত্রছাত্রীরা আনন্দ মিছিল বের করে। গাড়ির ভাড়া নিয়ে ওই স্কুলের এক শিক্ষক ও কেরানীর কথা কাটাকাটির জের ধরে ২৬  ফেব্রুয়ারি উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।এতে খোকন সরকারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় আহতদের মধ্যে খোকনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসার পর ৯ মার্চ সকালে মারা যান তিনি।সংঘর্ষের ঘটনায় মনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে ১ মার্চ ২৩ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। খোকন সরকারের মৃত্যুর পর ১০ মার্চ মামলাটিতে ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়

সাইফুল//এসএমএইচ//১৯শে মে, ২০১৮ ইং ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …