ঘাতক ট্রাক আমাকে নিঃস্ব করে দিল: নিহত শিশুর মায়ের আহাজারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেপরোয়া গতির ট্রাকের ধাক্কায় এবার মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে শিশু হৃদয় (১)। খালার বাড়িতে বেড়ানো শেষে ফেরার পথে সে নিহত হয়। আদরের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মা মৌসুমী আক্তারের আর বাড়ি ফেরা হল না।
বুধবার রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ গ্রামের বাড়ি নেয়া হয়েছে।
১৫ দিন আগে হৃদয়কে নিয়ে মৌসুমী নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকার ১ নম্বর রোডে তার বোন বেদেনা আক্তারের বাসায় এসেছিলেন। বেড়ানো শেষে নেত্রকোনার মদন থানার মাকনায় যাওয়ার উদ্দেশে তারা বের হন। সাইনবোর্ড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় মৌসুমীকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তার কোলে থাকা হৃদয় রাস্তায় ছিটকে পড়ে যায়। শিশুটির মাথার পেছনের অংশ থেঁতলে যায়। মৌসুমী দাঁতে ও মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় তাদের সঙ্গে শিশুটির খালু টোটন মিয়া ছিলেন। এরপর আহত মৌসুমীকে প্রথমে ঢাকার মিরপুরের একটি ডেন্টাল হাসপাতালে এবং পরে সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
টোটন জানান, আমরা যখন রাস্তা পার হচ্ছিলাম তখন ট্রাকটি অনেক দূরে ছিল। রাস্তা পার হওয়ার পর আমরা বামপাশে দাঁড়াই। এরপরও ট্রাকটি দ্রুতগতিতে এসে মৌসুমীকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে হৃদয় মারা যায়।
তিনি আরও জানান, তার বাসায় বেড়াতে এসে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তিনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছেন না। তিনি জানান, বিয়ের তিন বছর পর মৌসুমীর সন্তান হয়। নানা দুঃখ-দুর্দশার মাঝেও পরিবারটি সন্তানের মাঝে সুখ খুঁজে পেত। হৃদয়ের জন্মের পর সংসারে সুখের হাসি ফুটেছিল। তাকে ঘিরে বাবা কৃষক মহিবুরের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে গেল।

মৌসুমীর বোন বেদেনা আক্তার বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার বোন বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তিনি কোলের শিশু হৃদয়কে খুঁজছেন।
মিরপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌসুমী আক্তার বলেন, এমন সকাল কখনও আসবে কল্পনাও করিনি। গ্রাম থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসার সময় বুকে জড়িয়ে এনেছিলাম আমার বুকের ধনকে। সারাক্ষণ তাকে কোলে কোলে রাখতাম। কিন্তু ঘাতক ট্রাক এটা কী করল? আমাকে নিঃস্ব করে দিল। বুকের মানিক হৃদয়কে কোলে করে বেড়াতে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এখন খালি কোলে অসুস্থ হয়ে আমাকে গ্রামের বাড়ি যেতে হচ্ছে। মা হিসেবে বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। ওর বাবাকে কী বুঝ দেব! আমার একমাত্র সম্বলটা কাইড়া নিল ট্রাকটা। এর কি কোনো বিচার নেই? কে করবে এই বিচার? একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকার্ত মা শুধু আর্তনাত করছেন।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজ উদ্দিন বলেন, স্বজনদের অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//৭ই জুন, ২০১৮ ইং ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …