চকরিয়া থানার ওসিসহ দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজারে টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের দিন, রাতে চকরিয়াই ওমান ফেরত প্রবাসীসহ ২ জন ক্রসফায়ারে স্বীকার হয়।

পুলিশের দাবিকরা টাকা দিতে না পারায় তাদেরকে হত্যা করে হয়েছে এবং ইয়াবা উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের গুলিতে নিহতের তিনদিন আগে তাদের কে পটিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় নিহতদের স্বজনরা।

এদিকে পুলিশের দাবিকৃত ৫০ লাখ টাকা দিতে না পারায় প্রবাসীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসিসহ দুই পুলিশের বিরুদ্ধে পটিয়া আদালতে মামলা দায়ের করেছে বলে জানান নিহতের পরিবার। রোববার (১৬ আগস্ট) নিহত প্রবাসী জাফরের মামা মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ শফি পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান ও হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম আসামী করা হয়। সে সাথে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ৩১ জুলাই চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভোরে চকরিয়া বানিয়ারছড়া আমতলী গর্জন বাগান পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৩ মাদক কারবারি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ওসিসহ ৪ পুলিশ সদস্য। সাথে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে -৪৪ হাজার পিস ইয়াবা সহ অস্ত্র ও গুলি।

তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তারা কোনো অপরাধের সাথে জড়িত না থাকার সত্ত্বেও তাদের পরিকল্পিতভাবেই পটিয়ার বাসা থেকে ধরে চকরিয়ায় নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করে চকরিয়া থানা পুলিশ। তবে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের পূর্বে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল চকরিয়া থানা পুলিশ।

জানাযায়, পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের মোহাম্মদ জাফর ১৮ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। চলতি বছরের ১২ মার্চ লকডাউনের আগে ওমান থেকে দেশে এসেছিলো। কিন্তু করোনা  পরিস্থিতিতে আর বিদেশে যেতে পারেননি। অপরজন মোহাম্মদ হাসান পেশায় রিক্সাচালক এবং অন্য জন হাসানের ভাই যে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

জাফরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার জানান, ‘আমার স্বামী কখনো মাদক ইয়াবার সাথে জড়িত ছিল না। তিনি প্রবাসে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন। আমি বিয়ষটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

কিন্তু পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হাসানের বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর শফিউল আলম বলেন, ‘হাসান একজন দিনমজুর রিক্সা চালক। সে মাদক ইয়াবার সাথে কখনো জড়িত ছিল না।’

কচুয়াই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, ‘জাফর দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা কিংবা  কোনো থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও ছিল না, কিন্তু তাকে অন্যায়ভাবে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের (দক্ষিণ) পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জাফর ও হাসান নামে যে দুজনকে পুলিশ ক্রসফায়ার দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্যের কোন মামলা আছে এই ধরনের কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই।’

তবে বিষয়টি নিয়ে চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পকে চকরিয়া থানার ওসিই ভাল বলতে পারবেন। কিন্তু তিনি ‘জরুরি মিটিং’ আছে বলে লাইন কেটে দেন।

প্রসঙ্গত এ বিষয়ে চকরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমানের সাথে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও  ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি তার

Check Also

তরুণরা মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বে‌শি

জার্নাল ডেস্ক : সারা বি‌শ্বে স্মলপক্সের টিকা জোরদার না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার …

ঢাকা-দিল্লি বৈঠক ৩০ মে হচ্ছে না

জার্নাল ডেস্ক : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘যৌথ কনসালটেটিভ কমিশন’ (জেসিসি) বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। …