চট্টগ্রামের কাচাঁ বাজারের সাপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে সবজির দাম

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সাপ্তাহ ব্যবধানে চট্টগ্রাম শহরের কাচা বাজার গুলোতে প্রায় সবধরনের সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাবে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবী করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সবজির দাম বাড়লেও কিছুটা কমেছে কাচা মরিচের দাম। এছাড়া ডিম ও মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। নগরীর রেয়াজ উদ্দিন বাজার, কাজিরদেউরি,চকবাজার, বহদ্দারহাট, কর্ণেল হাট, কর্ণফূলী বাজার, ফইল্যাতলী সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
গত সাপ্তাহে এসব বাজারে বেশিরভাগ সবজি কেজি ৩০টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও এখন ৪০/৫০টাকার নীচে কোন সবজি নেই। সবজির এদাম বাড়ার কারন হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে অনেক চাষীর ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। আবার অনেকে সবজি তুলতে পারছেনা। এছাড়া সবজির দাম বাড়ার পেছনে নিরাপদ সড়ক চাই দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তারা। এসময় অনেকেই সবজি বোঝাই গাড়ি শহরে আনতে ভয় পেয়েছে। যার ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজি সরবরাহ ছিল কম। এতে ও দাম বেড়েছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখাগেছে পটল ঝিংগা,ধুন্দল, চিচিংগা, কাকরল, ঢেঁড়স, মিষ্টি কুমড়া, করলা, বেগুন,বরবটি সহ প্রায় সব সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। গত সাপ্তাহে এসব সবজি কেজিতে ২৫-৩০টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সবকটির দাম এখন বেড়ে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০টাকায়। বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে১৪০-১৫০টাকায়।
এ ছাড়া কেজি প্রতি তেলাপিয়া ১৩০-১৪০ টাকা, কই ১৪৫-১৫৫ টাকা, সিলভার কার্প ১০০-১৩০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১১০-১৩০ টাকা, নলা ১২৫-১৩৫ টাকা ও সরপুঁটি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছ ৫০-৬০টাকায়। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতলা ২৩০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি বড় আকারের চিংড়ি এক হাজার টাকা, মাঝারি আকারের চিংড়ি ৭০০-৭২০ টাকা ও ছোট আকারের চিংড়ী ৫০০ টাকয় বিক্রি হচ্ছে।
রেয়াজ উদ্দিন বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. আবদুল হামিদ মানবকন্ঠকে বলেন, ‘এ সময়ে বাজারে যে ইলিশের দাম হওয়ার কথা ছিল ২০০ টাকা। সেটা এখন ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা দাম জিজ্ঞেস করেই চলে যাচ্ছে। দাম বেশির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ নেই। ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও নদী ও সমুদ্রে সে হারে ইলিশ ধরা পড়ছে না। তাই মোকাম থেকে বেশি দাম দিয়ে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
কাজির দেউরি বাজারে কাঁচা বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম মানবকন্ঠকে বলেন, প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এ সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অজুহাতে সবজির দাম বেশ চড়া। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দামও বেড়েছে ৩ টাকা।
এদিকে কোরবান এখনও অনেক দিন বাকি। তবে এখন থেকেই মসলার দাম বাড়াতে শুরু করেছেন বিক্রেতারা। তাই নিত্যপণ্যের দাম যাতে সহনীয় থাকে এ জন্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ক্রেতা সাধারণ।।

সাব্বির// এসএমএইচ//৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.