চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প চলছে ধীরগতিতে

জার্নাল ডেস্ক :

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দখলকৃত খাল সমূহ উদ্ধার ,পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ২০১৭ সালের আগস্টে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডি এর ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়।

তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফায় দুই বছর সময় বাড়ানো হয়, যা এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামে বিভিন্ন খালে অবৈধ দখলদাররা অবৈধভাবে খালের উপরে বহুতল ভবন নির্মাণ করার কারণে কাজের অগ্রগতি থমকে আছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে খালের পুনরূদ্ধারের কাজ, অন্যদিকে নগরীর পানি নিষ্কাশনের ড্রেজিং ব্যবস্থা ঠিক মত না থাকার কারণে নগরীতে কয়েক ঘন্টা বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

এ দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খালের উপর অবৈধ দখলদারের বিষয়টা সত্য। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন করতে গিয়ে এমনই নিত্য বেগ পেতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে, নগরীর টেরীবাজারের পাশ দিয়ে বদরখালী  খালে এমটাই দৃশ্য চোখে পড়ে, খালের উভয় পাশে ১০ মিটার করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার কথা থাকলে ও আসলে তা হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের (সিডিএ) এক নোটিশে দেখা যায় বদরখালী খালের সম্মুখভাগে খালের উপরে অবৈধভাবে নির্মিত ওরিয়েন্ট টাওয়ার নামিয় ভবনটির উত্তরে ০.৮৬ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.০০ মিটার খালি রাখা হয়েছে। দক্ষিণে ০.৮৬ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.০০ মিটার খালি রাখা হয়েছে।পূর্বে ১.৫০ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.০০ মিটার খালি রাখা হয়েছে।পশ্চিমে (রাস্তার পার্শ্বে) ৬.৫৯ মি:, ৩৫.১৬ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.৬০ মি: ৩১.২২ মিটার খালি রাখা হয়েছে। তাছাড়াও, নির্মিত ভবনটির উত্তর পার্শ্বে অর্থাৎ খালের পার্শ্বে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ০৮৬ মি: জায়গা যেখানে অবশ্যই রাখা দরকার সেখানে জায়গা রাখার পরিবর্তে কোন খালের জায়গা না রেখে ১ম তলায় ০.৩০ মি: ২য় তলা থেকে ৮ম তলা পর্যন্ত ০.৬০ বর্ধিত করে খালের উপর বিল্ডিং নির্মাণ করে যেটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এ দিকে সেনাবাহিনীর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালের উপরে ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙ্গে ফেলার জন্য সেনাবাহিনী মার্ক করে দিলেও ইমারতটির অবৈধ দখলদার আহমদ হোসাইন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাআঙ্গুলী দেখিয়ে ভবনের গায়ে আবার আস্তর করে দেয়।

অন্যদিকে কিছুদিন আগে নগরীর মাঝিরঘাট এলাকায় গুলজার খালের পাড়ে, খাল খননের কাজ চলার মধ্যে পাশের অবৈধ দুটি তিনতলা ও দোতলা ভবন হেলে পড়ে। পরবর্তীতে হেলেপড়া ভবন ভেঙ্গে দিয়েছে সিডিএ। খালের পাশে স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে খালের ডান পাশের ভবন ওরিয়েন্ট টাওয়ারের উপরের দেওয়ালে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বাম পাশে পুরাতন ঐতিহ্যবাহী হাসান মঞ্জিল অর্ধেক ভেঙে ফেলার পর ভাঙ্গা অংশের স্থাপনাগুলো সরিয়ে না ফেললে পুরোদমে বর্ষা আসলে বিল্ডিং এর ময়লা আবর্জনা গিয়ে আবার খাল ভরাট হয়ে যাবে।

হাসান মঞ্জিল এর স্বত্বাধিকারী তারিন মহিউদ্দিন আজিম বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভবনটির এক-তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এখন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ওপাশের বহুতল ভবনটিতে ও বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে যে কোনো মুহূর্তে ভবনগুলো ধ্বসে কিংবা ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে একদিকে যেমন জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতি হবে অন্যদিকে খাল আবার ভরাট হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সিডিএ ও সিটিকর্পোরেশনের এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, “সিডিএ বলছে, চলতি মাসের মধ্যে বাঁধগুলো এবং অবৈধ স্থাপনা সরানো সম্ভব। যদি সেটা হয় তাহলে পরিস্থিতি সহনীয় থাকবে। আর না হলে যা হবার তাই হবে।

চট্টগ্রামে খালের জায়গায় অবৈধ দখলদার এবং খালের উপরে বহুতল ভবন নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি কতটুকু জানতে চাইলে কাজ থমকে আছে উল্লেখ করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মো: কাহ আলী বলেন, আমরা দুই কিলোমিটার একটি খালের কাজ শেষ করেছি। কিন্তু মাঝখানে ৫০ মিটার জায়গা নিয়ে বিরোধ আছে। বদরখালী খালের ও স্লাবের কাজ প্রায় শেষ, আপনারা একটু করে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন খালের মাথার উপর ওরিয়েন্ট টাওয়ার, অবৈধ দখলদাররা সেখানে দখল করে রয়েছে। স্লাবের কাজ সম্পুর্ণ শেষ হলে ভবনটির খালের উপরে অবৈধ অংশ ভেঙ্গে ফেলা হবে। নাহলে এই পুরো কাজটাই কোনো সুফল বয়ে আনবেনা।

এ দিকে উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পের ৩৩ শতাংশ কাজ এখনো বাকি রয়েছে। তাই সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ আরো দেড় বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় ও বাড়ছে প্রায় দ্বিগুণ।

সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের এক সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। এ বছর পুরোপুরি জলাবদ্ধতা নিরসন না হলেও আগামী বছর জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করতে পারব। তবে শুধু খাল খনন করলে হবেনা, কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং করা না হলে কোনো ভাবেই এই প্রকল্পের সুফল মিলবেনা।

Check Also

টস জিতে ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড। প্রথম রাউন্ডের …

করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৪

জার্নাল ডেস্ক দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগীর …