চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে নিয়ম মানছেনা দর্শনার্থীরা: নিরাপত্তার অভাবে ঘটছে নানা দূূর্ঘটনা

সাব্বির আহমেদ, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের নান্দনিক সৌন্দর্য মন্ডিত পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে নিয়মনীতি মানছেন না দর্শনার্থীরা। নানা আনন্দ উপভোগের জন্য প্রতিদিনই দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা ভিড় করছেন চট্টগ্রামের এসব দর্শণীয় স্থানে। এক সময় পর্যটকেরা শীত মওসূম কে বেচে নিত দর্শণীয় স্থান গুলো ঘুরে বেড়ানোর জন্য। কিন্তু এখন এখন তা মৌসুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিনিয়তই পর্যটকেরা আসছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য। যার ফলে এখন পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ী সহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। তেমনি অন্যদিকে বেড়াতে আসা অনেক দর্শনার্থী নিয়ম না মানার কারনে মৃত্যূর মুখে পতিত হচ্ছে। দর্শনার্থীদের অসাবধানতার কারনে এ মৃত্যূর মিছিল ধীর্ঘ থেকে ধীর্ঘতর হচ্ছে। আর নিরাপত্তার অভাবে ঘটছে নানা দূর্ঘটনা।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা গেছে গোসলে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মানছেন না পর্যটকরা। পর্যাপ্ত লাইফ গার্ড সদস্য না থাকায় এ বর্ষা মৌসুমে সাগর উত্তালের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত ২২ জুন শুক্রবার সৈকতে গোসল করতে গিয়ে ভেসে মৃত্যু হয়েছে আমেরিকা প্রবাসী এক পর্যটকের। লাইফ গার্ড কর্মীদের দাবি, লাইফ গার্ড কর্মী ও উদ্ধার সরঞ্জামাদি সংকটসহ পর্যটকরা সচেতন না হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে। আর জোয়ার ভাটার নির্দেশিকা না মেনে পর্যটকরা যখন তখন সমুদ্রে গোসল করতে নেমে যায়।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, আগ্রাবাদ শিশু পার্ক, ফয়েজলেক, বহদ্দারহাট স্বাধীনতা পার্ক, জাতী সংঘ পার্ক, কাজীর দেউরি শিশু পার্ক, কর্নফূলী তীরের নেভাল২, মেহেদীবাগ ওয়ার সেমিট্রি, সিআরবি সহ নগরের অনেক বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে দর্শণার্থীদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নির্দেশনা মানছেন না। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। আবার দর্শনার্থীদের বেপরোয়া চলাফেরায় নষ্ট হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রের সুন্দর পরিবেশ।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, নগরীর নেভাল২, ওয়ার সেমিট্রি, সিআরবি, ২নং গেইট পার্ক সহ যে সব অরক্ষিত বিনোদন স্থান রয়েছে সেখানেই সকল শ্রেণীর বেশীর ভাগ দর্শনার্থী অবাধে যাতায়াত করেন। মূলত তারাই কতৃপক্ষের নিদের্শনা মানছেন না বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার কারণে সন্ধ্যার পর এসব স্থানে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হলে ও পর্যটকরা কতৃপক্ষের সেই নিদের্শ মানছেনা। আর এতে ঘটছে খুন খারাবী, চুরি, চিনতাই, অপহরন, ধর্ষন সহ নানা দূর্ঘটনা। গত এপ্রিল মাসে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে রাতের বেলায় দূবৃত্বদের হাতে খুন হন নগরীর সান সাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী তাসফিয়া আমিন। বিষয়টি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। যার এখনো কোন কুলকিনারা হয়নি। সদরঘাট সংলগ্ন নেভাল২ তে গত বছর খুন হন এক যুবক। গত মাসে উদ্ধার করা হয়েছে এক বৃদ্ধার লাশ। তাছাড়া সিআরবি তে গতবছর খুন এক প্রকেীশলী। এছ্ড়াা প্রতিনিয়ত ঘটছে চিনতাই অপহরনের ঘটনা। আবার মেহেদীবাগ বাদশা মিয়া রোড়ের ওয়ার সেমিট্রি (কমনোয়েলথ যুদ্ধ সমাধি)তে দেখা গেছে অনেক দর্শনার্থী এটির পবিত্রতা মানছেন না। সেখানে অবস্থান না করে পায়ে হেটে পরিদর্শনের নিয়ম থাকলে ও অনেক নারী পুরুষ জোড়ায় জোড়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা অবস্থান করে সমাধির পবিত্রতা নষ্ট করছে। শিুশু পার্ক গুলোর ও একই অবস্থা মূলত শিশু পার্ক নামে হলে ও কাজে কারবারে সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষ। এখানে শিুশুদের বিনোদনের পরিবর্তে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে নারী পুরুষের আড্ডা। মানছেনা কতৃপক্ষের নির্দেশ। নগরীর ফয়েজলেকের ও একই অবস্থা কনকর্ডের নিয়ন্ত্রনাধীন এ পার্কে জন প্রতি টিকেট ফি নেয়া হয় ৪০০ টাকা। যার কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন বাচ্চাদের নিয়ে সেখানে যেতে পারেনা। এ ব্যাপারে কনকর্ড কতৃপক্ষ জানান গার্মেন্টস কর্মীদের অবাধে প্রবেশ বন্ধ ও ময়লা আবর্জনা রোধে টিকেটের দাম বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে নগরীর বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে নিরাপত্তার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিএমপির সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন মানবকন্ঠকে বলেন নেবাল২ এলাকায় সন্ধ্যার পর সকল দর্শনার্থীর যাতায়াত নিষিদ্ধ রয়েছে। এর পর ও লোকজন তা মানছেনা। তবে নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
পাচঁলাইশ থানার ওসি বলেন ওয়ারসেমিট্রি একটি সংরক্ষিত এলাকা । কমনোয়েলথ যুদ্ধাদের সমাধিস্থলের পবিত্রতা রক্ষার্থে এখানে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু অনেকে তা মানছেনা।
এদিকে কক্সবাজার সৈকতে দেখাগেছে শুধু সি-গার্ল পয়েন্ট নয়, সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট ছাড়া বাকি ৪টি পয়েন্টেরও একই অবস্থা। উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে সমুদ্র্র স্নানে মেতে ওঠেন পর্যটকরা। যেখানে নেই কোনো লাইফ গার্ড কর্মী ও নিদের্শিকা।
হেনা আহমদ নামে আরেক পর্যটক বলেন, সৈকতে গোসল করতে নামার সময় কোন নির্দেশিকা দেখতে পায়নি। এছাড়াও লাইফ গার্ড কর্মীও ছিল না। আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে জোয়ার ভাটার নির্দেশিকা দেয়া প্রয়োজন।
এদিকে লাইফ গার্ড কর্মীদের দাবি, সাপ্তাহিক ছুটিসহ সরকারি ছুটি দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে স্বল্প সংখ্যক লাইফ গার্ড কর্মী দিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।
ট্যূরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী জানান, জোয়ার-ভাটা নির্দেশ দেয়া থাকলেও তা মানছে না পর্যটকরা। তাই মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকভাবে সাগর উত্তাল থাকে। তাই পর্যটকদের জোয়ার ভাটার নির্দেশিকা মেনে সাগরে গোসল করা উচিৎ বলে তিনি জানান।
লাইফ গার্ড কর্মীদের দেয়া তথ্য মতে, গত ১০ বছরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে গিয়ে মৃত্যূ হয়েছে অর্ধশত পর্যটকের। পর্যটকদের সমুদ্র্র স্নানে নিরাপত্তায় ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থা কাজ করার কথা থাকলেও কাজ করছে মাত্র একটি সংস্থা।

সাব্বির// এসএমএইচ//২রা জুলাই, ২০১৮ ইং ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …