চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে আসছে কোরানের পশু সংকট থাকবেনা জানিয়েছে পশু সম্পদ দপ্তর

সাব্বির আহমেদ,চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেকে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বসেছে সর্ব বৃহৎ কোরবানের পশুর হাট। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সিডিএ আবাসিক এলাকার মাঠে মনোরম পরিবেশে কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে এ পশুর হাট। ইতিমধ্যে এ হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু, মহিষ,ছাগল, ভেড়া সহ কোরবানীর পশু আসতে শুরু করেছে। এ পশুর হাটকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরী সহ পুরো দক্ষিন চট্টগ্রাম সরগরম হয়ে উঠেছে। কারন এটি হল চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় কোরবানের পশুর হাট। এখানে পশু নিয়ে লাখ লাখ ক্রেতারা আসে। অবার তেমনি বিক্রেতাদের ও সমাগম ঘটে। এখানে পশু ক্রয় বিক্রয়ে তেমন ঝুকি ঝামেলা নেই বললেই চলে। নেই কোন চাদঁবাজি বা চিনতাইকারীর ভয়। যাতায়াত ও পরিবহন সুবিদার কারণে নির্বিঘেœ মানুষ এখানে আসছে। চট্টগ্রাম নগরী সহ দক্ষিন চট্টগ্রাম, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা মইজ্জারটেক পশুর হাটে আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীর বিবির হাট এবং সাগরিকাতে বসেছে কোরবানের পশুর হাট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে নগরীর কর্ণফুলী নতুন ব্রীজের দক্ষিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মইজ্জারটেকে সিডিএ আবাসিক এলাকার মাঠে বসেছে কোরবানের পশুর হাট। এ বাজাওে জেলার বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসা শুর করেছে। রোদ বৃষ্টি ও রোগ বালাই থেকে পশুকে মুক্ত রাখতে উপরে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে বড় বড় প্যান্ডেল তৈরী করা হয়েছে, নীচে বিছানো হয়েছে ইট।
মইজ্জারটেক কোরবানের পশুর হাটের ইজারাদার আলী আকবর খাঁন (মামা) জানান এখানে ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিদার্থে খুব সুন্দর ভাবে বাজার বসানো হয়েছে। বাজার এলাকায় মাটিটে বিছানো হয়েছে আট লাখ ইট। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ২০ টি বড় বড় বাচাই নির্মান করা হয়েছে। যাতে পশুর ঠান্ডা না লাগে এবং রোগাক্রান্ত না হয়। কোরবানের পশুর পাশাপাশি পাটার বাজার ও বসেছে এখানে। তিনি জানান রাতে ও বেচা বিক্রির সুবিদার্থে বাচাই গুলোতে ৪ হাজার বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এতে খরচ পড়েছে ৩৫ লাখ টাকা। এবারে পশুর সমাগম ঘটাটে উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলার শতাধিক ডিস লাইনে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। যার কারনে গত কয়েকদিন থেকে কুষ্টিয়া, চাপাই, মাগুরা, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শরীয়তপুর, রাজশাহী, নাটোর, কুমারখালী, ময়মনসিংহ, আলমডাঙ্গা, মেহেরপুর, পাবনা, দিনাজপুর,রংপুর বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ, ভেড়ামারা ও কুমিল্লা থেকে ট্রাকে করে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল আসতে শুরু করেছে। এখান পাঁঠা ছাগলের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। আগামী শুক্রবার থেকে গরুর বাজারও জমজমাট হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন প্রশাসনের নজরদারী থাকায় এবার পথে ঘাটে চাঁদাবাজি বা মাস্তানীর উপদ্রব নেই।
সাগরিকা গরু বাজারের বেপারি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘কোরবানিতে বিক্রির জন্য উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঘরে ঘরে গরু লালন-পালন করা হয়। ঈদের আগে এসব গরু বিক্রি হয়। চট্টগ্রামের মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গরু সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। আবার ওখানকার পালনকারীরাও নিজেদের উদ্যোগে গরু নিয়ে আসেন।’
তিনি জানান, ‘বেনাপোল, কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর, পোকখালী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় গরু আসতে শুরু করেছে। সামনের দুয়েকদিনের মধ্যে এসব গরু চট্টগ্রামে এসে পৌঁছবে।’অন্যদিকে বিবির হাট বাজারে এখনো পাঁঠা ছাগলের বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত সবাই।
নগরীরর স্থায়ী-অস্থায়ী বাজার বাদেও অলিগলি থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমী বেপারিরা গরু নিয়ে এনেছেন। নগরীতে বেশিরভাগ মানুষের গরু রাখার মতো সুবিধা নেই। তাই কোরবানির দুয়েকদিন আগেই মানুষ গরু কিনে থাকেন। অনেকে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরু কিনে ব্যবসায়ীদের কাছে রেখে দেন। কোরবানির আগের দিন গরু নিয়ে যান।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, আসন্ন কোরবানির ৮২ শতাংশ পশুর যোগান থাকবে স্থানীয়ভাবে লালন-পালন করা পশু দিয়ে। বাকি পশু দেশের বিভিন্ন জেলা এবং ভারত-মায়ানমার থেকে আসা পশু দিয়ে চাহিদা মেটানো হবে। চট্টগ্রামে চলতি বছর কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৪১৪টি পশু। স্থানীয়ভাবে চট্টগ্রাম থেকে যোগান রয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৪টি গবাদি পশু। এর মধ্যে গরু ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫০৩টি, মহিষ ৪৩ হাজার ৯২১টি, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য পশু মিলে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১০টি। অবশিষ্ট ৭৩ হাজার ৭৮০টি পশুর যোগান আসবে চট্টগ্রামের বাইরের জেলা থেকে। বিগত বছরগুলোতে ভারত বাদে মিয়ানমার থেকেও গবাদি পশু আসতো।
প্রসঙ্গত ৮দিন পর ২২ আগস্ট পালিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এবারের কোরবানিতে পশুর সংকট থাকবে না বলে জানিয়েছেন পশু সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে বেপারিরা বলছেন-ভারতীয় গরু আসলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন দেশীয় খামারী ও গরু পালনকারী কৃষকরা। কোরবানির পশুর তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকে গরু। তাছাড়া ছাগল, মহিষ, ভেড়া দিয়েও কোরবানি দেয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৫ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …