চট্টগ্রামে অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছেনা পণ্যর দাম: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় ক্যাব

চট্টগ্রাম ব্যূরো:

পবিত্র রমজান মাসে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একাধিক টিম বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলেও বাস্তবে এর কোন সুফল আসছেনা। ভোগান্তি লাঘব হচ্ছেনা ক্রেতা সাধারণের। রমজান মাসে জেল জরিমানা কিংবা লঘুদন্ড দিয়ে কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছেনা সংঘবদ্ধ অসাধু ব্যবসায়ীদের। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান আসলে পণ্যের দর হয় এক রকম আর ম্যাজিষ্ট্রেট চলে গেলে সেই দর হয় অন্য রকম। তাই চলমান বাজর দর নিয়ন্ত্রন, মেয়াদোর্ত্তীণ ও ভেজান পন্য সহ ওজন কারচুপি প্রতিরোধে ভোক্তা ও ক্রেতা সাধারনের পক্ষ থেকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর কমিটি চলমান বাজার মনিটরিং আরো জোরদার ও টিসিবিকে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে ১৩ দফা সুপারিশ প্রেরণ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে।
ভোক্তা ও ক্রেতা সাধারণের অভিযোগ শুধুমাত্র কোন পবিত্র রমজানমাসকে ঘিরে নয়, সচরাচর সাময়িক অসুবিধাকেও পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দামবৃদ্ধির অশুভ তৎপরতায় লিপ্ত থাকে। তাই সারা বছরব্যাপী বাজার মনিটরিং টিম চলমান থাকুক। পাশাপাশি পণ্যের ডিমান্ড, ইমপোর্ট ও সাপ্লাই বিষয়ে ফোরকাস্ট থাকবে এবং তা সবসময় আপডেট হবে। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে না। জানা যায়, পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ও কাপড়ের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রাসনের নেতৃত্ব সিটি কর্পোরেশন, আইন শৃংখলা বাহিনী, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিদপ্তর, কৃষি, প্রাণী সম্পদ, মৎস্য, জেলা বাজার কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও ক্যাবের সমন্বয়ে সমন্বিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চলছে। চলমান এ বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসাবে গত ৩ মে ব্যবসায়ী, ক্যাব ও সরকারী দপ্তর সমুহের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৯ মে থেকে মাঠ পর্যায়ে বাজার মনিটরিং শুরু করা হয়।
সুপারিশ গুলোর মধ্যে রয়েছে পবিত্র রমজান মাসে সার্বক্ষনিক বাজার মনিটরিং এর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব প্রদান, বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পানি, বেকারী, মুড়ি, ঘি এর হালনাগাদ তালিকা সংগ্রহ করে এ সমস্ত খাতে অবৈধ ফ্যাক্টারী ও কোম্পানীগুলির বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং টিম চলাকালীন সময়ে ব্যবস্থা নেয়া, দেশের বৃহত্তম পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জে পাইকারী ও খুচরা পণ্যের রশিদ সংগ্রহ করে পণ্যমূল্য পর্যালোচনা করা। যাতে করে ব্যবসায়ীরা পাইকারী ও খুচরা বাজারের মূল্য পার্থক্য নিয়ে কারসাজি করতে না পারে।
এছাড়াও দেখাগেছে অধিকাংশ কাপড়ের দোকান গুলিতে নিদিষ্ঠ মূল্য তালিকা থাকে না। কাপড়ের দোকানে কোড প্রথা তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে ফিক্সড প্রাইস প্রথা চালু করা। তাছাড়া খুচরা ও কাঁচা বাজারগুলিতে সব সময় পাইকারী দোকানের সাথে মূল্য পার্থক্য অত্যধিক বেশী থাকে। তাই বাজার মনিটরিং চলাকালে মূল্য বেশী আদায়কারী ব্যবসায়ীকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদানের জন্য মালামাল জব্দ করে মালগুলি এতিম খানায় দিয়ে দেবার ব্যবস্থা করা।
মোবাইল কোর্টের অভিযান প্রতিদিন একই সময়ে না করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রয়োজনে বিকাল ও সন্ধ্যার পর অভিযান পরিচালনা করা, মাঝে মাঝে বাজারে তাক্ষনিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা, বাজার মনিটরিং এ মোবাইল কোর্টের সময় কাল বাড়ানো। দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে অবস্থান করলে অনেক অনিয়ম সম্পর্কে খোজ খবর সহজে পাওয়া যাবে।
এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন বাজার থেকে মাংস, মাছ, মুরগীর বাজার থেকে ওজনে কম দেবার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, বিএসটিআই অফিসকে দিয়ে প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমান আকারে ডিজিটাল স্কেলগুলি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা।
প্রায় অভিযানে দেখা যায় যখন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় অধিকাংশ দোকানের মালিকে পাওয়া যায়না। ম্যাজিস্ট্রেট তখন মালিককে না পেয়ে কর্মচারিকে লগু সাজা দেয়। এ অবস্থায় মালিককে পাওয়া না গেলে দোকান সিলগালা করে দিয়ে, প্রকৃত শাস্তির নিশ্চিত করতে হবে।
চট্টগ্রামের বৈধ অবৈধ পানির ফ্যাক্টরীগুলিতেই দেখা যায় আবেদিত একটি কপি, মোবাইল কোর্টকে পদর্শন করে বোকা বাানোর চেষ্টা করে। তাই ৬০ দিনেরও বেশী সময় ধরে আবেদিত প্রতিষ্ঠানগুলির আবেদন বাতিল করা প্রয়োজন।
রংপুর-বগুড়া থেকে সেমাই, নুডুলস, মুড়ি, ঘি,সহ নানা খাদ্য আইটেম সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে এনে নতুন ভাবে রি-প্যাকিং করে বাজারজাত করে থাকেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এর কারনে পণ্য নকল-ভেজাল হবার সম্ভাবনা প্রচুর, তাই এই রি-প্যাকিং বন্ধ করার ব্যবস্থা করা দরকার।
রমজানের সময় বড় বড় মাকের্ট গুলির সামনে অবৈধভাবে ভাবে পার্কিং গড়ে উঠে এবং এগুলো ইজারা প্রথা চালু হয়। এছাড়াও রমজান উপলক্ষে ফুটপাত গুলিতে অবৈধ খাবারের দোকান গড়ে উঠে। তাই এই পার্কিং পদ্ধতি ও ফুটপাতে খাবারসহ যে কোন দোকান বন্ধ করা হলে যানজট কিছুটা কমবে।
এদিকে টিসিবি বাজারে থাকবে বলে বানিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণাও কোন কাজে আসছেনা। তারা কোথায় কোথায় ট্রাক সেল ও ডিলারের মাধ্যমে কোথায় কোথায় পণ্য বিক্রি করছে তার তালিকা সকলকে জানানোর ব্যবস্থা করা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর কেন্দ্রীয় ভাইসপ্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন জানান চলমান বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রনে ১৩ দফা সুপারিশেরে সবই জনস্বার্থে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাস্তবায়ন করা হলে ভোক্তা ক্রেতারা এর সুফল পাবে।
চট্টগ্রামে অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছেনা
পণ্যর দাম: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় ক্যাব

সাইফুল//এসএমএইচ//১৯শে মে২০১৮ ইং ৫ই জ্যৈষ্ঠ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …