চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে ডায়রিয়া ও জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব

 চট্টগ্রাম ব্যুরো ॥

চট্টগ্রাম নগরীর মধ্যে হঠাৎ করে ডায়রিয়া ও জন্ডিসের প্রকোপ বেড়েছে। গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর এলাকায় প্রায় ঘরের মধ্যে ডায়রিয়া জন্ডিসের রোগী পাওয়া যাচ্ছে। হঠাৎ একটি এলাকার মধ্যে পানিবাহিত রোগ বেড়ে যাওয়াতে বিষয়টি তদন্তে রোগততত্ব-রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্টান (আইইডিসিআর) থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম চট্টগ্রামে এসেছেন। তদন্ত টিম এলাকা ঘুরে রোগী সনাক্ত ও রোগের সঠিক কারণ অনুষ্ঠান করছেন।
হালিশহরের বিভিন্ন এলাকার খবর নিয়ে জানা যায়, হালিশহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় ডায়রিয়া ও জন্ডিস রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এসব এলাকার মধ্যে সবুজবাগ, নয়া বাজার এলাকা, উত্তর আগ্রাবাদ ঈদগাহ, বউ বাজার, রামপুর, পানির কল, নয়াবাজার বিশ্ব রোড, উত্তর মধ্যম হালিশহরসহ আশপাশের এলাকার রোগের প্রদুভাব বেশি। এসব এলাকার বিভিন্ন ঘরে ঘরে জন্ডিস ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। এদিকে গত এপ্রিলে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ৮৯৩ জন রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৬০০ জন ছিল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এর মধ্যে তিন শতাধিক রোগী ছিলেন হালিশহর এলাকার। আর হেপাটাইটিস-ই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন ১২ জন। যাদের বয়স ১৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। এ সময় একজন গর্ভবতী নারীও আক্রানবত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ওয়াসার পানি ৩০ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে পান ও ব্যবহার করা। পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে গর্ভবতী মা-শিশুসহ সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাস্তার পাশের শরবত খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং বাসি খাবার না খাওয়া। আর হঠাৎ এসব রোগের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতন হলেই এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
এদিকে আইইডিসিআর থেকে আসা ৫ সদস্যের দলটি গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আসেন। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তদন্ত টিম বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে ২৫ জন রোগী শনাক্ত করেন। এছাড়া তদন্ত টিম সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রায় অর্ধশত রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করে। এসব স্যাম্পল ঢাকায় নিয়ে রোগ, রোগের ধরণ ও কারণ নির্ণয় করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব বিষয়ে জানা যাবে। তাছাড়া এ দলটি হালিশহরের বিভিন্ন এলাকার পানির স্যাম্পলও সংগ্রহ করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের টিমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইইডিসিআর এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মনজুর ই ইলাহি, ডা. মারুফ ও ডা. হোসাম।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, পানিবাহিত জন্ডিস ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে হালিশজর সবুজবাগ এলাকার মানুষ। বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৫ জন জন্ডিস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আর রোগীর স্যাম্পল ও কিছু এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো টেস্ট করার পরই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জানা যাবে আসল কারণ। এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একটু সচেতন এবং পানি ফুটিয়ে খেলেই এ রোগ থেকে মুক্ত থাকা যাবে।
তিনি বলেন, সীতাকুন্ডের বিআইটিআইডি হাসপাতালে এপ্রিলে ৮৯৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ জন ছিল ডায়রিয়া রোগী। তার মধ্যে তিন শতাধিক রোগী ছিলেন হালিশহর এলাকার। হেপাটাইটিস-ই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন ১২ জন রোগী। তাদের বয়স ১৫-৪০ এর মধ্যে। একজন গর্ভবতী নারীও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
এদিকে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিছু গ্রাহকের নিকট থেকে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের অভিযোগ পাওয়ার পর ওয়াসার সার্ভে টিম ওয়াসার পানি বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় পানিতে কোনও প্রকার জীবাণু পাওয়া যায়নি। কিন্তু সার্ভেতে গ্রাহকের পানি রিজার্ভারের সাথে সেপটিক ট্যাংকের সংযোগ পাওয়া যায়। ফলে রিজার্ভারের পানি সংক্রমিত হচ্ছে। নগরীর গ্রাহকদেরকে তাদের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড ও ওভারহেড রিজার্ভার পরিস্কারকরণ (জীবার্ণমুক্তকরণ) এবং পানি ফুটিয়ে খাওয়ার জন্য অনুরোধ জাানানো হয়।

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …