চট্টগ্রামে চামড়া নিয়ে দুঃচিন্তায় আড়তদাররা

সাব্বির আহমেদ,চট্টগ্রাম:

কোরবানির তিনদিনের মধ্যেই টার্গেট পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করেছে চট্টগ্রামের কাঁচাচামড়া আড়তদাররা। তবে চামড়া আড়তদাররা বলছেন, ‘মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বা ফড়িয়াদের কারণে এবার আমরা লাভের মুখ দেখবো না। লাভ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’ অন্যদিকে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে চামড়া কেনায় অনেক ফড়িয়াও বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন- এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঈদের দিন থেকেই নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার আড়তগুলোতে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে আনা হয়েছে। এসব চামড়ার গায়ে লেগে থাকা অপ্রয়োজনীয় মাংস ছাঁটাই করছেন আড়তদারের লোকজন। পরিষ্কার করার পর চামড়ায় লাগনো হচ্ছে লবণ। লবণজাত চামড়াগুলো সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আড়তে আসা সবগুলো চামড়া লবণজাত করে সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজতকারণ করা হয়েছে। চামড়া দ্রুত পছনশীল হওয়ার কারণে ৭/৮ ঘণ্টার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হয়। তাই চামড়া আড়তে আসার সাথে সাথেই লবণজাত করার কাজে নিয়োজিত হন শ্রমিকরা। সংরক্ষণ করা এসব চামড়া দুইতিন সপ্তাহের মধ্যে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি শুরু করবে আড়তদাররা।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, টার্গেট অনুযায়ী চামড়া আড়তে রাখা হয়েছে। এখন চলছে এসব চামড়ার সংরক্ষণ কাজ। পুরো চট্টগ্রামে প্রায় ৪শর মতো গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে চামড়াগুলো প্রক্রিয়াজতকরণ করে রাখা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি চামড়া প্রক্রিয়াজত করণে ৫ কেজি লবণ লাগে। এগুলো সংরক্ষণের জন্য কর্মচারী লাগে। সবমিলিয়ে একটি চামড়া যদি কেনা খরচ ৫০০ টাকা হয়, সেই চামড়া প্রক্রিয়াজকরণ পর্যন্ত খরচ পড়বে ৮০০ টাকা। সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, সেটা লবণযুক্ত চামড়ার দাম। সে দামে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনে।
সাধারণত মৌসুমি ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা ফড়িয়াদের হাত হয়েই মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদাররা। আড়তদাররা সে চামড়া লবণজাত করে সংরক্ষণ করার পর ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। তবে কোরবানির ঈদ আসলেই মাঠ পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের উৎপাত থাকে বেশি। সরকারিভাবে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা থাকলেও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতি লাভের আশায় বেশি চামড়া সংগ্রহের জন্য কখনো কখনো দামও বেশি দিয়ে থাকেন। আবার লবণজাত চামড়ার দামে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কিনেন কাঁচা চামড়া। এতে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হয় তাদের।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, টার্গেট অনুযায়ী চামড়া আমাদের সংগ্রহে চলে এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখের বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ চামড়া আতুরার ডিপোতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি চামড়াগুলো বিভিন্ন জায়গায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১৫/২০ দিন পর ঢাকার পার্টি যখন আসবে তখন এসব চামড়াও আড়তে নিয়ে আসা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার বেশি দাম দিয়েছে। প্রতিযোগিতা করতে করতে গিয়ে তারা চামড়ার বেশি দাম দিয়েছে। তারা প্রতিটি চামড়া ৫৫০ থেকে ১১০০ টাকা দিয়েছে। আমরা চামড়াগুলো ভালো রাখার জন্য ২০/৫০ টাকা বেশি দিয়েই কিনছি। তার উপর লবণ খরচ ও কর্মচারীদের বেতন আছে। সরকার নির্ধারিত দাম আছে, সে দামে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবে। এরচেয়ে দাম বেশি দিবে না। সব মিলিয়ে এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে।

সাব্বির// এসএমএইচ//২৬শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ১১ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …