চমেক হাসপাতালে নিয়মনীতি মানছেনা এম্বুলেন্স চালকরা রোগী ও মরদেহ বহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

সাব্বির আহমেদ, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম বাসীর চিকিৎসা সেবার অন্যতম অবলম্বন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এম্বুলেন্স চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। রোগী ও মরদেহ পরিবহনে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে প্রতিদিনই তাদের স্বজনদের সাথে এম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এ হাসপাতাল থেকে কোন একজন মূমূর্ষ রোগী বা মরদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় স্বজনরা ভাড়া নিয়ে এম্বুলেন্স চালকদের রোষানলের শিকার হতে হচ্ছে। দুরত্ব ব্যবধান না ভেবে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া চেয়ে বসে। এতে অনেক মূমূর্ষ ও গরীব রোগী নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিতে না পেরে মৃত্যূ মূখে পতিত হচ্ছে। আবার বাহির থেকে কোন এম্বুলেন্স রোগীর স্বজনরা ভাড়া করে নিয়ে আসলে সেটি হাসপাতালে ঢুকতে দেয় না চালকরা। চমেক হাসপাতাল এলাকায় রয়েছে তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যারা তাদের এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে তাদের রীতিমত নাজেহালের শিকার হতে হচ্ছে।
এম্বুলেন্স চালকদের এ জিম্মিদশা ও রোষানল থেকে মুক্তি পেতে চমেক হাসপাতাল কতৃপক্ষ কয়েকটি নীতিমালার আলোকে ২৬ জন অ্যাম্বুলেন্স চালক ও ব্যবসায়ীকে পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। শুধু এ ২৬টি অ্যাম্বুলেন্স ও মরদেহবাহী গাড়ি চমেক হাসপাতালে ঢুকতে পারবে।
চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতাল থেকে রোগী ও মরদেহ পরিবহনের নীতিমালা গত সাম থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকর করা হয়। এ জন্য চালকদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া হয়। শর্ত পূরণ করেছে মাত্র ২৬ জন। তাদের অ্যাম্বুলেন্স করে রোগী ও মরদেহ পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখাগেছে ১৩১৩ শয্যার চমেক হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে ৩ হাজারের বেশি। বহির্বিভাগে রোগী আসে আরও ২ হাজারের মত। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন রোগী মারা যায়। এসব মরদেহ বহন ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারন মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে জমজমাট অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য চলছিলো।
হাসপাতাল কতৃপক্ষ মানবকন্ঠকে বলেন এম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে যে হয়রানির অভিযোগ আসতো তা একেবারে কমে যাবে। এখন নীতিমালা হওয়ায় কেউ বেশি ভাড়া আদায় করতে পারবে না। অভিযোগ পেলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
তিনি জানান, নীতিমালা অনুযায়ী এসব অ্যাম্বুলেন্স সিরিয়াল অনুসারে ভাড়ায় যাওয়া এবং নির্ধারিত ভাড়া আদায় করবে।
রোগীর স্বজনেরা বলছেন, নীতিমালা কার্যকর হলে ও চালকদের হয়রানি এখনো বন্ধ হয়নি। চকরিয়ার হারবাং এর বাসিন্দা রুবেল সিকাদার মানবকন্ঠকে জানান সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে কয়েকদিন পূর্বে চমেক এর অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি হই। ১০ দিন পর ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি যাবো কিন্তু চালক ৭ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করে। একই অভিযোগ নগরীর ওয়াসা মোড়ের বাসিন্দা মাষ্টার সামশুল আলমের। তিনি বলেন চমেক হাসপাতালের হার্ট বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরার জন্য এম্বুলেস ভাড়া করতে গেলে চালক দেড় হাজার টাকা ভাড়া দাবি করে। অতচ হাসপাতাল থেকে ওয়াসার দূরত্ব দেড় কি:মি:। স্বজনদের অভিযোগ নীতিমালা কার্যকর না থাকার কারণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এম্বুলেন্স চালকরা।
চমেক হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন কর্মচারীর দায়িত্বে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কক্ষ চালু রাখবে। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলোর তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে লিপিবদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়াও গাড়িগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিং ও সর্বোচ্চ পাঁচটি গাড়ি পার্কিংয়ে অবস্থান করতে পারবে। অপেক্ষমাণ গাড়িগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী ভাড়া পাবে।
উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম আরো বলেন, নীতিমালা অনুসারে আমরা অ্যাম্বুলেন্স চালক কাম ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট শর্ত দেই। শর্ত পূরণ করেছে ২৬ জন। আরও যারা শর্ত পূরণ করবে তাদের মরদেহ বহন করার অনুমতি দেওয়া হবে।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী এম হামিদ হোসাইন মানবকন্ঠকে বলেন চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী বা মরদেহ বহনে এক সময় হাসপাতালে নিজস্ব এম্বুলেন্স ছিল। তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক শ্রেণীর অসাধূ ব্যক্তি এটিকে পূঁজি করে পুরাতন এম্বুলেন্স এনে ভাড়া দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। তিনি বলেন ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনই রোগীর স্বজন ও চালকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন। নীতিমালা হলেও তা কার্যকরে কোন উদ্দ্যোগ নেই কতৃপক্ষের।
চমেক হাসপাতাল রোগী কল্যান সমিতির সভাপতি হাফেজ আমান উল্লাহ বলেন হাসপাতালের রোগী ও মরদেহ পরিবহনের এ সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। সমিতির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের সাথে বারবার বৈঠক হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কতৃপক্ষ গত মাসে এম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে একটি নীতিমালা চালু করেছে। কিন্তু চালকরা তা মানছেনা না বলে রোগীদেও কাছ থেকে অভিযোগ আসছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//২রা জুলাই, ২০১৮ ইং ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …