ভুয়া সাইনবোর্ড লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বসুমতী আনোয়ারা সিটি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সরকারের সকল নির্দেশ উপেক্ষা করে ভুয়া হাউজিং কোম্পানী গঠন করে প্লট বিক্রির নামে বছরে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বসুমতী আনোয়ারা সিটি কর্তৃপক্ষ। আনোয়ারা মৌজা ঝিউরী ও বরুমছড়া এলাকায় কিছু জায়গা ক্রয় করে ঐ জায়গার ওপর চোখ ধাধানো সাইনবোর্ড লাগিয়ে কিস্তিতে প্লট বুকিং দিয়ে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা কালেকশান করে বসুমতী আনোয়ারা সিটি।চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ বাদামতলী জে এম ভবন দ্বিতীয় তলায় আকর্ষণীয় অফিস সাজিয়ে অফিস কর্মকর্তা নামক কিছু দালাল বসিয়ে মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে প্লট বুকিং দিয়ে কিস্তির টাকাগুলি ভাগ বাটোয়ারা করে প্রতারণা করে আসছে। আনোয়ারা ঝিউরী গ্রামের প্রাক্তন মহিলা মেম্বারের জামাই দালাল মহিউদ্দিনকে দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করানো হয়। হীরাঝিল প্রপার্টি নামক কোম্পানী বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ও বসুমতী আবাসিক প্রকল্প নামক ঢাকায় একটি প্রকল্প শুরু করে বিগত বিশ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সব জেলার লোকদের থেকে হাতিয়ে নিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এক কথায় বাংলাদেশে হীরাঝিল প্রপার্টি কোথাও কোন প্রজেক্ট করতে পারে নাই, করেও নাই। শুধু প্রতারণাই করে গেছে। বসুমতী আনোয়ারা সিটির কোন অনুমতিপত্র নেই, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কোন ছাড়পত্র নেই, সিডিএ এর অনুমতি নেই, এমনকি একটি কাল্পনিক লে আউট প্ল্যান বানিয়ে প্লট দেখিয়ে বুকিং দিচ্ছে আর টাকা নিচ্ছে।
অত্র কোম্পানির বর্তমানে কোন জায়গাও নেই। প্রকল্প দেখানোর জন্য সর্বমোট রেজিস্ট্রি ও বায়না মিলে সর্বমোট বিশ কানি জায়গা ক্রয় করেছিল। দালাল লাগিয়ে তার স্ত্রী বাঁশখালীর বউ ফরিদাকে দিয়ে সব জায়গা বিক্রি করে দিয়েছে। তার এক কড়া জায়গাও নেই। এমনকি সাইড অফিসসহ সব জায়গা বিক্রিত।
স্থানীয়রা বলছেন, আনোয়ারা ভূমি অফিসে গিয়ে খোজ নিলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। এই কোম্পানির ফাদে পড়ে ১০০০ গ্রাহকের ৪০ কোটি টাকা বসুমতীর পেটে। মাজার গেইট থেকে পশ্চিমে গিয়ে যে ভরাট করা সাইড দেখাচ্ছে সেইখানে এক সাথে ৭ কানির জায়গা বিক্রিত জায়গা। যাদের কাছে জায়গা বিক্রি করেছে তাদের সাথে চুক্তি হয়েছে জায়গাটি ভরাট করে দেবে দখল দেবে ৫ বছর পর।
ঢাকায় এখনো ক্রেতারা ক্ষুব্ধ। ক্ষতিপূরণসহ টাকা ফেরতের দাবিতে প্রতিদিন হন্য হয়ে খুজে বেরাচ্ছে, আর ঢাকার অফিস, ঠিকানা, প্রকল্প সব বিলীন। কোন নাম ঠিকানা খুজেও পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ খোজাখুজি করে চট্টগ্রামের অফিস পর্যন্ত এসে গেছে।
এই ধরনের ভুয়া, বেআইনী প্রকল্প বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রতারণা, দুর্নীতি, মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছাড়া কোন কিছুই করে নি বসুমতী আনোয়ারা সিটি কর্তৃপক্ষ।

সাব্বির// এসএমএইচ//২৪শে জুন, ২০১৮ ইং ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …