জনি ডেপ-অ্যাম্বার হার্ড: মামলার রায়

বিনোদন ডেস্ক :

জনি ডেপ! ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোসহ নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জিতে নেয়া এক অসাধারণ অভিনেতা। তিনি ১৯৮০ সালে টিভি সিরিজ ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’-এর মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। অন্যদিকে অ্যাম্বার লরা হার্ড ‘ফ্রাইডে নাইট লাইট’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয় জীবন শুরু করেন। তবে ২০০৬ সালে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ‘অল দ্য বয়েস লাভ ম্যান্ডি লেন’ সিনেমায়।

‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ সিনেমাখ্যাত অভিনেতা জনি ডেপ ও অ্যাম্বার লরা হার্ডের মধ্যে পরিচয় ২০০৯ সালে। ‘দ্য রাম ডায়েরি’ সিনেমার শুটিং সেটে তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এরপর দীর্ঘ চার বছর তারা চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০১৪ সালের মেট গালাতে বাগদান সারেন জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড। পরের বছর লস অ্যাঞ্জেলেসে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এই জুটি। বিয়ের দেড় বছর পর জনি ডেপের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় তাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২০১৬ সালে ডিভোর্সের আবেদন করেন অ্যাম্বার। অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০১৬ সালের আগস্টে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ডিভোর্স নিষ্পত্তি করেন আদালত।

একে অপরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা
বিচ্ছেদের দেড় বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় নারীদের নির্যাতন নিয়ে অ্যাম্বার হার্ড একটি বই লেখেন। মতামতধর্মী সেই লেখায় অসুখী দাম্পত্যজীবনের নানা কথা তুলে ধরেন ‘অল দ্য বয়েজ লাভ ম্যান্ডি লেন’ ছবির মাধ্যমে প্রথম দর্শকমনে স্থান করে নেয়া অ্যাম্বার। মতামতধর্মী ওই লেখায় জনি ডেপের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি অ্যাম্বার। জনি ডেপের দাবি ওই লেখার মাধ্যমে তার সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছেন এবং তাতে তার মানহানি হয়েছে।
পরে ২০১৯ সালে অ্যাম্বার হার্ডের এ লেখার কারণে তার বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানহানি মামলা করেন জনি। পরে পাল্টা ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেন অ্যাম্বার।

সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় জনি ডেপ সব অভিযোগ অস্বীকার; অ্যাম্বারের বার্তা প্রকাশ
জনি ডেপ দাবি করেন, তিন বছরের (২০১৫ থেকে ২০১৭) যৌথ জীবনে তিনি কখনোই অ্যাম্বারের গায়ে হাত তোলেননি বা তার ওপর যৌন নির্যাতন চালাননি। তবে অ্যাম্বারকে পেটানো বা তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করলেও অ্যাম্বার পুরোনো কিছু টেক্সট মেসেজ তুলে আনায় বিব্রত হতে হয় জনি ডেপকে। সেই বার্তার জন্য লজ্জিত হয়ে জনি বলেন, বার্তাগুলো পাঠিয়েছিলাম খুব কষ্টের সময়।

মামলায় যে রায় এলো
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাবেক স্ত্রী আম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় জিতলেন মার্কিন অভিনেতা জনি ডেপ। আদালতের জুরি সদস্যরা জানিয়েছেন, আম্বার যে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ জনির বিরুদ্ধে এনেছিলেন, তা মিথ্যা এবং অবমাননাকর। অ্যাম্বারকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন জনি ডেপকে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা) পরিশোধ করতে। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা) জরিমানা এবং বাকি ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা) শাস্তি হিসেবে ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় হারার পর অ্যাম্বারের প্রতিক্রিয়া
‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’খ্যাত অভিনেতা জনি ডেপের করা মানহানির মামলায় হেরে গেছেন অ্যাম্বার হার্ড। হারার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন এই অভিনেত্রী। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাম্বার বলেছেন, ‘মামলায় হারাটা হৃদয়বিদারক। তিনি যোগ করে বলেন, ‘আমার সাবেক স্বামীর অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষমতা, প্রভাব ও প্রভুত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য পাহাড়সম প্রমাণ থাকার পরও তা যথেষ্ট ছিল না বলে আমি দুঃখিত।’ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেডলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে যখন রায় পড়া হচ্ছিল, তখন অ্যাম্বার মাথা নিচু করে ছিলেন। এরপর রায় ঘোষণা শেষে অ্যাম্বার তার আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতকক্ষ ছেড়ে চলে যান। সূত্র: নিউজউইক

Check Also

টস জিতে ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড। প্রথম রাউন্ডের …

করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৪

জার্নাল ডেস্ক দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগীর …