জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং -খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কয়েকদিন যাবৎ নগরীতে বৃষ্টির চিত্র দেখা মিলছে।কোথায় কোথায় ভারী বৃষ্টি পাতের প্রভাবে জলাবদ্ধতাও দেখা দিয়েছে শহরের নিম্নাঞ্চল গুলোতে। তারই প্রেক্ষিতে দূর্ভোগে দিন যাবন করতে নগরবাসীরা। তবে ভারী বর্ষণে পাহাড়ের যে আচরণ তা কিন্তু দূর্ভোগেরও হার মানায়। কারণ বর্ষায় দিন গুলোতে পাহাড়ের নরম মাটি ধসে মৃত্যুর তাৎপরতা দেখা মিলে। নগরীতে এ ভারী বর্ষণের পাহাড় ধসের হাত থেকে প্রাণহানি ঠেকাতে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মাইকিং কার্যক্রম থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝানো, আইন প্রয়োগসহ নানা চেষ্টা করে চলেছে প্রশাসনের কর্তারা। এই ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যােগ।

কয়েকদিন ধরে অনেক পরিবার জেলা প্রশাসনের খোলা আশ্রয় কেন্দ্রে ও আশপাশে আশ্রয় নিলেও অনেক কে পাহাড় থেকে সরে আসতে অনীহা দেখা দিয়েছে।

তবে জানা গেছে, নগরীর ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের কে ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তৎপর হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আশ্রয় কেন্দ্র চালু হলে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসলেও কেউ কেউ তাদের ঘরবাড়ি ফেলে আশ্রয় কেন্দ্রে সরে আসতে সম্মতি প্রকাশ করেন নি। কেউ বা মুষলধারে বৃষ্টি না হওয়া কে অজুহাত হিসাবে দাড় করিয়ে অাসতে চান না আশ্রয় কেন্দ্রে।

তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা, মতিঝর্ণা, বাটালি হিল, পোড়া কলোনী, একে খান পাহাড়, আমিন জুট মিল সংলগ্ন পাহাড়, ভেড়া ফকিরের পাহাড়, টাংকির পাহাড়, খুলশী, আকবর শাহ, পাহাড়তলি, ফয়েজ লেকের রেলওয়ের মালিকানাধীন কনকর্ড গ্রুপের লীজের ঝিল-১, ঝিল-২, ঝিল-৩, সী ওয়ার্ল্ড এলাকার শান্তিনগর, জিয়া নগর, মধ্যম নগর, মুজিবনগর এলাকা, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোড এলাকার মানুষকে যদি একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে অানা যায় তা নিতে মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হাসান চট্টগ্রাম বলেন, ‘পাহাড়ে বসবাসকারীতের ঝুঁকিতে থাকতে হয় এ ভারী বর্ষের সময় তবে আমাদের প্রচেষ্টা তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্র ও আশপাশের নিরাপদ এলাকায় আশ্রয়ে নিয়ে আসা। তাই আমরা মাইকিং কার্যক্রম চালু রেখেছি সব সময় এবং নিয়মিত প্রত্যেকের ঘরে ঘরে গিয়ে নিরাপদে সরে আসার অনুরোধ করছি। সে সাথে পাহাড়ে বসবাসকারী অনেক পরিবার নিরাপদে সরে আসতে রাজি হয়েছে এবং বাকীদেরও নিরাপদ অাশ্রয়ে অানতে কার্যক্রম জারি থাকতে।”

তাছাড়াও এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘ বর্ষার মৌসুমে পাহাড় ধসের দিকটা সবাই জানে তাই এ প্রাণহানির হাত থেকে পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ সরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব। তবে এ ধরনের কার্যক্রমে আমরা সারা বছরি তৎপর থাকি। কিন্তু ভারী বর্ষণে সেটা আরও জোরদার করা হয়। যাতে পাহাড় ধসে কোন প্রাণহানি না ঘটে। তাই ভারী বর্ষণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমরা নগরীর ৬টি সার্কেলের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নিরাপদে সরিয়ে এনে তাদেরকে এই আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হবে।”

বিডিজা৩৬৫/এনএস/ এনআর

Check Also

আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

জার্নাল ডেস্ক : বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও স্বাধীনতাপদক প্রাপ্ত লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে …

মালয়েশিয়ার যাত্রায় সেন্টমার্ন্টিনে ৩৩ রোহিঙ্গা আটক

জার্নাল ডেস্ক : সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের বঙ্গোপসাগরে শিশুসহ ৩৩ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ …