ঢাকায় আসছেন কসোভোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কসোভোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রেশনিক আহমেতি পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। তিনি আগামী ৯ অক্টোবর ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন।

আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।কসোজানা গেছে, কসোভোকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো হচ্ছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে দুদেশের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) অনুষ্ঠিত হবে। বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা নিয়ে আলোচনা হবে।

কসোভোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে দুদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমিকে প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে। কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা যাতে ভিসা ছাড়াই চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উন্নয়ন, দ্বৈতকর পরিহার এবং জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে চুক্তি করা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা হবে।

ক্রেশনিক আহমেতি বাংলাদেশ সফরকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া, তিনি জাতীয় জাদুঘরও পরিদর্শন করবেন। ঢাকায় ফরেন অফিস কনসালটেশনে যোগ দেবেন। তিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কসোভো: উন্নয়ন, রাষ্ট্র গঠন ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।

এছাড়া, কসোভোর উপমন্ত্রী ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এম খালিদ, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গেও তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

কসোভো ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এককভাবে সার্বিয়া থেকে নিজেকে স্বাধীন দেশ বলে ঘোষণা করে। সার্ব ও আলবেনিয়ার বাসিন্দাদের স্থবির সম্পর্কের মধ্যে এই স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সাবেক যুগোশ্লাভিয়া নব্বইয়ের দশকে ভেঙে গেলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আলবেনিয়ার জনগোষ্ঠীর ওপর নিষ্ঠুর অভিযান চালায় সার্বিয়া। ১৯৯৯ সালে ন্যাটো সামরিক অভিযান চালালে সার্বিয়ার নিষ্ঠুরতার অবসান ঘটে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত আলবেনিয়ান অধ্যুষিত কসোভোতে জাতিসংঘের অধীনে শাসন কাজ পরিচালিত হচ্ছিল। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে স্বীকৃতি আদায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়া ও সার্বিয়ার প্রবল আপত্তির মধ্যে ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে কসোভোকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। স্বীকৃতির পর বাংলাদেশে দূতাবাস চালু করে কসোভো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো স্বীকৃতি দিলেও সার্বিয়ার শক্তিশালী সমর্থক রাশিয়া কসোভোকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

বাংলাদেশের আগে ১১৩ দেশ কসোভোকে স্বীকৃতি দেয়। ৫৬ জাতির ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ৩৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ কসোভোকে স্বীকৃতি দিলে সার্বিয়া ও রাশিয়া সরকারি পর্যায়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কর্ণপাত করেনি ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তি দেখান যে, বাংলাদেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে বিধায় বিশ্বের স্বাধীনতাকামী কসোভোর স্বাধীনতাকেও বাংলাদেশ স্বীকৃতি দিয়েছে।

Check Also

টস জিতে ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড। প্রথম রাউন্ডের …

করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৪

জার্নাল ডেস্ক দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগীর …