তিনি ভ্যান চালাতেও ওস্তাদ- চলতে চলতে হলো নৌকার প্রচার

বিজয় মন্ডল:

আশির দশকের গোড়ার দিকে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলো গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের ‘আমি এখন রিক্সা চালাই ঢাকা শহরে’ গানটি। দেড় যুগ পরও গানটির আবেদন একটুও কমেনি।

গানটির বিষয় নিয়ে ফকির আলমগীর বলেছিলেন, ‘‘গানটি শুধুমাত্র একটি গানই নয়, সমাজ বদলের হাতিয়ার।

যাহোক সারা দেশের কয়েক লক্ষ্য মানুষ এই পেশাটির সঙ্গে যুক্ত। শতাংশের হিসেবে তা শ্রমজীবীদের একটি বিরাট অংশ। বলা বাহুল্য সল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনে রিকশা বা ভ্যানের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

সামাজিক চিত্রের বাস্তবতায় এই রিকশা বা ভ্যান চালকদের একটু নিম্ন শ্রেণীর মানুষ হিসেবে মনে করে থাকেন অনেক মানুষ।  কিন্তু কোন ভাবেই তা কাম্য নয়। একথা বিভিন্ন সময়ে প্রমান করেছেন, বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী এবং রাজনীতিবিদরা। তারা তাদের অধিকার নিয়ে, সমাজে তাদের অবদান নিয়ে কথা বলেছেন।

এবার সেরকমই একজন রাজনৈতিকের দেখা মিললো শ্যামনগর কালিগঞ্জ আংশিক সংসদীয় আসনের নওয়াবেঁকী এলাকার প্রধান সড়কে। সোমবার প্রখর তাপের মধ্যে যে কিনা একজন সংসদ হয়েও যাত্রী নিয়ে ভ্যান চালিয়ে অনেক পথ অতিক্রম করলেন কোন প্রকার দ্বিধাহীন ভাবেই।

নিজ নির্বাচনী এলাকায় একজন উচ্চ পদধারী জনপ্রতিনিধি হয়েও এভাবে রাস্তায় যাত্রী নিয়ে ভ্যান চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তার ব্যতিক্রমী উদ্দেশ্যের কথা জানা গেল।

তিনি অকপটে বললেন, ভ্যান রিকশা শ্রমিক হোক কিম্বা কুলি, মজুর, অথবা সাংসদ সবাই একই মানুষ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় কোন বৈষম্য থাকবে না। মানুষে মানুষে থাকবে না কোন ভেদাভেদ।
সেই দৃষ্টিকোন থেকেই শ্রমিক জনতার কাতারের এসে, মানুষের অন্তরের বৈষম্যের বিষবৃক্ষ দূরকরা ছিল তার প্রথম উদ্দেশ্যে।

তাছাড়া প্রান্তিক এলাকার এ মানুষদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে চলা দেশের বড় বড় মেগা প্রকল্প গুলো সম্পর্কে জানানো, দেশের ব্যাপক অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো এবং সর্বপরি দেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রগতি চলমান রাখতে সবার কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করা ছিল তার মোক্ষম উদ্দেশ্যে।

এভাবে যাত্রী নিয়ে নিজে ভ্যান চালিয়ে চলতে চলতে সংসদ জগলুল হায়দার আগামি নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকা প্রতিককে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করার আহবান জানান। এবং মমতাময়ী শেখ হাসিনার জন্য সবার কাছে প্রানভরে দোয়া চান।

একজন সাংসদের এমন কির্তি দেখে ভ্যানের যাত্রী সহ আশপাশের শতশত জনতা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, তারা শেখ হাসিনা এবং সাংসদ জগলুল হায়দারের জন্য প্রানভরে দোয়া করেন।

উল্লেখ্য এমপি জগলুল হায়দার বিভিন্ন সময়ে কৃষক, শ্রমিক, জনমুজুর, মাঝি হয়ে সবার সাথে মিশেই নৌকার প্রচার করে চলেছেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন।  তার নেতৃত্বে দক্ষিণ বাংলার এ জনপদ এগিয়ে চলছে দূর্বার গতিতে।

তার সহজ সরল ভাষ্য
“মোর নাম এই বলে ক্ষ্যাত হোক
আমি আমি শেখ হাসিনার লোক”

সবশেষে সাংসদ জগলুল একথাও বললেন যে, আগামীতে আমার এমপি হওয়াটা বড় কথা নয়। কিন্তুু ক্ষুধা ও দারিদ্রতা মুক্ত উন্নত বঙ্গবন্ধুর সপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার কোন বিকল্প নেই

সাব্বির// এসএমএইচ//৩রা জুলাই, ২০১৮ ইং ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …