‘থাই আদা’ ভবিষ্যতের অর্থকড়ি ফসল

এম এম খালেদ

তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি স্থানে আদা চাষের ব্যাপক ফলন হয়। আদা মূলত এক ধরনের উদ্ভিজ্জ মূল। মশলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম। আদা খাদ্য শিল্পে, পানীয় তৈরিতে, আচার ও সুগন্ধী তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

আদা প্রাচীন মশলাগুলোর একটি যা এশিয়া থেকে ইউরোপে রপ্তানী করা হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিস ও রোমানদের মধ্যে আদার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই জাতের আদা চাষ করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয় ও থাই জাতের আদা রয়েছে। থাই জাতের আদা বেশি করা হয়ে থাকে কাপ্তাই উপজেলায়। এ জাতের আদা সাইজে বড় হয়ে থাকে। রাঙামাটি কৃষিবিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ৩৬,৪০০ মেট্টিক টন আদা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। হেক্টর প্রতি ১৩ মেট্টিক টন। কিছু কিছু স্থানে আদায় পচন ধরেছে।পচন রোধে বিষশোধন করা জরুরি।

এ ব্যাপারে কৃষিবিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। আদার বাজার জাত ও স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করার জন্য চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌর সদরের পশ্চিম পাহাড়ে আদা চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। জানা যায়, অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষকদের মধ্যে আদা চাষের আগ্রহ বেশি। থাইল্যান্ড থেকে বীজ এনে পাহাড়ের পাদদেশে উঁচু এলাকায় আদা রোপণ শুরু করেন পৌরসভার এক ব্যবসায়ী। প্রথম বছরে ফলন ভালো হওয়ায় উৎসাহ বেড়েছে এখানকার চাষীদের মাঝে।

এই এলাকায় উর্বর পাহাড়ি মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার ও আশানুরূপ বৃষ্টি হওয়ার কারণেই সব সময় উপজেলার উঁচু জমিতে আদার চাষ ভাল হয়। থাইল্যান্ডের আদা দেখতে সুন্দর স্বাদ ও বেশি এবং বাংলাদেশের মাটিতে ফলন ও হয়েছে বেশি।

ব্যবসায়ী নুরুল আবছার জানায়,সখ করে থাইল্যান্ড থেকে আদা বীজ এনে পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করেছি। থাইল্যান্ডের আদা দেখতে অনেক সুন্দর এবং খেতেও বেশি স্বাদ বলে জানান তিনি। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের আদার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, দেখা যায়,আদা চাষ পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। পাহাড়ের পাদদেশে ও উঁচু জমির মাটিতে, অনুকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার ও আশানুরূপ বৃষ্টি হওয়ার কারণেই সব সময় এই উপজেলায় আদার চাষ ভাল হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে থাইল্যান্ডের আদা চাষে ফলন,চাষীদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, থাইল্যান্ডের আদা এ দেশের পাহাড়ী এলাকা গুলোয় ফলন হয়েছে ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানান চাষীরা। এমনই এক আদাচাষি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাহাড়ে থাই আদার ফলন হয়েছে অনেক বেশি।

কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মতে, চাষিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে থাইল্যান্ডের আদার চাষ করা গেলে এই উপজেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে লাখ লাখ টন আদার উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানান। থাই আদার বিপুল বাজার রয়েছে বিদেশে। রন্ধন শিল্পে আদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মসলা হিসেবে স্থান অধিকার করে রয়েছে।

আদার চাষ সংরক্ষণ ও বিপণনে মুন্সিয়ানাসহ বিদেশে রপ্তানী করার সূদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এ খাতটিকে এগিয়ে নিতে হবে। এর প্রেক্ষিতে উৎপাদন বাড়াতে হবে। বর্তমান সময়ে আমদানিকৃত আদার ৬৫ শতাংশই আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। চীন থেকে আসে মাত্র ৩২ শতাংশ। বাকি ৩ শতাংশ আসে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ভিয়েতনাম মাদাগাস্কার থেকে।

বিডিজা৩৬৫/আহা

 

Check Also

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ১৭৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল খেলায় জয়-পরাজয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন। …

কাউন্সিলর সালেহ আহমদ চৌধুরীর উদ্যোগে ২৪ ঘন্টা নাগরিক সেবা

জার্নাল ডেস্ক নাগরিক সেবা প্রদানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর …