দুই চাকায় বাঁধা জীবন

নাজমুল রাতুল:

বাইক রাইডার। রাজপথের ‘আনসাং হিরো’। হেলমেট ধারী বাইক রাইডারকে দেখতে কী মনে হয় তারা জীবনযুদ্ধে নেমেছেন? প্রতিনিয়ত জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে তারা যাত্রী নিয়ে ছুটে চলেন রাজপথে,আয়ের সন্ধানে।এতেই তাদের জীবন নির্বাহ হয়।পরিবারের খরচ মেটাতে তারা এ পথ বেছে নিয়েছেন অনেকটা ইচ্ছা করেই।কারণ উপার্জনের পথ বের করাই বুদ্ধিমানের কাজ।এতে হয়তো তাদের পরিবারের অনেকে বিষয়টি জানেনও না। নীরবে নিভ্রিতে তারা জীবনের ভার বয়ে চলেছেন।

বাইক রাইডারদের নিয়েই আজকের প্রতিবেদন –
দীপু।ভালো নাম বলতে চান না।গত দুই বছর ধরে বাইক চালান।বাড়ি রাউজান। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন বাইক নিয়ে। পোশাক দেখে চেনার উপায় নেই তিনি বাইক রাইডিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সকালে আসেন রাতে বাড়ি ফেরেন।নতুন বিয়ে করেছেন। আমাদের প্রতিবেদকের সাথে তার আলাপ হয়,যাত্রী হিসেবে। পথ চলতে চলতে তিনি শেয়ার করেন তার জীবনের অনেকগুলো না জানা কথা।

দেবপ্রিয় বাবুঃ অফিস ছুটি মাঝরাতেই। এপসে রিকোয়েস্ট একসেপ্ট দেখে একটু বিস্মিত হতে হলো। ৫০-৬০ বছর বয়সী রাইডার। হেলমেট খুলতে বেরিয়ে এলো তার কাঁচাপাকা চুলগুলো বুঝা গেলো রাতের বিশ্রাম তুলে রেখে তিনি অর্থ উপার্জনেই রাজপথে নেমেছেন।বাইকটা ছেলের।ছেলে অফিসে চাকুরি করছে।সন্ধ্যার পর দেবপ্রিয় বাবু বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।এতে কোন সময় হাজার খানেক টাকা আয় হলেই তিনি ঘরে ফিরে যান। এ আয় দিয়ে সংসারে ছেলেকে তিনি সহযোগিতা করে থাকেন।এ আয় দিয়ে তিনি তার ছেলে কে সহযোগিতা করে থাকেন।অদ্ভুদ এ সংসার।

স্মার্ট বাইক রাইডার শান্তনু। স্যার কোথায় যাবেন? ২ নং গেট থেকে আগ্রাবাদ। ৮০ টাকা চাইলেন তিনি। যাত্রীর অনীহা দেখে বললেন স্যার ওঠুন।যা দেন।ভাববেন না।বেশী দিতে হবে না। বাইকে চড়তেই হেলমেট চাপিয়ে দিলো মাথায়। স্যার হেলমেট পড়ে নিন। নয়তো মামলা খাবো।পুলিশ গুলো বেশি বেয়াড়া।টাকা নিতে না পেরে রং পার্কিং মামলা দেয়। আল্লাহ ওদেরকে ক্ষমা করবে না।

ফাইল ছবি

জিজ্ঞেস করতেই শান্তনু জানালো, বাইক চালাতো তরুণরা।এখন মধ্যবয়সী রাইডাররাও যোগ দিয়েছেন। ভালোই। সামাজিক অবস্থানে কোন ঝামেলা নেই। যাত্রীরা অন্তত আমাদের অসম্মান করেন না। সমীহ করেন। আমরা যে অভদ্র ঘরের নই সে ব্যাপারে যাত্রীরা সচেতন।

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক(অবঃ) অধ্যাপক সুনীল কান্তি জালদাস বিডিজার্নালকে বলেন, আমরা সাধারণত কয়েকটি পেশাকে কর্ম মনে করি। যেমন, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, ডাক্তারি, হাসপাতালের নার্সিং,পুলিশ ইত্যাদি ।আসলে কর্ম এসবে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রতিটি পেশাই কর্ম এবং স্বীকৃত । আমাদের চিন্তা চেতনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি কারণে আমরা কিছু পেশা ছাড়া বাকি পেশাগুলোকে আড়চোখে দেখি। অথচ উন্নত দেশগুলো শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশাল একটা শ্রেণি রাইডশেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা সবার সমান।

বিডিজা৩৬৫/আহা

Check Also

বান্দরবানে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ২, আহত ৭

জার্নাল ডেস্ক : বান্দরবানের পর্যটকবাহী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই জন নিহত হয়েছেন। …

সেনেগালে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১১ নবজাতক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : আফ্রিকার দেশ সেনেগালের তিভাউন শহরে একটি সরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে …