দুই দিনের বিরামহীন বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দুই দিনের বিরামহীন বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর নি¤œাঞ্চল ফের জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একটানা ভারী বর্ষণে ডুবে গেছে নিম্নাঞ্চল। সড়কের উপর দিয়ে গড়িয়ে যায় পানি। আবার কোথাও কোথাও পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরীর একাধিক সড়ক বৃষ্টির পানিতে কাদা জমে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অফিস আদালত, কলকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্টান ও ঘর মূখো মানুষের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্টান গামী শিক্ষার্থীরা ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। নগরীতে হঠাৎ দেখা দেয় গনপরিবহন সংকট। ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কে দাড়িয়ে থেকে গাড়ি পাচ্ছেনা মানুষজন। বৃষ্টিও পানির কারনে নগরীরর কয়েকটি জায়গায় স্কুল কলেজ বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে বেড়ে গেছে তরিতরকারি সহ নিত্য পণ্যের দাম। অতি বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, রেয়াজউদ্দিন বাজার, কাজিরদেউরি বাজার, কর্ণফুলী মার্কেট ও ফইল্লাতলী বাজাওে বেড়ে গেছে মৌসুমী তরিতরকারি ও শাক সব্জি সহ নিত্য পন্যেও দাম।
গত রবিরার সন্ধ্যা থেকে বিরামহীন বৃষ্টিতে নগরীতে এ বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। থেমে থেমে কিছুক্ষন পর পর বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। এতে রাতেই অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে অতি বৃষ্টির কারনে একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে। নগরীর পাহাড়তলী, ফয়েজলেক, অক্সিজেন, ডেপারপার, মতিঝর্ণা, বাটালিহিল, টাইগারপাশ, সিআরবি, জয়পাহাড় এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বাদিরা।
সরজমিনে নগরী ঘুরে দেখা গেছে সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হাইওয়ে রোড, বড়পুল হয়ে নিমতলা বিশ^রোড,মুরাদপুর-অক্সিজেন রোড়, বহদ্দারহাট-কালুর ঘাট রোড় নয়াবাজার হালিশহর রোড় ও শাহ আমানত সেতু সড়কের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। রবিবার মধ্যরাতে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও সোমবার বেলা ১টা থেকে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এর পর থেকে বৃষ্টি আর থামেনি। বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হয় নগরীর বিভিন্ন এলাকা।
নগরীর হালিশহর, নয়া বাজার, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, ওয়াসার মোড় থেকে ষোলশহর ২ নম্বর গেট পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকা, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ডিসি রোড, মিয়া খান নগর, পোড়া ভিটাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ভারী বর্ষণের সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বাকলিয়া, বড়পুল,ছোট পুল ও আগ্রাবাদের কোন কোন এলাকায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পােিনতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। সিডিএ আবাসিক এলাকাও বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়। আবাসিক এলাকায় বসবাসকারি শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। নিচ তলার অধিকাংশ বাসায় পানি প্রবেশ করে। একই এলাকার এক্সেস রোডের অবস্থাও ছিল একই রকম। এমনিতেই সড়কটির বেহাল দশা, তার ওপর হাঁটু পানি। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে হালকা যান চলাচল এক প্রকার বন্ধই রযেছে।কিছু কিছু যান চলাচল করেছে অনেক কষ্টে। রিকশার অর্ধেকই ছিল পানির ভিতর। ট্যাক্সি চলাচল করেছে খুবই কম।
ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকাও পানিতে ডুবে যায়। জিইসি মোড় থেকে দুই নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত উভয় দিকে রাস্তার উপর ছিল পানি। যানবাহন চলাচল করেছে ধীরগতিতে। বহদ্দারহাট থেকে চকবাজার পর্যন্ত এলাকার কয়েকটি স্থানে রাস্তার উপর পানি উঠে যায়। কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় স্থানীয়রা দুর্ভোগে পড়েছেন। চাক্তাই খাল উপচে পড়ে পানি উঠে যায় রাস্তায়। মিয়াখান নগর, ডিসি রোড, পোড়া ভিটা এলাকায়ও বৃৃৃষ্টির পানি জমে আছে সড়কে। পানি জমে যাওয়া এসব সড়ক গুলোতে অন্তত কয়েকশ’ ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ি চলছে হেলে দুলে। ২ ফুট পর পর গর্ত। গর্তের ভেতর পানি জমে আছে। এ রাস্তা পার হতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা না থাকলেও এখন লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি।
মুরাদপুর মোড় থেকে বহদ্দারহাট মোড় পর্যন্ত সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার পিচ ঢালাইও উঠে গেছে। গাড়ি চলাচল করছে ধীর গতিতে। বহদ্দারহাট থেকে আরাকান সড়কেরও একই অবস্থা। এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে। এ সড়কে গতকাল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বহদ্দারহাট থেকে রাহাত্তারপুল-কালামিয়া বাজার হয়ে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও কাহিল। এ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে কয়েকশ’ গর্ত। রাস্তার একপাশও ভেঙ্গে গেছে।
অপরদিকে ব্যস্ততম বড়পুল হয়ে নিমতলা বিশ^রোড় পর্যন্ত সড়কের আরো করুন দশা। পুরো সড়কটি এখন গর্ত সৃষ্টি হয়ে গেছে।
নগরীর জিইসি মোড়ের বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা কলেজ ছাত্র আরোয়ার হাদি জানান, আগ্রাবাদ যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছেন। নগরীর ওয়ারল্যাস মোড় থেকে জিইসি আসা টেম্প যাত্রী ফেরদৌস আহমেদ বলেন, আধা ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে একটি টেম্প পেয়েছেন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে তিনি এসেছেন।
নগরীর ৮ নং রুটের বাস চালক মিজান জানান, বৃষ্টির কারনে বিভিন্ন খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বাস চালাতে কষ্ট হয়। তাই অনেকে আজ গাড়ী বের করেনি। ফলে পরিবহন সংকট হয়েছে।এদিকে গণপরিবহন সংকটের কারনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি ও রিকসা চালকরা।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছ,২৪ণ্টায় ৭৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছো।আবহাওয়া অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার মো: রুবেল মানবকন্ঠকে জানান, আগামী ২৪ ঘন্টা গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত হতে পারে।তবে কোন ভারী বৃষ্টিপাতের আশংকা নেই। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …