দ্রুতগতিতে ঘর নির্মাণ কাজ চলছে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য

চকরিয়া-পেকুয়া প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে মাথাগোজার ঠাঁই দিতে সরকারের নেয়া প্রকল্পের আওতায় পেকুয়ার টইটংয়ে ঘর নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।ঘর নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ভুমি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডিং ১নং খাস খতিয়ানের আওতাধীন ভূমি।

সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডেও আছে জঙ্গল শ্রেণী হিসাবে। অথচ ফেইসবুকে কবরস্থান ও পাহাড় বলে অপ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় ভূমিদস্যূ। এ ভূমিতে ঘর করার জন্য উপযোগী করতে উঁচু-নিচু অংশকে খনন করে সমতল করা হচ্ছে। অথচ ফেইসবুকে কবরস্থান ও পাহাড় বলে অপ-প্রচার চালানো হচ্ছে। মাটি খননকে ইস্যূ বানিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে কতিপয় ভূমিদস্যূরা বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের ভূল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো হয়েছিল। যা মহৎ কাজে বিঘ্ন ঘটানোর শামিল।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত ভূমিতে ঘর নির্মাণ উপযোগী করতে উচুঁ-নিচু জমিটি খননপূর্বক সমতল করা হচ্ছে।

নির্মাণাধীন স্থানে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির খবরে স্থানীয়রা এসে জড়ো হন। মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ভূমি টইটং ইউনিয়নের টইটং মৌজার জালিয়ার চাং এলাকায়।

স্থানীয় অধিবাসী কাইছার,আনছারুল ইসলাম,মিনার হোসেন ও ফজল করিম জানান, আমরা মনে করেছিলাম এ জমি বন-বিভাগের আওতাধীন। এ কারণে মাটি খননে আপত্তি জানিয়েছিলাম। আপত্তির ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয় এসে আমাদেরকে জমির মালিকানা সম্পর্কে খোলাসা করেন। এর পর পরই আমরা আমাদের আপত্তিটা উঠিয়ে নিই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ মহৎ কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে ঘর নির্মাণ কাজে যাবতীয় সহযোগিতা দিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

বয়োবৃদ্ধ নজির আহমদ জানান, এ জমি এতদিন ধরে আমরা ধারণ করে আসছিলাম বন-বিভাগের মনে করে। কিন্তু জানতাম না এটি ১ নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত জঙ্গল শ্রেণীর। আর এ ভূমির উত্তর পাশে কবরস্থান। ইউ এন ও মহোদয় সরেজমিন এসে কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষার্থে ৩০ ফুট মত জায়গা রেখে সীমানা প্রাচীর দেয়ার ও কবরস্থানে চলাচল করার জন্য রাস্তা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ মহৎ কাজে বাঁধা নয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের আপত্তি তুলে নিয়েছি এবং পাশাপাশি সংবাদকর্মীসহ সবাইকে আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ জানাবো আসুন প্রতিবন্ধকতা নয় সরকারের এ মহৎ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।

অন্যদিকে শীলখালী ইউনিয়নে সদ্য নির্মিত ঘর ভূমি ও গৃহহীনদের মাঝে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে  উপকারভোগীদের। নির্মিত ঘরগুলি পাহাড়ের পাশে নিয়মিত হওয়ায় পাহাড় ধ্বসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বর্ষা শুরু হওয়ায় ভারি বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের শংকায় গাইড ওয়াল ঘরগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাইড ওয়াল নির্মাণের চিন্তা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছে।

গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাথার গোজার ঠাঁয় ঘর পাওয়া উপকারভোগী শারমিন আকতারসহ বেশ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় ও ইউ এন ও ম্যাডামের সহযেগিতায় আমরা এ ঘর পেয়েছি। আমরা নামাজ ও কোরআন শরীফ পড়ে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করব আল্লাহর কাছে।

টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গত কিছুদিন ধরে কতিপয় ভূমিদস্যূরা জালিয়ার চাংয়ের জমিটি বন-বিভাগের বলে অপ-প্রচার চালিয়ে আসছিল। আমার নজরে আসার পর মাননীয় ইউ এন ও পূর্বিতা চাকমা মহোদয় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ আল-জিনাত মহোদয়কে নিয়ে সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টিকে খোলাসা করে ভূমিহীনদের জন্য মুজিব বর্ষের ঘর তৈরি করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আদৌ এ ভূমিটি বন-বিভাগ বা পাহাড় শ্রেণীর নয়। এটি সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানের জঙ্গল শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত ভূমি। কতিপয় ভূমিদস্যূরা জমিটি জবর দখল করতে সংবাদকর্মীদেরকে ভূল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল।

উপজেলা ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা (কানুনগো) জানায়, এটি সরকারের নামে রেকর্ডীয় ১ নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত জঙ্গল শ্রেণীর জমি। এটি বন-বিভাগের পাহাড়ী জমি নয়। সুতরাং এ বিষয়ে কেউ বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

Check Also

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছোট-বড় সব ঋণে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৫% মরাটরিয়াম সুবিধা দিয়েছে

জার্নাল ডেস্ক : বৃহৎ শিল্প, এসএমই, কৃষি ঋণসহ সকল ধরনের ছোট বড় ঋণে পরিশোধিত ঋণের …

অ্যাকাউন্টের তথ্য সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার

তথ্য ও প্রযুক্ত ডেস্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানাসহ অন্যান্য বিষয় কে বা কারা দেখতে …