নওগাঁর আত্রাইয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে মামলা দায়ের করানো অভিযোগ, পুলিশ আতঙ্ক

0

বিডিজার্নাল নওগাঁ প্রতিনিধি :

নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রায় ৯৫ বছর বয়সের এক বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ছেলে নানান ভয়ভীতি দেখিয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা দায়েরের পর বৃদ্ধা মা দেলজান বেগমের ভরনপোষণকারি ছোট ছেলে মো: তবিবরকে (৩২) মারপিট করে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই পরিবার পুলিশ আতঙ্কে ভুগছে এবং নিহতের পরিবার জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। 
শুক্রবার দুপূরে সরোজমিনে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা রাইপুর গ্রামের ডাঙ্গাপাড়া। ডাঙ্গাপাড়ার দরিদ্র জহির উদ্দীনের প্রায় বিশ/বাইশ বছর আগে মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় স্ত্রী দেলজান বেগম, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। সংসারের অভাব অনটনের মধ্যে বড় দুই ছেলে পৃথক হয়ে সংসার শুরু করেন। সেই থেকে ১০/১১ বছর বয়সের ছোট ছেলে মো: তবিবর অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে মা দেলজান বেগমকে সেবাযতœ করে আসছেন। এমতাবস্তায় গত মঙ্গলবার সকালে দেলজান বেগম অসুস্থ্য হন। দ্রুত স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাও দেয়া হয়। কিন্তু বিকেলে অসুস্থ্য জণিত কারণে দেলজান বেগম মারা যান বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মৃত দেলজান বেগমের বড় মেয়ে হালিমা বেগম জানান, একই গ্রামের বাড়ি হওয়ায় দুপূরে তার বৃদ্ধা মায়ের তাদের বাড়ি যায়। তখন অসুস্থ্য অবস্থায় সেবা যতœ করে মায়ের বাড়ি রেখে যাই। বিকেলে আবারও অসুস্থ্য হয়ে গেলে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি চলাকালে মায়ের মৃত্যু হয়। মা দেলজান বেগমকে তার ভাই মো: তবিবর হত্যা করেছে এমন মিথ্যা সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ব্যাপক মারপিট করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, তার মাকে যদি তার ভাই মারপিট করতো তাহলে তাকেও বললেন না। অথচ পুলিশ কি ভাবে জানলেন তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। 
মৃত দেলজান বেগমের একই ভাতিজা ইমরান ইসলাম ডাবলু জানান, যানাজা শেষে সন্ধ্যায় পরিবার ও গ্রামবাসি দেলজান বেগমের দাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এমন সময় হঠাৎ আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো: বদরুদ্দোজার নির্দেশে একদল পুলিশ সন্ত্রাসী কায়দায় তবিবরকে আটক করে দেলজান বেগমের মৃতদেহ থানায় নিয়ে যায়। রাতে দেলজান বেগমের মৃতদেহ ফেরত ও তবিবরকে ছেড়ে দেয়া হবে এমন সংবাদ দিয়ে ঘটনার রাতে তবিবরের সংবাদ দেয় থানা পুলিশ। পুলিশের সংবাদে ভিত্তিতে গ্রামবাসি ও তবিবরের বড় দুই ভাইকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তবিবরকে ছেড়ে না দিয়ে তবিবরের বড় ভাই দেলবর হোসেনকে হত্যা মামলা দায়েরের চাপ দেয় ওসি মো: বদরুদ্দোজার। দেলবর হোসেন মামলা দায়ের না করায় সারারাত থানায় আটক করে মামলা নানান ভয় ভীতি দেখিয়ে পরদিন বুধবার সকালে জোর করে একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করান পুলিশ। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তবিবরকে।  
মৃত দেলজান বেগমের মেঝ ছেলে ও কথিত মামলা বাদি দেলবর হোসেন জানান, পুলিশ সারারাত তাদের আটকে রেখে হত্যা মামলা করতে বলে। তিনি মামলা দায়ের না করলে পুলিশ তাদের পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন মামলায় জড়জড়িত করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেবে এমন হুমকি দিয়ে মামলা রেকর্ড করাতে বাধ্য করেন থানা পুলিশ। এরপর থেকে পুলিশ আতঙ্কে রয়েছেন তারা। তিনি আরো জানান, তারা গরীর পরিবার হওয়ায় কিভাবে তার ছোট ভাইকে জামিন করাবেন সেই চিন্তাই তাদের পরিবার এখন চিন্তিত।
পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত তবিবরের স্ত্রী সালমা বিবি জানান, পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত তবিবরের হৃদক্রিয়ার জণিত সমস্য রয়েছে। পুলিশের সাজানো মামলায় তবিবরকে গ্রেফতার ও মারপিট করা তবিবরের স্ত্রী জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, পুলিশ ভয় দেখিয়ে গেছেন- কোন মিডিয়া সংবাদ প্রচার হলে তার স্বামীকে রিমান্ডে নিয়ে কি করা হবে তো বুঝতেই পারছেন। এ ছাড়া মামলা নিহতের ময়নাতদন্ত রিপোর্টসহ সমস্ত রিপোর্ট পুলিশের পক্ষে নিয়ে তাদের পরিবারের পরিস্থিতি ভয়াবহ করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষে।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বদরুদ্দোজা জানান, লাথি মেরে মাকে হত্যার তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে গত বুধবার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পুলিশের হয়রানি করার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি জানান, ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে দেলবর হোসেন বাদি হয়ে হত্যা মামলা করলে তবিবরকে নওগাঁ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। 

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ // ১৬ জুলাই ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.