নিজেকে এবার ছাড়িয়ে যাবেন মোস্তাফিজ

ক্রীড়া ডেস্ক :

বাংলাদেশের যেসব ক্রিকেটার দেশে ভাল খেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও বরাবর পারফর্ম করে এসেছেন তাদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান অন্যতম। দেশের এই দুই রত্ন এবারের আইপিএলেও নিজেদের পরিচয় দিয়ে চলছেন। তবে সাকিবের ভাগ্য এক্ষেত্রে ভাল। তার পারফরম্যান্সে ভর করে দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। হারের বৃত্তে আটকে থেকে তালিকার তলানিতে মুম্বাই। তবে দল খারাপ করলেও কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের বলের ধার কমেনি একটুও। বরং তার সুযোগ আছে নিজের আগের কীর্তি ছাড়িয়ে যাওয়ার।

আইপিএলে প্রথমবার খেলতে এসেই বাজিমাত করেছিলেন মোস্তাফিজ। ২০১৬ সালে হায়দ্রাবাদে যোগ দেন তিনি। সেবার দলটিকে শিরোপা জেতাতে তার বাঁহাতি পেসের বড় ভূমিকা ছিল। ১৬ ম্যাচ খেলে ১৭ উইকেট পেয়েছিলেন। প্রথম অভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সেবছরই তিনি আইপিএলের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান।

এবছর মুম্বাইয়ে যোগ দিয়েছেন দ্য ফিজ। গেলবার সেভাবে খেলার সুযোগই পাননি বলতে গেলে। কিন্তু এবার যেন প্রথম আসরের সেই ফর্মটাই ফিরিয়ে এনেছেন। তবে নতুন দলে জয়টাই সোনার হরিণ। ছয় ম্যাচ খেলে মাত্র ১টিই জয়। কিন্তু মোস্তাফিজ তার দক্ষতা দিয়ে উজ্জ্বলতা ছড়াচ্ছেন। প্রায় প্রতি ম্যাচেই তিনি ভাল পারফর্ম করেছেন।

আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মোস্তাফিজরা মুখোমুখি হয়েছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের। ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচটি প্রায় হাতের মুঠোয় এনে ফেলেছিল মুম্বাই। শেষ ওভারে ৭ রানের প্রয়োজন ছিল। মোস্তাফিজ প্রথম তিনটি বল ডট দিয়েছিলেন। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম বলে একটি করে ৬ ও ৪ মেরে ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই।

দ্বিতীয় ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ডেথ ওভারে দারুণ বল করেন মোস্তাফিজ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য হায়দ্রাবাদের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র ১ রান খরচায় ২ উইকেট নেন। এই ম্যাচটি শেষ বলে হারে মুম্বাই। মোস্তাফিজ ২৪ রান খরচায় ৩ উইকেট পেয়েছিলেন। এটিই আইপিএলে এখন পর্যন্ত তার সেরা বোলিং।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষেও ভাল বল করেছিলেন মোস্তাফিজ। তবে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ম্যাচ হারে মুম্বাই। দিল্লির জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১ রান। মোস্তাফিজের সেই ওভারের প্রথম দুই বলে ৪ ও ৬ মেরে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে দলটি। তবে এর পরের তিন বলে কোন রান দেননি। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় এক রান নিয়ে ম্যাচ জেতে দিল্লি।

তবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙালুরুর বিপক্ষে নিজের আইপিএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে বল করেছিলেন মোস্তাফিজ। মুম্বাইয়ের দেওয়া ২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১৬৭ রানই তুলতে পারে বেঙালুরু। দল প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র জয়ের দেখা পায়। সেদিন মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়েছিলেন, পাননি কোন উইকেট।

রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষেও খুব বেশি ভাল বল করেননি মোস্তাফিজ। শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য দলটির প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ একটি উইকেট পেলেও দেন ১৫ রান। শেষ দুই ওভারে ২৮ রান তুলে ম্যাচটি জেতে রাজস্থান। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ৩৫ রান খরচায় ১ উইকেট পান।

হায়দ্রাবাদের সাথে দ্বিতীয় সাক্ষাতেও দারুণ বল করেছিলেন মোস্তাফিজ। ৩.৪ ওভার বল করে মাত্র ১৮ রান খরচায় ১ উইকেট পান তিনি। দলটিকেও মুম্বাই আটকে রাখে ১১৮ রানে। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ম্যাচটি ৩১ রান হারে দলটি।

এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের খেলা ৬টি ম্যাচই খেলেছেন ফিজ। মোট ৭ উইকেট পেয়েছেন। লিগ পর্বের প্রায় অর্ধেক ম্যাচ শেষ। আর বাকি আছে আটটি ম্যাচ। মুম্বাইয়ের অন্যতম স্ট্রাইক বোলার মোস্তাফিজ যেভাবে খেলছেন তাতে ২০১৬ সালে নিজের ১৭ উইকেটের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা আছে তার। কোয়ালিফায়ারে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ৮ ম্যাচে ২টির বেশিতে হারার সুযোগ নেই মুম্বাইয়ের। আর তা সম্ভব হলে মোস্তাফিজ আরো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। এখন পর্যন্ত যা আভাস তাতে প্রথম মৌসুমের ১৭ উইকেট ছাড়িয়ে যেতেই পারেন ফিজ। সেই উদ্দেশ্য সামনে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় চেন্নাইয়ের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ তার ও তার দলের।

সাব্বির// এসএমএইচ//২৮শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১৫ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …