পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে কুটার পাড়া মোহাম্মদ নগর এলাকায় নদীর তীরে চলছে শুঁটকি তৈরির ধুম । ছবি- বিডিজা৩৬৫

পটিয়ায় নানা প্রজাতির শুঁটকি উৎপাদনে ব্যস্ত শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের শুঁটকির জনপ্রিয়তা সারা দেশে। আর এখন শুঁটকির মৌসুম। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার  জিরি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে কুটার পাড়া মোহাম্মদ নগর এলাকায় নদীর তীরে চলছে শুঁটকি তৈরি। ধুম পড়েছে নানা প্রজাতির শুঁটকি উৎপাদনের।প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন শ্রমিকরা। আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে এসব শুঁটকি চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। শীতকালে বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়।

চাহিদাও এই সময় বেশি থাকে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা । চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে এই শুঁটকি। তাই প্রতি বছর হালকা শীতে শুঁটকি তৈরির ধুম পড়ে চট্টগ্রামের সাগরপাড়ে। চট্টগ্রামের শুঁটকি পল্লীগুলোতে দিনভর চলে শুঁটকি শুকানোর কাজ।

প্রতিদিন সূর্যের তাপে এসব এলাকার বিভিন্ন স্পটে ছোট-বড় ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির মাছ শুকানো হচ্ছে। নভেম্বরের শুরুতে কদর বেশি থাকে ছোট জাতের শুঁটকির। আর বড় শুঁটকির মৌসুম শুরু হবে বেশি শীতে। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় দ্রæত শুকায় শুঁটকি। এজন্য বছরের এ সময়ে শুরু হয় শুঁটকি তৈরির উৎসব। একটু বড় আকারের শুঁটকির জন্য বাঁশ দিয়ে ‘চাঙ’ সাজানো হয়। আর ছোট জাতের শুঁটকি শুকাতে তৈরি করা হয় মাচাঙ। চট্টগ্রামের শুঁটকির সুখ্যাতি রয়েছে দেশ-বিদেশজুড়ে। বছরের ১০ মাস শুঁটকি উৎপাদন হলেও নভেম্বর থেকে মার্চ পয়ন্ত বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুঁটকি পল্লীতে শুঁটকি শুকানো হচ্ছে কয়েক ধাপে।

প্রথমে মাছের পেট থেকে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে একটি দল। আরেক দল পেট কাটা মাছ ধুয়ে নিচ্ছে পানিতে। কেউ সেই ধোয়া মাছ শুকাচ্ছে কেউবা হালকা শুকানো মাছে লাগাচ্ছে লবণ। এরপর শুঁটকি শুকাতে দেয়া হয় চাঙে। প্রকারভেদে শুঁটকি শুকাতে সময় লাগে এক থেকে তিন সপ্তাহ। শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, এখানে কোনও প্রকার ফরমালিন ও মেডিসিন ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। স্বাদের মতো নামেও বৈচিত্র্য আছে এখানকার শুঁটকির। এখন যেসব মাছের শুঁটকি বেশি তৈরি হচ্ছে তার মধ্যে আছে ছুরি, ফাঁইস্যা, লইট্টা, লাক্ষ্যা, কোরাল, রূপচাঁদা, পোয়া ও ছোট-বড় মিশালি জাতের শুঁটকি। শুঁটকি উৎপাদক মোহাম্মদ করিম মানবকন্ঠেকে বলেন, কোনও প্রকার ফরমালিন ছাড়াই এখানে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। রোদে শুকিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি। শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত ইমন নামে এক শ্রমিক বলেন,শীতকালে শুঁটকির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাই দিন রাত আমাদের পরিশ্রম করতে হয়।

বিডিজা৩৬৫

Check Also

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছোট-বড় সব ঋণে ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৫% মরাটরিয়াম সুবিধা দিয়েছে

জার্নাল ডেস্ক : বৃহৎ শিল্প, এসএমই, কৃষি ঋণসহ সকল ধরনের ছোট বড় ঋণে পরিশোধিত ঋণের …

অ্যাকাউন্টের তথ্য সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার

তথ্য ও প্রযুক্ত ডেস্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানাসহ অন্যান্য বিষয় কে বা কারা দেখতে …