পানি শূন্য খাপড়াভাঙ্গা খাল ॥ সংকটে প্রায় দু’হাজার পরিবার,দখল করে দু’পাড়ে প্রায় পঞ্চাশটি পুকুর,তোলা হচ্ছে স্থাপনা ॥

জপটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ডাবলুগজ্ঞ ইউনিয়নের জোয়ার-ভাটা প্রবাহমান খাপড়াভাঙ্গা দীর্ঘ খালের সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও শুধু নেই পানি। দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো তেমনই পড়ে আছে। চলাচলের নেীকা শুকনো মাটিতে অলস পড়ে আছে। মানুষ পারাপার হচ্ছে পানি শূণ্য শুকনো খালের মধ্য দিয়ে। চলাচল করছে যানবাহন। আর এ সুয়োগে দোনখোলা-তারিকাটা থেকে সুগডুগী পর্যন্ত দু’পাড়ে খাল দখল করে অন্তত: পঞ্চাশটি পুকুর তৈরি করেছে স্থানীয়রা। তোলা হচ্ছে নিত্য নতুন স্থাপান।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা সদর থেকে সাত ভাইয়ের ঘাট হয়ে ধুলাসর বাজার পর্যন্ত প্রবাহমান খাপরাভাঙ্গা খালে একসময়ে নৌযান চলাচল করত। দু’পাড়ের অন্তত: হাজার পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারসহ কৃষি কাজে এ খাল ছিল অপরিহার্য। কিন্তু খালটির দোনকোলা-তারিকাটা এবং সুগডুগীর খাপরাভাঙ্গা শিকদার বাড়ীর অংশে দুটি বাঁধ নির্মন করা হলে ক্রমশই খালটি ভরাট হতে থাকে। একটি মহল লবন পানির প্রবাহ বন্ধ করার জন্য খাপড়াভাঙ্গা শিকদার বাড়ীর অংশে সুইজ গেটের মুখ বাঁধ দিয়ে আটকে দিলে চলতি শুকনো মৌসুমে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে দু’পাড়ের অন্তত: দু’হাজার পরিবার পড়েছে পানি সংকটে। বাঁধের অভ্যান্তরের পাঁচ কিলোমিটার অংশে খাল দখল করে দু’পাড়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় পঞ্চাশটি পুকুর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, প্রভাবশালীরা খালের দু’পাড় দখল করে পুকুর, ঘের ও স্থাপানা নির্মান করছে। খালের পাড়ে বাড়ী পঞ্চাশোর্ধ রূপজান বিবির। তিনি জানান, নৌকায় চরে এ খাল দিয়ে বউ হয়ে শশুর বাড়ি এসেছি। নাউর হয়ে বাবার বাড়ী গিয়েছি। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে এর পানি ব্যবাহার করেছি। দেশীয় প্রজাতির অনেক বড় বড় মাছ ধরা পড়ত এখানে। নিজেদের মাছের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অনেকেই এসব মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। আজ সেই খাল পানি শূণ্য দেখে বুকটা হাহাকার করছে। অসীম শিকদার জানান, মিস্টি পানির জন্য খালটি ছিল দু’পাড়ে বসবাসকারী হাজারো পরিবারের জন্য আর্শীবাদ। গৃহস্থলীসহ কৃষি কাজে ব্যবহার হত এর পানি। পানি শূণ্য হয়ে পড়ায় এখন পানি সংকটে ভূগছে এখানকার মানুষ।
দেলোয়ার খন্দকার জানান, দু’পাড়ের কয়েক’শ একর জমির বোরো চাষে খালের পানি ব্যবহার করায় পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। খন্দাকার জসিম জানান, দু’পাড়ে পুকুর তৈরি করা হলেও এখনও খালের অন্তত: ছয়’শ ফিট প্রশস্থতা রয়েছে। তবে তাদের এ বক্তব্যের সাথে একমত নয় স্থানীয় অনেকেই। দখলবাজদের উচ্ছেদসহ জোয়ার ভাটার প্রবাহ সচল রাখার দাবী জানিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য জামান হোসেন বলেন, দখল উচ্ছেদ করে খাপাড়াভাঙ্গা খাল পুন:রুদ্বারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
মহিপুর উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, যখনই পুকুর কিংবা স্থাপানা তোলার সংবাদ পেয়েছি সরজমিনে গিয়ে বাঁধা দিয়েছি। দখল হওয়া সকল খাল উদ্বারে কঠোর অবস্থান এবং পদক্ষেপ নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। মাইকিং করে স্থাপনা সরিয়ে নেয়াসহ দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য প্রচরান চালানো হয়েছে। তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে

সাইফুল //এসএমএইচ//৯ই মে, ২০১৮ ইং ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …