পারকী চট্টগ্রামের অন্যতম নান্দনিক পর্যটন স্পট

0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

পৃথিবীজুড়ে সমুদ্র সৈকতগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্য মোহিত করে মানুষকে। তবে একেক সমুদ্র সৈকতের একেক রূপ। মাথার উপরের খোলা নীল আকাশ আর সামনে বিশাল সমুদ্র- একদিকে ঝাউবনের সবুজের সমারোহ, আর সমুদ্র তীরের মৃদুমন্দ বাতাস আপনার মনকে আনন্দে পরিপূর্ণ করে দেবে নিমেষেই এমন একটি  সমুদ্র সৈকতে মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত;পারকি সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে আনোয়ারা উপজেলার সমুদ্র উপকুলে অবস্থিত দৃষ্টি নন্দন পারকি সমুদ্র সৈকত।এই পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গা বা কক্সবাজার সৈকতের মতো বিশাল না হলেও সৌন্দর্যের দিক থেকে কোনো অংশেই কম নয়। সাধারণ পর্যটকদের মতে, পারকি সৈকতের মতো নীরব পরিবেশে প্রকৃতি উপভোগের মতো চট্টগ্রামে আর কোনো স্থান নেই। বালুময় পারকি সমুদ্র সৈকতের একটি বিস্তীর্ণ অংশ জুড়েই রয়েছে ঝাউবাগান । প্রতিদিন  দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিনোদন প্রেমী পর্যটকরা এই সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে থাকে। ভাঁটার সময়ে সৈকত থেকে সমুদ্রের জল আধা কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত চলে যায়। আবার জোয়ার এলে এতটা এলাকায় ফের জলে ভরে যায়। প্রতিদিনই এই লুকোচুরি খেলা চলতে থাকে। সমুদ্র সৈকতে পানিতে ছুটোছুটি করতে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য,পাখ-পাখালীর কিচির-মিচির শুনতে পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। এ সমুদ্র সৈকত জুড়ে রয়েছে বিনোদনের নানা আয়োজন। কীটকট-ছাতার ছায়ায় বসে সমুদ্র দর্শন ছাড়াও নির্মল বাতাসে গা এলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যাবেন দূর অজানায়..? বীচ বাইক ও স্পীড বোড কিংবা ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানো  পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ। সর্বোপরি আপনার ভ্রমণ বিনোদন ফ্রেমবন্দী করে রাখতে চাইলে হাতের নাগালেই রয়েছে বীচ ফটোগ্রাফার। পারকি সৈকতে যেতে চাইলে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি ব্রিজ এলাকায় আসতে হবে। এরপর সারি সারি দাঁড়ানো আনোয়ারাগামী বাসে যাওয়া যাবে কম খরচে। চাইলে রিজার্ভ বাস কিংবা মাইক্রো-সিএনজিযোগে পারকি পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র সোয়া এক ঘন্টা। আপনার হাতে সময় থাকলে ঘুরে দেখতে পারবেন সমুদ্র সৈকতের পাশে   প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা সৌন্দর্যের ঘেরা লুসাই পার্ক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশ বিদেশের পর্যটক আকর্ষণে ব্যাপক সম্ভাবনাময় পারকি সমুদ্র সৈকত কার্যত অবহেলিত। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাব। মাদকের রমরমা হৈহৈ-রৈরৈ। স্থানীয়দের দৌরাত্ম্য। পানীয় জলের তীব্র সংকট। হোটেল মোটেল কমপ্লেক্স কিংবা গণশৌচাগার স্বল্পতায় ধুকছে পারকি সমুদ্র সৈকত।

অবকাঠামোগত এই সুবিধাগুলো গড়ে তোলা হলে একদিন পারকি হয়ে উঠবে চট্টগ্রামের অন্যতম একটি পর্যটন স্পট।

ঘুরতে আসা পর্যটক গোলাম মোস্তাফা বলেন পারকী বিচ অনেক সুন্দর,আগে একবার আসছিলাম বর্তমান অনেক উন্ন তাছাড়া এখনো ভালো দোকানপাট গড়ে না উঠায় থাকা বা খাওয়ার সুব্যবস’া অনেকটাই কম। অবকাঠামোগত এই সুবিধাগুলো গড়ে তোলা হলে আরো বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৪ই জুলাই, ২০১৮ ইং ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.