প্রশাসনের দোকান বাণিজ্যে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ইবির বঙ্গবন্ধু হল

ইবি প্রতিনিধি:

প্রশাসনের দোকান বাণিজ্যে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল। মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী। টাকার বিনিময়ে মানুষ সৌন্দর্য কিনে নেয়। কিন্তু ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে (ইবি) ঠিক এর উল্টো! অর্থাৎ টাকার জন্য বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশ^বিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সৌন্দর্য।বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বিশ^বিদ্যালয়ের দক্ষিণ প্রান্তে প্রায় ৫ একর জায়গা নিয়ে ৮ টি ব্লক বিশিষ্ট এবং অসাধারণ কারুকার্য খচিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক ছাত্র হল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যার উদ্ভোধন করেন ১৯৯৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হলের সম্মুখেই রয়েছে সুদৃশ্য মন্ডিত একটি পুকুর। বিশেষ সৌন্দর্যের খাতিরে বিশ^বিদ্যালয় তথা দেশ জুড়ে এই হলের সুনাম রয়েছে। তবে এই সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়েছে প্রশাসনের দোকান বাণিজ্যের কারণে। জানা যায়, পুকুরের উত্তর প্রান্ত জুড়ে পাড় সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২৬-২৭ টি স্থায়ী দোকান করার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। এসব দোকান চালু হলে পুকুরসহ হলের সৌন্দর্য অনেকাংশেই নষ্ট হবে বলে অভিযোগ করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমনিতেই পুকুরের বেহাল দশা। তার উপর এই দোকানগুলি চালু হলে আবর্জনাতে পুকুর ভরাট হবে। তাছাড়া ঐতিহ্যবাহী এই হলটির সৌন্দর্যের হানি ঘটবে। দোকানগুলি অন্য কোথাও করতে পারতো।’সরেজমিনে দেখা যায়, ইতোমধ্যে পুকুরের পাশে ইট-বালু ফেলে দোকানের কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে, পুকুরের চারপাশ জুড়ে ৪ টি দোকান রয়েছে। এছাড়া এর আশেপাশে আরোও বেশ কিছু হোটেল রয়েছে। এসব দোকানের বর্জ্য নিয়মিতই পুকুরে পড়ছে। বর্তমানে ২০০ টাকা মাসিক ভাড়া ও ইউনিট প্রতি ১০ টাকায় দোকান সমূহ ক্যাম্পাসে ব্যবসা করছে। তবে সংখ্যা বৃদ্ধি করে স্থায়ী দোকান করে উপরি মুনাফার আশায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এসব দোকান বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানা যায়।তবে এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘দোকান গুলি পুকুর সংলগ্ন হলে বিষয়টি আমার জানার কথা ছিলো। কারণ এটি হলের অংশ। কিন্তু, আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।’
এদিকে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে প্রায় ৭০-৮০ টি দোকান থাকলেও এর অধিকাংশই ক্যাম্পাস ছুটির সময় বন্ধ থাকে। মাত্র ১০-১২ টি দোকান নিয়মিত খোলা থাকে বলে জানা যায়। বিশ^বিদ্যালয়ের এক আবাসিক শিক্ষার্থী মিনহাজ জানান, ‘অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের মতো আমাদের প্রতিটা হলে যদি ক্যান্টিন থাকতো তবে ব্যাঙের ছাতার মতো এতো হোটেল বা দোকানের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো না।’প্রধান প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান টুটুল বলেন, ‘এটা ঠিক যে পুকুরটির সৌন্দর্য কিছুটা নষ্ট হবে। এ বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডি এস্টেট শাখাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানি আমি।’এবিষয়ে এস্টেট শাখার উপ-রেজিস্ট্রার ও দোকান বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মো: সাইফুল আলমকে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তিনি সেলফোন বন্ধ করে রাখেন।বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘আমরা বিশ^বিদ্যালয়ের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দোকানগুলি এক জায়গায় আনতে চেষ্টা করছি। তবে সৌন্দর্য হানিকর বা অপরিকল্পিত কোনো কিছু করা হচ্ছে কিনা আমার জানা নেই।

সাইফুল//এসএমএইচ//১৯শে মে২০১৮ ইং ৫ই জ্যৈষ্ঠ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …