প্রাকৃতিক অক্সিজেনে বাঁচতে চাই;কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসে নয়

 

চট্টগ্রাম শহর আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শহর।এটি এশিয়ায় ৭ম এবং বিশ্বের ১০ম দ্রুততম ক্রমবর্ধমান নগর।

 

দেশে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিপর্যস্ত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামও।অত্র শহরে প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ ও পাহাড়বেষ্টিত এমন সবুজ শ্যামল, নয়নাভিরাম দৃশ্য সিআরবি ছাড়া আর অন্য কোথাও দেখা মিলে না।সিআরবিতে শিরীষতলা নামে একটি প্রশস্ত মাঠও রয়েছে,যেখানে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ,পহেলা ফাল্গুন ইত্যাদি ঐতিহ্যগত উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে।এছাড়া ও এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুর রবও।১৯৩০ সালের যুব বিদ্রোহের ঐতিহাসিক স্থানও। সিআরবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনেই নয় সিআরবি এলাকাটি ঐতিহাসিক কারনেও গুরুত্বপূর্ণ। এই সিআরবিকে চট্টগ্রামের ফুসফুস বলা হয়।১৮৯৫ সালে তৎকালীন বৃটিশ বেঙ্গল রেলওয়ের সদর দপ্তর এবং বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি।এখানে এখন ৫০০শয্যার হাসপাতাল এবং ১০০আসনের মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৮মার্চ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে ইউনাইটেড হাসপাতাল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে।

 

এতোদিন এই তথ্যটি আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি সিআরবি এলাকায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে হাসপাতাল নির্মানের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ। এই উদ্যোগে ক্ষিপ্ত হয়েছে পরিবেশবাদী সহ সর্বস্তরের জনগণ।

 

এখানে রয়েছে বয়সের ভারে নুব্জ হওয়া দুশোরও বেশি বৃক্ষরাজি। শতবছরেও বৃক্ষরাজি ধরে রেখেছে তাদের সবুজের সজীবতা। এই বৃক্ষরাজি বেষ্টিত সিআরবি এলাকার সবুজ সরিয়ে হাসপাতাল নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।দূষণযুক্ত যান্ত্রিকতাময় নগরীতে লাখ লাখ মানুষ যেখানে প্রতিদিন প্রাণ ভরে শ্বাস নেয় সেই সিআরবি এলাকায় ইট ও পাথরের নির্মাণকাজে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

 

চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত যেভাবে পাহাড় কাটা, বন উজাড়,নদী ভরাট হচ্ছে তা আগামী প্রজন্মের জন্য যথেষ্ট হুমকিস্বরূপ। যেকোন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় আন্দোলনের ধারা অব্যাহত রাখা সময়ের দাবি।টাকা ও ক্ষমতার জোরে শত শত হাসপাতাল নির্মাণ করা যাবে রাতারাতি। কিন্তু সিআরবির মত প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা কী আদৌ সম্ভব।মোটেও না।

 

আমরা কেউই হাসপাতালের বিপক্ষে নই, হাসপাতাল করার জন্য চট্টগ্রাম নগরীতে রেলওয়ের অনেক জমি পরিত্যক্ত আবার কিছু জমি প্রভাবশালীদের দখলে আছে।তাই কর্তৃপক্ষের উচিত চট্টগ্রামের প্রাণ বাঁচাতে অতিবিলম্বে এমন পরিবেশ বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।

 

প্রাকৃতিক অক্সিজেনে বাঁচুক প্রাণ, ফুটুক হাসি রাশি রাশিএই হোক এক ও অভিন্ন নীতি।

লেখক:

উম্মে হাবীবা আফরোজা

সংস্কৃতি কর্মী

Check Also

এসএসসি’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি: শিক্ষামন্ত্রী

জার্নাল ডেস্ক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সম্প্রতি দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে যা …

সংঘাতময় রাজনীতি করে বিএনপি : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

জার্নাল ডেস্ক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি হত্যার রাজনীতিটাই করে। ওনারা আসলে …