ছবি-বিডি জার্নাল ৩৬৫

বর্ধিত ভাড়া ৬০ ভাগ, বৃহস্পতিবারে বেড়ে হয় ১০০ ভাগ

নাহিদ সেকান্দরঃ

সাপ্তাহিক ছুটির কাটাতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চাপ থাকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাস টার্মিনালগুলোতে। কিন্তু বাড়ি যেতে হাজার হাজার যাত্রীকে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবাহী বাসের বাড়তি ভাড়ার ফাঁদে জিম্মি হয়ে রয়েছেন যাত্রীরা। করোনার কারণে যাত্রী পরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হলেও প্রত্যেক বৃহস্পতিবার এলে এ ভাড়া বেড়ে দাড়ায় শতভাগে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও অনেক সময় মেলে না বাস। প্রতি দুই সিটে একজন বসার নির্দেশনা উপেক্ষা করে যাত্রী নেয়া হয় আগেই মত।

বাড়তি ভাড়া নিয়ে চালকের সাথে বাকবিতন্ডায় যাত্রীরা

পবিত্র মোহরম পালিত হতে যাচ্ছে আগামী রবিবার। সে সাথে আজ অর্ধ কর্মদিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মোহররমের ছুটি যোগ করলে বন্ধ দাড়ায় আগামী রোববার পর্যন্ত। এ কারণ বসত অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ সাধারণ মানুষের বাড়ি ফেরার একটি মহল তৈরি হয়েছে। নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় সাধারণ যাত্রীদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। সাথে যাত্রীদের অভিযোগ উঠেছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের। প্রতিনিয়ত যাত্রীদের সঙ্গে গাড়ির চালক হেলপারদের মারামারির ঘটনাও ঘটে।

তাছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশ পথ কর্ণফুলী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকায়িা, লোহাগাড়া, পটিয়া, বাশঁখালী ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার যাত্রীদের চলাচল হয়ে থাকে বেশি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে ছোট বড় বাস, সিএনজি অটো রিকশাসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন লাখের অধিক যাত্রী এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

তবে সড়কের কর্ণফুলী, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয় সবচেয়ে বেশি। সপ্তাহের শুক্রবার, বৃহস্পতিবার ও রবিবার আসলে শাহ আমানত সেতু থেকে কর্ণফুলী, আনোয়ারা, বাশঁখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার যাত্রীদের দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়ার পাশাপাশি করোনায় ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ার চাপও উঠে বসেছে সাধারণ এ যাত্রীদের উপর। আবার এসব উপজেলার যাত্রীরা রবিবার আসলে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার পথে একই ভাড়া আদায় করে গাড়ির চালক ও হেলপাররা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিনে বেশ কয়েকজন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনকে বারবার বলা হলেও নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে চলে যায়। বর্ধিত ভাড়া নিশ্চিত করতে নেওয়া হয় না প্রশাসনিক ব্যবস্থা। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই গাড়ির চালক ও হেলপাররা বাড়তি ভাড়া আদায় করে। এতে তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মালিক সমিতির নেতারা।

বাড়িগামী কামাল হোসেন নামের এক যাত্রীরা সাথে কথা হলে তিনি জানান, “করোনায় ৬০ শতাংশ ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার আসলেই শাহ আমানত সেতু থেকে লোকাল পরিবহন গুলো এ ধরনের বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য চালায়। মূলত আনোয়ারা বরকল বরমাগামী বাসগুলো ৩০-৪০ টাকার ভাড়ায় বিপরীতে ৮০-৯০ টাকা আদায় করছে। পাশাপাশি পটিয়াগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০-৬০ টাকা, চন্দনাইশের যাত্রীদের ৮০-১২০ টাকা, বাশঁখালীগামী ১৩০-১৫০ টাকা, সাতকানিয়াগামী ১০০-১৩০ টাকা এবং লোহাগাড়া উপজেলার যাত্রীদের কাছ থেকে ১২০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকে। বাড়তি ভাড়া আদায় করতে গাড়ির চালকরা রাত ৮টার পর গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভাড়া আদায় করে।”

তাছাড়াও মোহাম্মদ রফিকুল নামের একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার আসলেই এ বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে গাড়ির চালক ও হেলপারদের কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় যাত্রীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। সাথে যেখানে সরকার সামাজিক দূরত্বের কথা বা দুই সিটে একজনের কথা বলা হলেও তার কোনটিরও দেখা মিলছে না।”

যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলে কেন ভাড়া বেশি আদায় করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে বাসের চালক দুলাল মিয়া জানান, রাতে যেসব গাড়ি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ভাড়া নিয়ে যায়, সেগুলো ফিরতি পথে যাত্রী পায় না। এ কারণে খালি গাড়ি নিয়ে নগরীতে ফিরতে হয়। তাই দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হয়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ ভ্রাম্যমান আদালত-১১‘র র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-এ-জামান বিডি জার্নাল ৩৬৫ কে বলেন, বাড়তি ভাড়া নৈরাজ্যের বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে থাকি। বিশেষ করে নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বাড়তি ভাড়া বিষয়ে অভিযোগ সবসময় বেশি আসে। তবে একটা কথা স্কীকার করতে হবে যে, অতিরিক্ত যানবাহন এবং মানুষের চাপের তুলনায় আমাদের সক্ষমতা কিছুটা কম আছে।

তিনি আরো বলেন,” নতুন ব্রিজ এলাকায় আমরা বাড়তি নজরদারি করি । তবে টানা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা তো সম্ভব না। অভিযান চালানোর সময় এমনটা দেখা যায় যে, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলাম। প্রথমে কিছু সময়ের জন্য পরিবহন শ্রমিকরা সতর্ক হয়ে যায়। আমরা যতক্ষণ নজরদারিতে থাকি ততক্ষণ বাস চালানো এবং বাড়তি ভাড়া কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। আমরা চলে আসলে আবারো নৈরাজ্য শুরু করে দেয়।”

বিডিজা৩৬৫/টিবি

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …