বসন্ত বন্দনায় সুরভিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগ

চবি প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে উদযাপিত হয়েছে বসন্ত বরণ উৎসব। “লাগলো হাওয়া এই মনে,যাই বসন্ত পার্বণে” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে (রোববার) ১১ টায় উৎসবের উদ্ভোধন করেন ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. গোলাম মহিউদ্দিন।

এসময় ইন্সটিটিউটের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।শুরুতেই ইন্সটিটিউটের শিক্ষকদের রিক্সায় করে তুমুল করতালির মাধ্যমে উৎসবে প্রবেশ চিরায়ত বাঙালিয়ানা আমেজ তৈরি করে। এরপর পরিবেশিত হয় মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফাল্গুনী গান,ক্লাসিকাল ও উপজাতিয় নাচের তালে মঞ্চ মাতান ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ছিলো কবিতা আবৃত্তি, নজরুলগীতি,রবিন্দ্র সংগীত,মূকাভিনয়। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো বিভিন্ন পিঠার স্টল। “আলপলনি”,”উৎসবের রঙ্গে,পিঠার সঙ্গে”,” তৃনিশ”,”পিঠার খোঁজে নবোত্তমে” ইত্যাদি বাহারি নাম ছিলো স্টলের। স্টলে ছিলো হরেক রকমের শতাধিক পিঠা। পিঠার মধ্যে ডিমসুন্দরী,চিকেন পুরি,পোয়া,সুজি রসবড়া,ব্যাঙ পিঠা,পাটিসাপটা,পোয়া,মুগপাকন,খেজুরের গুড়ের পাটিসাপটা,কাবাব,নারিকেলের নাড়ু,মাংশপুলি,কাঁঠাল খিলি পিঠা,শাহীমালাই,ফুলঝুরি,ডালপাকন,পাকুড়া,চকোলেট পুডিং ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পিঠা স্টলের বিক্রেতা শিক্ষার্থী সাদিয়া মুবাশশিরা জানান,”আমরা ২৫ আইটেমের পিঠার আয়োজন করি। উৎসব শুরু হতেই অর্ধেক পিঠার বিক্রি শেষ। বিক্রিও করছি,উদযাপনও করছি”।

উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলো শিক্ষকদের বালিশ খেলা। ইন্সটিটিউটের পরিচালকসহ সকল শিক্ষক এই খেলায় অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া উৎসবে ছিলো চিত্র প্রদর্শনী। ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের হাতে তোলা অসংখ্য জীবন্ত চিত্র এখানে প্রদর্শিত হয়। উৎসবে আগত দর্শকদের জন্য ছিলো মার্বেল খেলা।

উৎসবে আগত দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী জাফর আহসান জানান,” খুব বেশি উপভোগ করছি। আইইয়ার উৎসব আয়োজনের দিক থেকে সবসময়ই ব্যাতিক্রম। চিরায়ত বসন্ত উৎসবের বাইরে তাদের আয়োজন দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। অনেকগুলো পিঠা খেয়েছি। পাশাপাশি ফটো গ্যালারিতে ছবি তুলে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছি।”

জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রাইমা তাবাসসুম জানান,”সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো খুবই চমৎকার লাগছে। বিশেষ করে উপজাতিয় নাচগুলো উপভোগ করেছি। আর আইইয়ারের শিক্ষার্থীদের আতিথিয়েতাও চমৎকার। আমার মনে হচ্ছে নিজের অনুষদেই অনুষ্ঠান উপভোগ করছি”
ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. গোলাম মহিউদ্দিন বলেন,”শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজন আমাদের আনন্দিত করে। বাঙ্গালী সাংস্কৃতিক জাতি। সংস্কৃতি আমাদের প্রাণ। এখানে এসে আমি আমার ছেলেবেলায় হারিয়ে যাচ্ছি। তোমাদের প্রাণবন্ত আয়োজন সাফল্যমÐিত হোক। এমন সৃজনশীল কাজের সাথে আমরা সবসময়ই আছি”।

 

 

 

 

Check Also

টস জিতে ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড। প্রথম রাউন্ডের …

করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৪

জার্নাল ডেস্ক দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগীর …