বাঁশখালীতে আইন না মেনে প্লাস্টিকের মোড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত পাট শিল্প

0

জসীম উদ্দীন, বাঁশখালী প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বাঁশখালীতে আইনের কোন তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে প্লাস্টিকের মোড়ক। দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাট শিল্প। অন্য দিকে এই প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আজ ৪ মার্চ ২০২০ (বুধবার) পুরো বাঁশখালীর পুঁইছডি,নাপোড়া, চাম্বল,টাইম বাজার, মুনছরিয়া বাজার, দারোগা বাজার, উপজেলা সদর, মিয়াবাজর, বৈলছড়ি বাজার, কালিপুর, গুনাগরী, সাধরপুর, বাণীগ্রাম, চাঁদপুর বাজার, সহ বড় বড় মুদির দোকান গুলোতে প্লাসটিক মোড়কের ব্যবহার সবচেয়ে বেশী।

অন্য দিকে চাল পরিবহনে ও দেখা মিলে নাই পাটের বস্তার। পুরো বাঁশখালীর মধ্যে মুনছরিয়া বাজার, টাইম বাজার, জলদী মিয়াবাজর, খানখানাবাদ অটোরাইস মিল সহ বাঁশখালীর প্রায় সব রাইস মিল গুলোতে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে প্লাসটিকের বস্তা।
আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাটের বস্তার দেখা মিললেও যা প্লাসটিকের বস্তার তুলনায় নগণ্য।

বাঁশখালীর রাইস মিল ও মুদি দোকান মালিকের সাথে কথা বললে তারা জানায় আমরা খুব অপারগ হয়ে প্লাসটিকের বস্তা ব্যবহার করতেছি। এই দিকে পাটের সাপ্লাই খুবই কম। আবার কেউ কেউ বলেন প্লাসটিকের বস্তা ব্যবহার অনেক টেকশই। প্লাসটিকের বস্তা ব্যবহারে আইন গত সচেতন আছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, অনেক সময় উপজেলার ভ্রাম্যমাণ আদালত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে জরিমানা করে গেছে তবে আইন সম্পর্কে আমরা সচেতন আছি।

সম্প্রতি কয়েকমাস আগে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোমেনা আক্তার পিঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য অভিয়ান পরিচালনা করার সময় জলদী মিয়ার বাজার মুদির দোকানদার দের সর্তক করে দিয়ে জরিমানা ও করেছিল প্রতিটা মুদির দোকানে প্লাসটিকের বস্তা পরিহার করে পাটের বস্তা ব্যবহার করার জন্য বলেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবেই ব্যবহার হচ্ছে প্লাসটিক। এই প্লাসটিকের বস্তা গুলো আমাদের পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বয়ে আনবে।অন্য দিকে বর্তমান সময়ে চা বিক্রেতারা যে ভাবে প্লাসটিকের কাপ হিসাবে ব্যবহার শুরু করে দিছে এই ভাবে চলমান থাকলে ব্যবহারকৃত
ওয়ান-টাইম চা কাপ গুলো একটা সময়ে গিয়ে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বয়ে আনবে যা নিয়ন্ত্রণে আনার ভূমিকা পর্যন্ত হারিয়ে যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা যায়, ১৭ টি পণ্য বাজারজাত, পরিবহন ও মজুদকালে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন ২০১০ সালে তৈরী হয়।
যার ফলশ্রুতিতে পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও পাটজাত ব্যবহারে সচেতন করার জন্য এই আইন প্রণীত হয়। পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন ২০১০ এ উল্লেখ রয়েছে ধান,চাল,গম,ভুট্টা,সার,চিনি,মরিচ,হলুদ,আদা,পোয়াজ, রসুন, ঢাল,আলু, আটা, ময়দা,কুঁড়া, ভুষি এই ১৭ পণ্য উৎপাদন, বাজারজাত ও মজুদকালে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
এই আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাই একমাত্র পারে পরিবেশকে রক্ষা করতে।

আইনের মধ্যে আরও আছে উপরোক্ত ১৭ টি পণ্য মোড়কে পাটজাত ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন আদালত।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানায়, এই ধরনের কোন কিছু দেখলে আমরা অবশ্যই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহন করবো বলে জানান তিনি।

Share.

About Author

Comments are closed.