বাঁশখালীতে ল্যাংটা ফকির মোস্তাফা আলীকে এসিড মিশ্রিত পানি খাইয়েছে দুর্বত্তরা

0

জসীম উদ্দীন, বাঁশখালী প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বাঁশখালীর চনুয়া ইউনিয়নে ল্যাংটা ফকির আলী নামক এক ব্যাক্তিকে  গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) ২০২০ স্থানীয় দুর্বৃত্তরা খাবার পানির সাথে এসিড মিশ্রণ করে পানি পান করায় বলে জানা যায়। পরে তিনি মুমূর্ষ অবস্তায় স্থানীয় আব্দুল্লাহ নামক দোকানের সম্মুখে পডে থাকে। সবাই ফেইসবুক ও সামাজিক যোগায়োগ মাধ্যমে জিনিসটা ভাইরাল করতে দেখা যায়।  এই নিয়ে গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে সবার নজরে আসে। পরে ল্যাংটা ফকির মোস্তাফা আলীকে দেখতে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এই ল্যাংটা ফকির তেমন কাউকে চিনতে পারেনা। হটাৎ করে একই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্য এমআই হিসেবে মেডিকেল কোরে কর্মরত মোঃ বেলাল উদ্দিনকে দেখে চিনতে পারেন। চিনার সাথে সাথে বেলাল এর মোটরবাইকের কথা ও জিজ্ঞেস করতে দেখা যায়। পরে তিনি যাবতীয় ঔষুধ সহ যাতায়াতের খরচ বহন করে।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্য এমআই হিসেবে মেডিকেল কোরে কর্মরত মোঃ বেলাল উদ্দিন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন এই ল্যাংটা ফকির মোস্তাফা আলীকে আমি ১৫ বছর যাবৎ দেখাশুনা করে আসতেছি। আমি মোটরবাইক নিয়ে বের হলে বাড়ি থেকে তিনি আমার গাড়ি থামিয়ে বিভিন্ন সময় গাড়িতে উঠেছিল। আমি ও আপন মনে তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। গত ৩১ তারিখ এই ল্যাংটা ফকির মোস্তাফাকে এসিড মিশ্রণ পানি পান করার পর স্থানীয় কোন ব্যাক্তি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না। আমি নিজ থেকে ফোন করি সি এনজির ড্রইভারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরে জানতে পারলাম এই ল্যাংটা ফকিরকে নাকি বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হচ্ছে। তখন আমি নিজ থেকে কর্মরত ডাক্তারকে রিকোয়েস্ট করি আমার নিজ হেফাজতে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এখন ল্যাংটা ফকির মোস্তাফা অনেক টা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন। তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যাবতীয় চিকিৎসা করা হবে। আজ আমি তাকে দেখাশোনা করার জন্য নিজ কর্মস্থল থেকে ছুটে আসি। 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় বাঁশখালী থানাধীন ছনুয়া ইউনিয়নের মৃত ফজল আহমেদ এর পুত্র মোস্তাফা আলী (৫১) জন্মের পর থেকেই এই ভাবে ল্যাংটা থাকতে দেখা যায়। গত ৩১ মার্চ সকাল ১০ টার দিকে স্থানীয় আব্দুল্লাহ নামক দোকানের সামনে কে বা কারা এসিড মিশ্রিত পানি পান করাই। পরে তিনি মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে থাকলে পুলিশ সদস্য বেলাল উদ্দীন এর সহায়তায় তিনি বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর হাসনাইন ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস বাঁশখালী শাখার স্বত্বাধিকারী ও দক্ষিণ জলদি হিফজুল-কোরআন আদর্শ মাদ্রাসার পরিচালক

মোহাম্মদ ইমরান তার যাবতীয় চিকিৎসা করায় এবং দেখা শুনা করতে দেখা যায়।

এই ব্যাপরে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় এই লোকটি বর্তমানে অনেকটা সুস্থ রয়েছেন। এটা বাঁশখালীতে চিকিৎসা দেয়ার মত রোগী ছিল না। তবুও আমরা পুলিশ বাহিনীর সদস্য এমআই মেডিকেল কোরে কর্মরত মোঃ বেলাল উদ্দিন ভাইয়ের রিকোয়েস্ট ভর্তি রাখি। এই রোগীটি প্রথমে এতই জটিল ছিল আমরা সবাই তাকে আশঙ্কাজনক মনে করেছিলাম। এখন হয়ত আমরা অবজারভেশন শেষে রিলিজ দেয়ার ব্যবস্থা করব খুব শীগ্রই।

Share.

About Author

Comments are closed.