বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দুই প্রধানমন্ত্রীর

0

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক :

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে জোর দিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বৈঠকে এ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নেপালের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র দূরীকরণ। আমরা শুধু নিজেরাই উন্নত দেশ হতে চাই না। আমরা চাই, আমাদের প্রতিবেশীরাও উন্নত হোক।’

বৈঠকে শেখ হাসিনা বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় নিজের খুশির কথা জানান কেপি। বিদ্যুৎ সহযোগিতা বাড়াতে নেপালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ; যার মধ্য দিয়ে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। এই সমঝোতার আওতায় নেপাল থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির নেপালের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো রয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নেপাল থেকে বাংলাদেশের জলবিদ্যুৎ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব। এ ছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নেপালের গণমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, দুই নেতার এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাত দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৮ মিনিটে নেপালে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শেখ হাসিনা পৌঁছালে নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখারেল এবং নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশরাফি বিনতে শামসসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে গার্ড অব অনারসহ লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা দাশো সেরিং ওয়াং চুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা। এর পর রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতল নিবাসে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানে নেপালের রাষ্ট্রপতির দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

এর পর বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজা হোটেলে অনুষ্ঠেয় ৪র্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন।

সাব্বির// এসএমএইচ//৩০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ১৫ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.