বিদ্যার বাতিঘর সিরাজুল হক চৌধুরী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম):

কথায় বলে, ‘ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ-মন্দিরে, নীতির চর্চা হয় পরিবারে, বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে’। বিদ্যা চর্চার এমনি একটি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিরাজুল হক চৌধুরী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের মিয়া পাড়ায় ৩ বছর ধরে জ্ঞানের বাতিঘর হয়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে এবং শিক্ষকের সংখ্যা ৪ জন। কয়েক বছর আগেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে এলাকার কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত ছিল। তখন হতদরিদ্র ঘরের ছেলেমেয়েরা পাহাড় থেকে লাকড়ী কেটে বাজারে বিক্রি করতো। বলতে গেলে অশিক্ষা কুশিক্ষায় তাদের যাপিত জীবন ছিল। এমন দুর্দিনে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তদানীন্তন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফিজনূর রহমান এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি লোহাগাড়া উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। বিগত ২০১৬ সালের ২০ আগষ্ট তৎকালীন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দীন টিনসেট স্কুলঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠাকালে ঘর নির্মাণের জন্য সাবেক পুটিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আবু হানিফ চৌধুরী পরিবার ৩৩ শতক ভূমি দানপত্র কবলা মূলে অর্পণ করেন। এ কারণে চেয়ারম্যানের প্রয়াত পিতা সিরাজুল হক চৌধুরীর নামে বিদ্যালয়টি নামকরণ করা হয়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান পুত্র ফোরাত বিন হানিফ চৌধুরী (শাকিল) জানান, বিদ্যালয়ের চর্তুদিকে ৩ বর্গ কিলোমিটার বিশাল গ্রাম জুড়ে আর কোন বিদ্যালয় নেই। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ক্রমাগতভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে বিদ্যালয়টি ভবনের অভাবে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে শ্রেণী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। সরকারের ১৫শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও এখনও পর্যন্ত ভবন নির্মাণে কোন সরকারী বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের একটি ফাইল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক দিন অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। গতকাল রবিবার এ প্রতিবেদক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে আসেন পুটিবিলা ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুজিত বড়ুয়া কাজল। তিনি বিদ্যালয়ের সম্মুখভাগের খানাখন্দকে ভরা সংযোগ সড়কটি জরুরীভাবে ব্রিকসলিনসহ সংস্কারের আশ্বস্থ করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য যখাক্রমে ফোরাত বিন হানিফ চৌধুরী ও আবু আসাদ চৌধুরী। প্রধান শিক্ষক ইয়াছমিন আক্তার বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা খুবই জরুরী। স্কুল ভবনের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীদেরকে খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করতে হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের টিনের ছাউনীযুক্ত শ্রেণীকক্ষে পাঠদান চলছে। শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারনে পাঠদানের সময় একই বেঞ্চে ৫/৭জন শিক্ষার্থী বসতে হয়। ৪ জন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদানের ফলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় আমরা ভালো ফলাফল করে আসছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব লোহাগাড়ার সূর্যসন্তান মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের মাধ্যমে জরুরী ভিত্তেতে নতুন একটি একাডেমিক ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাচ্ছি।

সাব্বির// এসএমএইচ//৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২৩শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …