ব্রাজিলকেই এক নম্বর ফেভারিট মানছেন ফুটবলবোদ্ধারা

ক্রীড়া ডেস্ক :

আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলকেই এক নম্বর ফেভারিট মানছেন ফুটবলবোদ্ধারা। অন্য আর সবার মতো তিতের দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দাদা মারাভিলহাও। তবে ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ নেইমারের প্রতি। সেই মুগ্ধতা এতো বেশি যে, তার মতে নেইমার একাই ব্রাজিলের এই দলের ৫০ শতাংশ। মানে নেইমার একাই দলের অর্ধেক। বাকি সবাই মিলে তার সমান!পুরো নাম দারিও হোসে দস সান্তোস। সংক্ষেপে সবাই ডাকে দাদা মারাভিলহা ডাকে। ফুটবল দুনিয় তিনি শুধু দাদা নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।  বছর বয়সী এই দাদা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অভিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের ফুটবল ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। সব ধরনের ফুটবলে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল ফুটবলের রাজাখ্যাত পেলে এবং রোমারিও। মারাভিলহার তার চেয়েও বড় পরিচয়, ব্রাজিলের ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য।ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে অবশ্য খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি। খেলেছেন মাত্রই টি ম্যাচ। তবে নিজের বিশেষ ফুটবল শৈলী দিয়ে ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল মাতিয়েছেন দীর্ঘ ২০ বছর। খেলেছেন ১৮টি ক্লাবের হয়ে! পেলে, টোস্টাও, জেয়ারজিনহোদের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন।সেই দাদা যখন ফুটবল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেন, বাড়তি গুরুত্ব দিতেই হয়। আসন্ন বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে ব্রাজিল কোচ প্রস্তুতি ক্যাম্প খুলেছেন গ্রাঞ্জা কোমারিতে। দলকে উদ্বুদ্ধ ও শুভ-কামনা জানাতে সেখানেই ছুটে গিয়েছিলেন গত শতকের সত্তর ও আশির দশকের ফুটবলপ্রেমীদের প্রিয়মুখ দাদা। রাশিয়া বিশ্বকাপে সাফল্য কামনা করে দলকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একান্ত মনোযোগ দিয়ে দিয়েছেন উত্তরসূরিদের প্রস্তুতিও।নিজে খেলোয়াড়ী জীবনে নিজে ছিলেন নিখাঁদ স্ট্রাইকার। স্বাভাবিকভাবেই ফরোয়ার্ডদের দিকেই তার মনোযোগ ছিল বেশি। তা তিতের দলের ফরোয়ার্ডদের দেখে মুগ্ধ দাদা। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ৯ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন টোস্টাও। কোচ তিতে কিংবদন্তি টোস্টাওয়ের সেই ৯ নম্বর দিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে।দাদা মনে করেন, যোগ্য একজনের গায়েই উঠেছে বিখ্যাত ৯। বার্সেলোনার ফিলিপে কুতিনহো এবং লিভারপুলের রবার্তো ফিরমিনোরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দাদা। তবে নেইমারের জন্য প্রশংসার ডালি যেন সাজিয়ে বসেছিলেন আলাদাভাবে। নেইমারের গতি, ডিবলিং, মুভমেন্টে ভীষণ মুগ্ধ দাদা। পায়ের চোটের কারণে সেই গত ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠের বাইরে ২৬ বছর বয়সী নেইমার। তবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য খুশির সংবাদ যে পিএসজি তারকা সেরে উঠে এখন দ্রুতই উন্নতি করছেন।সেই উন্নতির ধারা কতটা উর্ধ্বমুখী দাদার প্রতিক্রিয়াতেই সেটা স্পষ্ট, ‘আমি তাকে অনুশীলনে দেখেছি। সত্যিই আমি মুগ্ধ, রোমাঞ্চিত। হ্যাঁ, তার চোট ক্ষতটা এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। নিশ্চিতভাবে এটা শঙ্কার কারণ। সবাই জানেন যে তার চোট সমস্যাটা ডান পায়ে। কাজেই ম্যাচে ডান পায়ের ব্যবহারটা তাকে সাবধানে করতে হবে। তবে আমি মনে করি সে টোস্টাওয়ের মতোই খেলে। গতি, মুভমেন্টের মাধ্যমে সে তার সতীর্থদের এক সুতোয় বেঁধে ফেলতে পারে। ব্রাজিলের এই দলটি তার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বলতে পারেন, সে দলের ৫০ শতাংশ।দাদা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কোচ তিতেকেও। সব মিলে তিতের অধীনে নেইমার-জেসুসরা রাশিয়ায় দেশবাসীকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন বলেই আশাবাদী দাদা। নেইমারদের ‘হেক্সা’ মিশন কি তাহলে সফলই হবে? ৪ বছর আগের নিজেদের ঘরের মাটির ব্যর্থতা মুছে দিয়ে নেইমাররা দেশবাসীকে উপহার দেবেন ষষ্ঠ শিরোপা?

সাইফুল//এসএমএইচ//৩১শে মে, ২০১৮ ইং ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …