ব্রিটিশ নাগরিক পরিচয়ে লন্ডনে কম্পানি খোলেন তারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বহাল থাকা-না থাকা নিয়ে বিতর্ক চলার মধ্যে এবার প্রকাশ পেল চাঞ্চল্যকর আরেক তথ্য। ব্রিটিশ নাগরিক পরিচয়েই তারেক রহমান ২০১৫ সালে ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস নামে সে দেশে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির নিবন্ধন নিয়েছেন।

ব্রিটেন সরকারের কম্পানিস হাউসে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণীতে তিনি উপাত্ত দেন : বসবাসস্থল-ইংল্যান্ড, জন্ম তারিখ ২০-১১-১৯৬৭, জাতীয়তা-ব্রিটিশ, পেশা-পরিচালক। তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমানও কম্পানির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে রয়েছেন। companycheck.co.uk সাইটেও হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্ট কম্পানির পরিচালক হিসেবে তারেক রহমানের পরিচয় ব্রিটিশ নাগরিক পাওয়া যায়। অবশ্য তারেক রহমান পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের তথ্য সংশোধন করিয়ে নিয়েছেন। কম্পানিস হাউসে পরের বছর ৩০ জুন জমা দেওয়া ‘কনফারমেশন স্টেটমেন্ট’-এ তারেক রহমান নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

কম্পানির নথি অনুসারে ১০০ শেয়ারের ৫০ শতাংশ হচ্ছে তারেক রহমানের এবং বাকি ৫০ শতাংশ হচ্ছে তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানের। কম্পানির নিবন্ধন নম্বর ০৯৬৬৫৭৫০। নিবন্ধন তারিখ ১ জুলাই, ২০১৫। কম্পানিটি ‘চ্যারিটি ইন করপোরেট’ হিসেবে ছোট ব্যবসা হিসেবে নিবন্ধিত।

কম্পানিতে ব্যবহৃত ঠিকানা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবনের বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা। তবে তারেক রহমান কম্পানির ঠিক কোন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সেই সম্পর্কে তিনি তেমন কিছু জানেন না বলে জানান।

২০১৫ সালে কম্পানির নিবন্ধন গ্রহণের সময় তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী দুজনের ঠিকানাই ‘৩ কটসওয়ার্ল্ভ্র ক্লোজ, কিংসটন আপন টেমস, ইংল্যান্ড, কেটি২ ৭জেএন’ উল্লেখ করা হয়। এই ঠিকানায় তারেক রহমান বর্তমানে সস্ত্রীক বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। তবে ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর ঠিকানা পরিবর্তন করেন তারেক রহমান। পরিবর্তিত ঠিকানা : স্যুট ওয়ান ২, হাইডনস রোড, লন্ডন, এসডাব্লিউ১৯ ১এইচএল। নিয়ম অনুসারে ২০১৭ সালের ৩০ জুনও তারেক রহমান আরেক দফা কনফারমেশন স্টেটমেন্ট’ জমা দেন। তবে কোনো তথ্য যোজন-বিয়োজন করা হয়নি বলে জানাচ্ছে কম্পানিস হাউস।

‘প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানি’ হিসেবে নিবন্ধিত হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড এখন সক্রিয় বলে জানাচ্ছে ব্রিটেন সরকারের সাইটটি। ব্যবসার ধরন বলা হচ্ছে—‘পাবলিক রিলেশন ও কমিউনিকেশনস অ্যাকটিভিটিস’। ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত হিসাবের তথ্য জমা দেওয়া আছে; পরবর্তী হিসাব দিতে হবে এ বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে।

সাইফুল//এসএমএইচ//৫ই মে, ২০১৮ ইং ২২শে বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …