ফাইল ছবি

ভাড়াটিয়া নয়, বাড়িওয়ালা খুঁজছে ভাড়াটিয়া!

নাজমুল রাতুলঃ

ভাড়াটিয়া অভাবে খালি পড়ে আছে বন্দর নগরীর অনেক ছোটবড় অনেক ঘর। ঝুলছে ঘর ভাড়ার সাইনবোর্ড। জিজ্ঞেস করছে কেউ ভাড়াটিয়া মিলছে না এমন চিন্তা রীতিমতো মাথায় ঘোরপাক খাচ্ছে বাড়িওয়ালাদের। কারণ, ভাড়া হোক আর না হোক আয় কর তো মাফ নেই, রয়েছে পানি ও গ্যাস বিল। এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে নিজেই ভাড়াটিয়া খুঁজছেন অনেক বাড়িওয়ালা।

জানা গেছে, নগরীর আবাসিক এলাকার চেয়ে মফস্বল এলাকাগুলোতে ভাড়াটিয়ার টেনশনে রয়েছে বাড়িওয়ালা। লকডাউনের কবলে পড়ে আজ বাড়িওয়ালাদের এই করুন পরিস্থিতি। এদের মধ্যে অনেক বাড়িওয়ালার জীবিকার উৎস ঘর ভাড়া। মোটামুটিভাবে তারাই বেশি বিদ্ধস্ত। আবার কম ভাড়া বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন অনেক বাড়িওয়ালা।

তথ্যমতে, করোনার পর চাকরি হারিয়েছেন মধ্যবিত্তরা। ভাড়া দিতে না পারায় ভাড়াটিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে ঘটেছে এমন ঘটনাও। কিন্তু এর সমাধান কোথায় এমন প্রশ্ন সকলের লকডাাউনে নিম্ন আয়ের মানুষ নগর ছাড়লেও কোরবানি ঈদ উপলক্ষে শহর ছেড়েছেন মধ্যবিত্তরা। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি বলছে, সাধারণ ছুটির ৬৬ দিনে ছাঁটাই, প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কর্মহীনতা এসব কারণে দেশে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

বন্দরটিলা এলাকার আলী ভবনের ভাড়াটিয়া আরাফাত হোসেন বলেন, ‘অন্য সময়ে ভাড়া দেরিতে দিলেও কিছু বলেনি; তবে এবার বাড়ির কেয়ারটেকার নোটিশ দিয়ে গেছেন ১ তারিখের মধ্যে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। কেয়ারটেকার পরদিন এসে জানান, বাড়িভাড়া আদায় করতে না পারলে তার বেতন বন্ধ।’

অপরদিকে, বন্দরটিলার হক ভিলার বাড়িওয়ালা নাজমুল বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আমার একটা ফ্ল্যাট খালি হয়েছে। সেটা আর ভাড়াই দিতে পারিনি। আমাদের মতো পরিবারও শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত হচ্ছে। এখন যা পান তাতেই ভাড়া দেয়ার পরিকল্পনা করছেন কারণ বাড়িটি বানাতে তাকে ঋণ নিতে হয়েছে। সেটা শোধ করার পাশাপাশি তার নিজের সংসারও চলে বাড়িভাড়া দিয়ে।

২০ থেকে ৪০ শতাংশ ভাড়া কমিয়েও ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন না বাড়িওয়ালারা। চট্টগ্রাম মহানগরীর কাঠঘর,ষ্টীল মিল, বন্দরটিলা এলাকাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।এসব এলাকায় শত শত ভবনে ঝুলছে টু-লেট।

নগরীর আলী শাহ পাড়া আবাসিক এলাকার একটি আবাসিক ভবনের মালিক জুবায়ের আলম জানান, তার ভবনে দুটি ফ্ল‌্যাট দুই মাস ধরে খালি পড়ে আছে। আরো একটি ফ্ল‌্যাটের ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়বেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন নতুন করে ভাড়াটিয়া আসছেন। আগে যে ফ্ল‌্যাটের ভাড়া ১৭ হাজার টাকা ছিলো, সেই বাসা এখন ১৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। তার পরও ভাড়াটিয়া মিলছে না।

নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকার প্রায় সব আবাসিক ভবনের সামনেই ঝুলছে টু-লেট। সেখানকার একটি আবাসিক ভবনের মালিক হাজী হামিদুর বলেন, ‘একের পর এক বাসা ছাড়ার কথা জানাচ্ছে ভাড়াটিয়ারা। ভাড়া অনেক কমিয়ে দিয়েও নতুন ভাড়াটিয়া পাওয়া যাচ্ছে না।’

কনজ্যুমার অ‌্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন বিডিজার্নালকে জানান, করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। তাদের আর শহরে থাকার সামর্থ নেই। আবার অনেকের বেতন বকেয়া পড়েছে। অনেকের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অনেকে আগের ছেড়ে কম ভাড়ায় ছোট বাসায় উঠছেন। এমন অবস্থায় ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয়ের ওপর প্রভাব পড়ছে। একদিকে ভাড়াটিয়া না পেয়ে বাড়িওয়ালাদের আয় বন্ধ কমে গেছে, অপরদিকে উপার্জনের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাড়াটিয়ারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

বিডিজা৩৬৫/এনআর

Check Also

বিপদ জয় করে বিজয়ের দেশে ফিরে আসা

জার্নাল ডেস্ক : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’  সাক্ষাৎ বিপদ …

‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি’

জার্নাল ডেস্ক ‘টাকা দিয়ে বিপদ কিনেছি ‘।    এভাবেই নিজের হতাশার কথা  জানিয়েছেন বসনিয়ায় আটকে …